কেনিয়া সহ আন্যান্য আফ্রিকার দেশগুলি প্রাকৃতিক এবং সাংস্কৃতিক সম্পদে ভরপুর। এখানকার ঐতিহাসিক ঐতিয্য অতুলনিয়। এই সবের টানেই প্রতি বছর ছুটে আসে প্রচুর পর্যটক। তবে কিছু পুরুষ পর্যটক এখানে প্রতিবছর ছুটে আসে শুধু সেক্সের টানে, সেখানকার নারীদের সাথে এক রাত কাটানোর লালসাতে।
তবে মুলত ইউরোপ ও আমেরিকার ফর্সা মহিলারা অনেকেই আফ্রিকার দেশে ঘুরতে আসে শুধু মাত্র পুরুষদের সাথী হওয়ার জন্য। এরা এমযুঙ্গু নামে পরিচিত। তারা সমস্ত সামাজিক লজ্জা ছুড়ে ফেলে শুধু মাত্র নিজিদের মজার কারনে পুরুষদের ভোগ্য হিসাবে আসে।
নিজেদের একঘেয়ে জীবন থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য অথবা বিবাহ বিচ্ছেদের পর যৌনতার মজা নিতেই এই সব মহিলারা দেশের বাইরে ছুটে আসে এতদূর।
একদিকে যখন ওয়েস্টইন্ডিজ সফরের জন্য ভারতীয় দলের ঘোষণা হয়ে গেলো। তখন আরেকদিকে ভারতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক আর উইকেট কিপার মহেন্দ্র সিং ধোনি ইন্ডিয়ান আর্মির সাথে ট্রেনিং করার ছাড়পত্র পেয়ে গেলেন। আর্মি সুত্র অনুযায়ী, এমএস ধোনি ভারতীয় সেনার সাথে ট্রেনিং করার ছাড়পত্র হাসিল করে ফেলেছেন। সেনা প্রধান বিপিন রাওয়াত মহেন্দ্র সিং ধোনিকে এই ছাড়পত্র দিয়েছেন। ধোনি কয়েকদিনের মধ্যে প্যারাসুট রেজিমেন্টের সাথে ট্রেনিং করতে পারবেন। শোনা যাচ্ছে যে, ধোনির ট্রেনিং জম্মু কাশ্মীরে হবে। যদিও সেনা ধোনিকে অ্যাক্টিভ অপারেশনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেয়নি।
এমনকি মিডিয়া রিপোর্টে এটাও শোনা যাচ্ছে যে, ধোনি শিয়াচেন বর্ডারে যেতে চান। এবার আর্মির সুত্র থেকে খবর আসছে যে, ধোনিকে ট্রেনিং এর জন্য জম্মু কাশ্মীরে পাঠানো হবে। আর এর জন্য এটাও মেনে নেওয়া হচ্ছে যে, ধোনির শিয়াচেন যাওয়ার স্বপ্ন পূরণ হতে পারে।
এই দেশের যে কোন ছেলে মেয়ে যদি ঠিক করে পড়াশোনা করে শুধুমাত্র ৬৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে স্নাতক হতে পারে, তাহলেই সে ভারতের অন্যতম প্রধান মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র ISRO-তে চাকরীর সুযোগ পেতে পারে। কিন্ত তারপর? ISRO-তে কাজ করতে গেলে কি নিয়ে পড়াশোনা করতে হয়? কিভাবে প্রবেশ করা যায় ISRO-তে?
ইসরো প্রধানত কারিগরি বিভাগের ছাত্রছাত্রীদেরকেই বেশি সুযোগ দেয়। সিভিল, মেকানিক্যাল, ইলেক্ট্রিক্যাল ও ইলেক্ট্রনিক্স নিয়ে ৬৫ শতাংশ নম্বর পেয়ে B.E / B.Tech ডিগ্রি পেলেই ৩৫ বছর বয়সের চেয়ে কম বয়সী যে কেউ ইসরোতে চাকরীর জন্য আবেদন করতে পারে। শুধু তাই নয়, মাঝে মাঝে স্থাপত্য শাখার ছাত্রছাত্রীদের জন্যও সুযোগ আসে।
এই প্রতিষ্ঠানে নিযুক্ত হতে গেলে একটি সর্বভারতীয় লিখিত প্রবেশিকা পরীক্ষাতেও উত্তীর্ণ হতে হবে। সেখানে সফল প্রার্থীদের তারপর একটি ইন্টার্ভিউ-এর জন্য ডাকা হবে। সেখানেও সফল হতে পারলে তবে ইসরো-তে বৈজ্ঞানিক পদে নিযুক্ত হতে পারবে।
এখন তো সব জায়গাতেই অনলাইন আবেদন করতে হয়। ইসরো-র ওয়েবসাইট-এই এইসব নিয়গের বিজ্ঞপ্তি বেরোয় আর সেখানেই আবেদন করতে হয়। ওয়েবসাইট-টি হল https://www.isro.gov.in/career। দেশের মধ্যে মাত্র বারোটি জায়গা থেকেই এই প্রবেশিকা পরীক্ষাটি দেওয়া যায়। সেগুলি হল- আমেদাবাদ, ব্যাঙ্গালুরু, ভোপাল, চণ্ডীগড়, চেন্নাই, গুয়াহাটি, হায়দ্রাবাদ, কলকাতা, লখনৌ, মুম্বই, দিল্লী এবং তিরুবনন্তপুরম। এটি শুধু উচ্চমানের কাজ নয় ওখানে বেতন ও বেশ ভাল কিন্তু; শুরুতেই প্রতি মাসে ৫৬১০০ টাকা।
ক্রায়ো – ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের আবিষ্কার ও তার মাধ্যমে জৈব অণুর গঠন কাঠামো দেখিয়ে ২০১৭ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন তিন বিজ্ঞনীঃ রিচার্ড হেন্ডারসন, জ্যাক দুবোসে ও জোয়াকিম ফ্রাঙ্ক। জিকা, ইবোলা, ডেঙ্গু, এইডস ইত্যাদি ভাইরাসের হাই-রেজোলিউশন ছবি তুলতে সক্ষম এই ক্রায়ো ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ.
ক্রায়ো-ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ বা ক্রায়ো-ইএম জৈব অণুদের খুব তাড়াতাড়ি -১৫০ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার নিচে ঠান্ডা করে স্পষ্ট ত্রিমাত্রিক বা 3D ছবি তুলতে পারে। ইবোলা, জিকা ইত্যাদি ভাইরাসের ও ক্যান্সারের ছবি তুলে ক্রায়ো-ইএম চিকিৎসাশাস্ত্রে ও গবেষণার জগতে যুগান্তর এনেছে।
ক্রায়ো-ইএম-এর এই ”এলেন, দেখলেন ও জয় করলেন” অবস্থা একদিনে তৈরী হয় নি। ১৯৬০ এর দশকের শেষের দিকে স্কটিশ মলিকুলার বায়োলজিস্ট রিচার্ড হেন্ডারসন কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এক্স-রে ক্রিস্টালোগ্রাফি দিয়ে প্রোটিনের কাঠামো বের করার উপর পিএইচডি করেন। এরপর তিনি কেমব্রিজের মেডিকেল রিসার্চ কাউন্সিল’স ল্যাবরেটরি অফ মলিকুলার বায়োলজিতে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের সাহায্যে ব্যাক্টেরিয়োরোডোপ্সিনের গঠন বোঝার চেষ্টা করেন।৫ কিন্তু মুশকিল হলো প্রতিবারেই ব্যাক্টেরিয়োরোডোপ্সিন ইলেকট্রন মাইক্রোস্কোপ যন্ত্রে ব্যবহৃত উচ্চশক্তির ইলেক্ট্রনের স্রোত ও অতি-শূন্যতায় (vacuum) ভেঙে যাচ্ছিল। তাই হেন্ডারসন গ্লুকোজ দ্রবণের আস্তরণ বা কোটিং দিয়ে ব্যাক্টেরিয়োরোডোপ্সিন কে সুরক্ষিত করে ইলেক্ট্রন মাইক্রোস্কোপের মধ্যে ব্যবহার করলেন। একই সঙ্গে তিনি ইলেক্ট্রন স্রোতের শক্তিও কমিয়ে দিলেন। কিন্তু এত সবের পরও হেন্ডারসন খুব একটা স্পষ্ট ছবি পেলেন না। তবে এই কোটিং পদ্ধতি তাঁর মনে ধরলো। তখন ১৯৭৫ সাল। পরের কয়েক বছরের মধ্যে হেন্ডারসন উদ্ভাবন করলেন ‘কুলিং টেকনোলজি’। ব্যাক্টেরিয়োরোডোপ্সিনকে তরল নাইট্রোজেনের মধ্যে জমিয়ে ১৯৯০ সালে সূচনা করলেন ক্রায়ো-ইএম- এর। ছবির স্পষ্টতাও বেড়ে গেল! কিন্তু তা তো শুধুমাত্র একটি প্রোটিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। শুরু হলো আরো গভীর গবেষণা।
১৯৮২ সালে সুইস বিজ্ঞনী জ্যাক দুবোসে ইউনিভার্সিটি অফ লুসানে আবিষ্কার করলেন ‘ভিট্রিফিকেশন’ পদ্ধতি। খুব তাড়াতাড়ি জলকে তরল নাইট্রোজেনে (−১৯৫.৭৯ °C) ঠান্ডা করে কঠিনে পরিণত করাই হলো ‘ভিট্রিফিকেশন’। প্রোটিনের জলীয় দ্রবণ ‘ভিট্রিফিকেশন’ এর সাহায্যে কঠিন পরিণত হলো। আগেই বলেছি, এই ভিট্রিফায়েড নমুনা প্রোটিনের মধ্যে থাকা জমা জলের অণুই ক্রায়ো-ইএমে ব্যবহৃত প্রোটিনের সুরক্ষার বর্ম। এই সুরক্ষাই ছিল হেন্ডারসনের কাছে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’! আশির দশকের মাঝামাঝি জার্মান বিজ্ঞানী জোয়াকিম ফ্রাঙ্ক তৈরী করলেন এক উন্নততর অ্যালগরিদম যা অনেক দ্বিমাত্রিক বা 2D ছবির প্রক্রিয়াকরণ (image processing) করে এক স্পষ্ট ত্রিমাত্রিক বা 3D ছবি বের করে আনে। প্রথমে প্রাপ্ত অসংখ্য দ্বিমাত্রিক ছবিগুলিকে সিগন্যাল-টু-নয়েস রেসিও বাড়িয়ে শ্রেণীকরণ (classify) করা হয়। ছবিগুলির প্রজেকশন অনুযায়ী তুলনা করে (চিত্র ৪) একই রকম ছবিগুলিকে শ্রেণীবদ্ধ করার জন্য আধুনিক অ্যালগোরিদম এর সাহায্য নেওয়া হয়। এরপর শ্রেণীবদ্ধ 2D ছবিগুলিকে বিভিন্ন কোণে বিন্যস্ত করে উচ্চ স্পষ্টতা সম্পন্ন ত্রিমাত্রিক বা 3D মডেল পাওয়া যায়।
খাবার সব প্রাণীদের জন্যই প্রয়োজনীয়। যেমন ধরো, তোমরা দূর্গাপুজোর সময় এগরোলের দোকান খুঁজে বেড়াও, খুঁজে বেড়াও কোথায় সবথেকে ভালো ফুচকা পাওয়া যায়, বা কুকুর-বিড়ালরা বাড়ি বাড়ি কাঁটাটা-কুটোটা খুঁজে বেড়ায়,একেই বিজ্ঞানীরা বলেন ফোরেজিং। মানুষ, কুকুর, বিড়ালরা এদের একলা-একলাই জীবন কাটে, বাঁচার জন্য সাধারণত এদেরকে কারোর ওপর নির্ভর করতে হয়না। তাই এইসমস্ত প্রাণীদের বিজ্ঞানীরা বলেন সলিটারী বা একান্তবাসী জীব। আবার, পিঁপড়ে-মৌমাছিরা একা একা কখনো বাঁচতে পারে না , একটা মৌমাছির চাকের বাসিন্দারা একে অন্যের ওপর নির্ভরশীল। তাই এদেরকে বলা হয় সোশ্যাল বা সামাজিক জীব। তোমরা হয়ত জানো যে একটা মৌমাছির চাকে মূলত তিন ধরণের মৌমাছি থাকে – রানী, পুরষ আর কর্মী মৌমাছি। রানী মৌমাছি আর পুরুষ মৌমাছির একমাত্র কাজ হলো বংশ বিস্তার করা। খাবার জোগাড়, ডিম-বাচ্চাদের লালন-পালন, মৌচাককে শত্রুদের থেকে রক্ষা করা, রানী-পুরুষ মৌমাছিদের পরিস্কার রাখা, এই সবকিছুরই দায়িত্ব হলো কর্মী মৌমাছিদের। স্বাভাবিক ভাবেই একটা কর্মী মৌমাছির পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়, তাই এক এক দল কর্মী-মৌমাছি তাদের কাজ ভাগ করে নেয়। আমি আজকে যাদের কথা বলব তাদের কাজ হল খাবার খোঁজা। বৈজ্ঞানিক পরিভাষায় এদের বলে ফোরেজার বা জোগাড়ে মৌমাছি।
খাবার খোঁজার জন্য প্রথমে অল্প কিছু মৌমাছি চারিদিকে উড়ে যায়। এবার ধরা যাক, মৌমাছি এমন একটা পেল যাতে অনেক পরাগরেণু আছে। কিন্তু শুধু নিজে জানলেই তো হবে না, অন্যদেরকেও জানাতে হবে। তাই, এই মৌমাছিটা চাকে ফিরে যায়, আর গিয়ে একটা অদ্ভুত নাচ নাচে, যাকে বলে Waggle Dance। এই নাচের থেকে অন্যান্য মৌমাছিরা জেনে যায় একদম ঠিক কোথায় সেই ফুলটা খুঁজে পাওয়া যাবে। কার্ল ফন ফ্রিশ নামে এক অস্ট্রিয়ান বিজ্ঞানী গত শতকের চল্লিশের দশকে এটা আবিষ্কার করেন এবং এই ১৯৭৩ সালে নোবেল পুরস্কার পান। কিন্তু ফুলের অবস্থান বোঝানো তো সহজ ব্যাপার নয় মোটেই। চাক থেকে ফুলের অবস্থান বোঝানোর জন্য শুধু দূরত্ব বোঝালেই তো হবে না, চাকের কোন দিকে ফুলটা অবস্থিত, সেটাও তো জানা দরকার অর্থাৎ ফুলের অবস্থান একটা ভেক্টর রাশি। কিন্তু একটা নাচের মাধ্যমে মৌমাছি এই অবস্থান বোঝায় কি করে ?
আলো হলো এক ধরণের তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ। তরঙ্গের একটা চুম্বকীয় ভাগ থাকে আর একটা বৈদ্যুতিক ভাগ থাকে এবং দুটি ভেক্টর রাশি। সুতরাং তড়িৎচুম্বকীয় তরঙ্গ একটি ভেক্টর তরঙ্গ , যাকে বৈজ্ঞানিক ভাষায় বলে অনুপ্রস্থ তরঙ্গ বা transverse wave। যেহেতু এটা একটা ভেক্টর তরঙ্গ, তাই এর একটি দিকও থাকে, একে বলা হয় তরঙ্গটির Polarization ( সাধারণত বৈদ্যুতিক ভাগের দিককে polarization হিসেবে ধরা হয় )। সূর্যের আলো যখন বায়ুমণ্ডল ভেদ করে পৃথিবীতে প্রবেশ করে তখন বায়ুমণ্ডলের উপরিভাগের আয়নগুলির প্রভাবে polarized হয়ে যায় এবং এই polarization-এর দিক সূর্যের দিকে হয় ! মানুষের চোখ সেটা ধরতে পারে না কিন্তু মৌমাছির পুঞ্জক্ষিতে তা ধরা পড়ে এবং আমরা যেভাবে ধ্রুবতারাকে দেখে দিক ঠিক করতে পারি সেইরকম মৌমাছিরাও সূর্যকে কম্পাস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
ফুল খুঁজে পাওয়ার পর মৌমাছিটা চাকে ফিরে উপরের ছবির মত নাচ নাচে। পৃথিবীর অভিকর্ষ যেদিকে হয় ঠিক তার উল্টোদিককে ওরা সূর্যের দিক হিসেবে ধরে ; এইটা হলো ওদের দিকনির্ণয়ের মাপকাঠি। এরপর, মৌমাছিটি বাংলার ৪-এর মতো একটা পথে ঘুরে ঘুরে নাচতে থাকে আর মাঝের অংশটায় শরীরের পিছনের দিকটা নাড়াতে থাকে ( উপরের ছবির মতো , একেই বলে waggle dance )। আশে-পাশে যে সমস্ত মৌমাছিগুলো থাকে ওরা ওই মাঝের অংশতা লক্ষ্য করে। এই মাঝের অংশটা যেদিকে নির্দেশ করে ওটাই ফুলের দিক ! কিন্তু শুধু দিক বললেই তো হবে না, দূরত্বও তো জানাতে হবে। এটাও ওই নাচের মাধ্যমেই বুঝতে পারে ! মৌমাছিটি মাঝের অংশের নাচটা যত বেশিক্ষণ ধরে নাচে, ফুলটাও তত বেশি দূরে পাওয়া যায়। বিজ্ঞানীরা দেখিয়েছেন যে, এক সেকন্ড ধরে নাচলে ফুলটা মোটামুটি এক কিলোমিটার দূরে থাকে। মজার ব্যাপার হলো মৌমাছিদের দূরত্বের কোনো ধারণাই নেই, আছে শুধু সময়ের জ্ঞান।
ভ্যাপসা গরমে সুস্থ থাকার উপায়
বর্ষা এসেও আসছে না৷ অথচ ভ্যাপসা গরম, অস্বস্তি, চড়া রোদে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন প্রায় সকলেই৷ এই সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো জরুরি৷ তাই এই সময় খেয়াল রাখুন খাওয়া দাওয়ার৷ ডায়েটে রাখুন এমন সব খাবার যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে৷
এই সময় রোজ খান নারকেল, আনারস, লেবুর এই পানীয়৷ নারকেলের জলে থাকে প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা শরীর থেকে ক্ষতিকারক টক্সিন দূর করতে সাহায্য করে৷ অন্যদিকে, আনারস ও লেবুতে থাকে ভিটামিন সি৷ যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে যেকোনও সংক্রমণ দূরে রাখে৷
ইসরায়েলের ওয়েজম্যান ইন্সিটিউট অফ সায়েন্স(Weizmann Institute of Science)-এর এডা ইয়োনাথ ২০০৯ সালে রসায়নে নোবেল প্রাইজ পেয়েছিলেন। তাঁর গবেষণার বিষয় ছিল রাইবোসোমের গঠন ও কার্যকলাপ (রাইবোসোম হলো কোষের সেই অংশ যা জেনেটিক কোড পড়ে শরীরের সব গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য প্রোটিন তৈরী করে)। বর্তমানে তাঁর গবেষণার মূল বিষয় হল পরিবেশবান্ধব অ্যান্টিবায়োটিক তৈরি করা। বোস ইন্সিটিউট-এর ১০১তম প্রতিষ্ঠা দিবসে, ৭৯তম আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু স্মৃতি বক্তৃতায় অংশগ্রহণ করতে বিজ্ঞানী এডা ইয়োনাথ কলকাতায় এসেছিলেন।
শীতে মেরুভাল্লুকরা ঘন্টার পর ঘন্টা খালি ঘুমোয়। শীতঘুমে শরীরের তাপমাত্রা বেশ কয়েক ডিগ্রী কমে যায়। কিন্তু মেরুভাল্লুকদের ক্ষেত্রে শরীরের তাপমাত্রা মাত্র ১/২ ডিগ্রী কমে। তাই ওটাকে শীতঘুম না বলে শুধু ঘুম বলাই ভালো। ভালুক যখন ঘুমোয় তখন শরীরের ভেতর কি পরিবর্তন হয়? দেখা গেছে, শরীরের রাইবোসোমগুলি তখন কোষপর্দার ভিতর একত্রিত অবস্থায় (packed) এবং সুসজ্জিত থাকে। ঐভাবে যে রাইবোসোম সুসজ্জিত থাকতে পারে, এইটাই তখন ভাবা যায়নি। রাইবোসোম এই অবস্থায় পুরো শীতকালটা টিঁকে থাকে। যখন বসন্ত আসে, ভালুকের ঘুম ভাঙ্গে। জেগে উঠে সব কাজকর্ম করার জন্য তার প্রয়োজন প্রোটীন। এই প্রোটীন বানানোর জন্য যথেষ্ট পরিমাণ রাইবোসোম তাদের কাছে মজুত থাকে। রাইবোসোমদের এই একত্রিত অবস্থাই সক্রিয় রাইবোসোমকে ভেঙ্গে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এরকম ভাবনা অনুসরণ করেই রাইবোসোমের গঠনের হদিশ পাওয়া যায়। এটা বোঝা গেলো যে প্রকৃতির নিয়মে চাপ প্রয়োগ করলে রাইবোসোম সুশৃঙ্খল(orderly) অবস্থায় থাকার চেষ্টা করে।
বলিউডের প্রতিভাশালী এবং সুন্দরী নায়িকাদের মধ্যে একজন হলেন বিদ্যা বালান। সাম্প্রতিক কালে অভিনয় জগত থেকে কিছু দিনের জন্য দূরে থাকলেও খুব শীঘ্রই রূপোলী পর্দার ছোট সামাজিক ছবি “নটখট” কে প্রডিউস করবেন তিনি। এই ছবিটি বাজারে শীঘ্রই আনার জন্য তিনি প্রডিউসার রনি স্ক্রেওভালার সাথে সম্পুর্ন সহযোগিতা করছেন।
“নটখট” ছবিটিতে পুরুষ শাসিত সমাজের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে যেখানে পুরুষদের দ্বারা সমাজের মহিলাদের উপর বিভিন্ন অত্যাচার করা হয় যেমন লিঙ্গ অসমতা, ধর্ষণ, ঘরোয়া নির্যাতন, যৌন নির্যাতন। স্ক্রেওভালা বলেন “স্ক্রিপ্ট দেখার সাথে সাথে তিনি এই ছবিটি বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন কারন এটি খুবই শিক্ষামুলক এবং সমাজের উদ্দেশ্যে কড়া বার্তা এই ছবির মাধ্যমে পৌঁছাবে”।
২১ দিন ধরে চলা নাটকের অবসান হল আজ। কর্ণাটকে আজ কংগ্রেস-জেডিএস এর সরকার ভেঙে গেলো। কর্ণাটকে এখন ভারতীয় জনতা পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠতা হাসিল করে নিয়েছে। আস্থা ভোটে যেখানে কংগ্রেস-জেডিএস জোট ৯৯ টি ভোট পেয়েছে। সেখানে ভারতীয় জনতা পার্টি ১০৫ টি ভোট পেয়েছে। কর্ণাটকে বিগত ২১ দিন ধরে চলা নাটকের অবসান হল আজ। বার বার নানারকম ছুতো দেখিয়ে আস্থা ভোট পিছিয়ে দেওয়ার পরেও শেষ রক্ষা হল না কুমারস্বামীর।
কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস জোট ১৪ মাস ১১৬ জন বিধায়ককে নিয়ে সরকার চালিয়েছে। ১ লা জুলাই কংগ্রেসের দুই বিধায়ক ইস্তফা দেওয়ার পর বিগত ২৩ দিনে রাজ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়। রাজ্যের মোট ১৫ জন বিধায়কের ইস্তফার পর ১৮ই জুলাই শক্তি প্রদর্শনের তারিখ নির্ণয় করা হয়। কিন্তু কংগ্রেস-জেডিএস জোট এর বারবার হাঙ্গামা করার কারণে আস্থা ভোট হয়েছিল না।
পাকিস্তানে হিন্দু মেয়েদের অপহরণ করে তাঁদের ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করার ঘটনা লাগাতার সামনে আসছে। এমনকি এই ইস্যু কিছুদিন আগে পাকিস্তানের ন্যাশানাল অ্যাসেম্বলিতেও উঠেছিল। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান এখন আমেরিকার সফরে আছেন। আর ঠিক এই সময়েই আমেরিকার ১০ জন সাংসদ সরাসরি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিঠি লিখে ইমরান খানের সাথে হিন্দু মেয়েদের জোর করে ধর্মপরিবর্তন করার মামলা নিয়ে কথা বলার আবেদন জানিয়েছেন। আর এরই মধ্যে পাকিস্তানের সিন্ধু প্রান্তে এক মৌলবি হিন্দু মেয়েদের ধর্মান্তকরন করার কথা স্বীকার করে এই ব্যাপারে বড় বয়ান দিয়েছেন।
দৈনিক ভাস্করের একটি রিপোর্ট অনুযায়ী, মৌলবি আবদুল খালিক মিথা স্বীকার করেছেন যে, সে হিন্দু মেয়েদের মুসলিম বানানোর অভিযান চালাচ্ছে। আর এই কাজ সে অনেক আদে থেকেই করছে। এবং আগামী দিনেও সে এই কাজ করে যাবে। রিপোর্ট অনুযায়ী, মিথা এটাও দাবি করেছে যে, তাঁর ৯ সন্তানও এই মিশনে কাজ করছে, আর ওনার গোটা বংশ আগে থেকেই এই কাজ করে আসছে।
বলিউডের নায়িকারা আজকাল সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রায়ই কোনো না কোনো কারনে ট্রোলের শিকার হন এবং নতুন চেহারা অনন্যা পাণ্ডেও তার ব্যাতিক্রম নয়। অনন্যা পান্ডে তার বলিউড সফর শুরু করেন পুনিত মালহত্রা দ্বারা পরিচালিত “স্তুডেন্ত অব দ্য ইয়ার ২” ছবিটি দিয়ে। সে তার ছবি শুরু করার অনেক আগে থেকেই ট্রোলের শিকার হয়ে যায়। সম্প্রতি দেওয়া একটি সাক্ষাতকারে তিনি বলেন যে তার সবথেকে ভাল বন্ধু সুহানা খান এবং শানায়া কাপুরের কাছে তিনি সবসময় কৃতজ্ঞ থাকবেন। যখনি কেউ খারাপ সময় দিয়ে গেছেন তারা একজন আরেকজনের পাশে সব সময় দাঁড়িয়েছেন। বলিউডে তারা তিনজন একসাথে চার্লির পরি নামে পরিচিত। অনন্যাকে আবার দেখা যাবে “পতি, পাত্নি আউর ওয়” ছবিতে যেখানে তার সাথে অভিনয় করেছেন কার্তিক আর্যা ন এবং ভুমি পেডনেকার।
২০০৯ সালে নিজের পেন্ট হাউসে ক্রিশ্চিয়ানো ধর্ষণ করেছিলেন বলে অভিযোগ আনেন মার্কিন মহিলা মডেল ক্যাথরিন মায়োর্গা। এরপর ২০১০ সালে পুরো বিষয়টা ধামাচাপা দিতে আদালতের বাইরে নাকি দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা হয়। মহিলার মুখ বন্ধ রাখতে রোনাল্ডো ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার ডলার ক্ষতিপূরণ দেন বলেও অভিযোগ। তোলপাড় করা ধর্ষণের সেই অভিযোগ থেকেই এবার অব্যাহতি পেলেন পর্তুগিজ মহাতারকা। প্রমাণের অভাবে রোনাল্ডোকে ছাড় দিয়েছে আদালত। বছর দশেক আগের ঘটনার উল্লেখ টেনে এনে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে অভিযোগ করে আলাদতের দ্বারস্থ হন ক্যাথরিন। অভিযোগকারিনীর সেই মামলাতেই এবার ক্রিশ্চিয়ানোকে মুক্তি দিল আলাদত। আলাদতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগকারিনী রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে যথেষ্ট প্রমাণ দিতে পারেননি । পুনরায় তদন্তের পর রোনাল্ডোর বিরুদ্ধে ওঠা ধর্ষণ ও মুখ বন্ধ রাখার অভিযোগ নিয়ে কোনও শক্ত তথ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেকারণেই ধর্ষণ মামলা থেকে রেহাই পেলেন সিআর সেভেন।
শুরু থেকেই চেলসি ও বার্সেলোনার মধ্য হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শুরু। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে প্রথমার্ধের তিরিশ মিনিটের মধ্যে ম্যাচ জমে ওঠে। কিন্তু ৩৪ মিনিটের মাথায় নিজেদের বক্সে বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে মিস হিট করেন বার্সেলোনার অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার সার্জিও বুসকেটস। সেই বল পায়ে পেয়ে গোল করতে ভুল করেননি ইংল্যান্ডের ট্যামি আব্রাহাম। ম্যাচে সমতা ফেরাতে দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই আক্রমণে ঝাঁঝ বাড়ায় স্প্য়ানিশ ক্লাব। সেই সময় বেশ কয়েকটি নিশ্চিত সুযোগ মিস করে লিওনেল মেসির দল। উল্টে খেলা শেষ হওয়ার ১০ মিনিটেরও কম সময় বাকি থাকতে ব্রিটিশ মিডফিল্ডার রস বার্কলে গোল করে চেলসির হয়ে ব্যবধান বাড়ান। ইনজুরি টাইমে ক্রোয়েশিয়ার ইভান র্যাকেটিক গোল করে বার্সেলোনার হয়ে ব্যবধান কমান। অভিষেক ম্যাচে সেভাবে নজর কাড়তে পারেননি ফ্রান্সের আন্তোনিও গ্রিজম্যান।
টোকিও অলিম্পিক শুরু হতে বাকি পাক্কা এক বছর। তাই প্রস্তুতিতে কোনও খামতি রাখতে চাইছে না ভারতের মহিলা হকি। অলিম্পিকের জন্য শরীর ফিট রাখতে মহিলা হকি খেলোয়াড়দের মিষ্টি ও ঝাল খাবার খাওয়ার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে বলে খবর।
গত মাসে জাপানের হিরোশিমাতে ইফআইএইচ সিরিজ জেতার পর বাড়তি আত্মবিশ্বাস পেয়েছেন ভারতের মহিলা হকি দলের খেলোয়াড়েরা। বাড়তি উৎসাহ নিয়ে এখন তাঁরা টোকিও অলিম্পিকের জন্য অনুশীলন শুরু করেছেন। নভেম্বরে অলিম্পিকের চূড়ান্ত যোগ্যতা অর্জন পর্বে অংশ নেবে ভারতের মহিলা হকি দল। এই পরিস্থিতিতে শরীরকে ফিট রাখতে খেলোয়াড়দের খাদ্যাভাস পরিবর্তন করার পরামর্শ দিয়েছেন ভারতের মহিলা হকি দলের নেদারল্যান্ডস-জাত কোচ জোরেড মারিজনে। দলের অধিনায়ক রানী রামপাল জানিয়েছেন, কোচের কথামতো মিষ্টি, চকোলেট, তৈলাক্ত ও ঝাল খাবার খাওয়া ছেড়ে দিয়েছেন তিনি ও তাঁর সতীর্থরা। উল্লেখ্য ১৯৮০-র মস্কো অলিম্পিকে সেরা পারফরম্যান্স করে ভারতের মহিলা হকি দল। চতুর্থ হয় তারা। তারপর ৩৬ বছর পর ২০১৬-র রিও অলিম্পিকে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ভারতের মহিলা হকি দল। সেবার ১২তম স্থান পায় উইমেন ইন ব্লু।
১. আফ্রিকার উত্তর তানজানিয়া এবং কেনিয়ার কিছু অংশে বসবাস করে মাসাই নামক নিলোটিক প্রজাতির কিছু আদিবাসী। আফ্রিকার গ্রেট লেকের পাশে বিভিন্ন গেম পার্কের কাছাকাছি গড়ে ওঠা বসতির জন্য এবং এরই সাথে তাদের বিচিত্র বেশভূষার, আচরনের জন্য সারা পৃথিবীতে জনপ্রিয় এই প্রজাতি। তাদের মাতৃভাষা হোল “মা” নামক একটি ভাষা। যদিও তানজানিয়া এবং কেনিয়ার সরকার তাদের শিক্ষা দেওয়ার জন্য অনেক রকমের পদক্ষেপ গ্রহন করেছে কিন্তু তারা তাদির নোমাডিক জিবনযাপন ছাড়তে নারাজ।
মাসাইরা পুরুষতান্ত্রিক সমাজ। বড়দের তৈরি নিয়ম কানুন তারা মেনে চলে। শাস্তি হিসাবে ফাঁসির প্রচলন নেই তবে পশু বিনিময়ের মাধ্যমে মিটমাট করা হয়। তারা একটি ঈশ্বরকে পুজা করে যার নাম এঙ্গই। এরা খুব যোদ্ধা, হাতিয়ার হিসাবে বর্শা ব্যাবহার করে এবং শিকার করতে ভালবাসে। পশুপালন হোল আসল জীবিকা। পশুর সংখ্যা এবং বাচ্চার সংখ্যা নির্ধারন করে কে কত ধনী। তাদের বিচিত্র একটি সংস্কার হোল তারা শব দাহ করে না বা কবরও দেয় না বরং শিকার হিসাবে ফেলে রাখে। যদি কোন পশু সেই শব না খায় তাহলে অশুভ মানা হয়। তাদের তৈরি জটিল অলঙ্কার খুব বিখ্যাত এবং সেটা তারা পর্যটকদের কাছে বিক্রি করে। তাদের গ্রামে ঘুরতে গেলে তারা নাচ, গান দিয়ে স্বাগত জানায় তারপর তাদের ক্যাম্পে নিয়ে যায়। তাদের ক্যাম্প মুলত মাটির কুঁড়েঘর এবং চারদিকে কাঁটা গাছের বেড়া দেওয়া যাতে হিংস্র পশু আক্রমন না করে। এখানেই তারা খাবার দাবার সঞ্চিত করে রাখে। বর্শার উপর ভর করে লাফিয়ে পুরুষরা পর্যটকদের মনোরঞ্জন করে, শুধু তাই না এই ভাবেই তারা মহিলা পার্টনারকে খুশি করে।তারা কিছু শুকনো পাতা আর গাছের ডাল ব্যাবহার করে আগুন জ্বালিয়ে ফেলতে পারে। তারা ছোট ছোট দল করে এক একটি ঘরে থাকে।
২. ওয়ার্ল্ড চাইল্ডহুড ফাউন্ডেসন হোল একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা যা বিশ্বব্যাপি শিশুদের সুরক্ষা এবং সামাজিক কল্যানের জন্য কাজ করে। এই সংস্থাটি দ্বারা ৪০ টি দেশের ৭০% শিশুদের উপর একটি সার্ভে করা হয়। তাতে কোন দেশের শিশুরা যৌন নির্যাতনের বেশি শিকার তার পরিমাপ করা হয় এবং সেই দেশকে একটি র্যা ঙ্কিং দেওয়া হয়। প্রত্যেকটি দেশ সেই র্যািঙ্কিং ভালো করার চেষ্টা করে, তারই সাথে শিশুদের অবস্থার উন্নতি করে তাদের লক্ষে পুঁছানোর চেষ্টা করে। এই সংস্থাটির লক্ষ হোল ২০৩০ সালের মধ্যে শিশু নির্যাতন শেষ করা।
এক রিপোর্ট অনুসারে প্রতি বছর ২০০ মিলিয়ন বাচ্চা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই সংস্থাটি সেই সমস্ত ডেটা একত্রিত করে জনগনকে জাগরূক করার মাধ্যমে নিজের লক্ষে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে যাতে পৃথিবীতে প্রত্যেক বাচ্চা বাঁচার জন্য সুস্থ পরিবেশ পায় এবং তাতে সুস্থ ভাবে বেড়ে ওঠে।
বাচ্চাদের উপর যৌন নির্যাতনের র্যা ঙ্কিং অনুযায়ী প্রথম হোল ইউকে, দ্বিতীয় স্যুইডেন, তৃতীয় কানাডা, চতুর্থ আস্ট্রেলিয়া। এইরকন ১০০ টি দেশের উপর সার্ভে করা হয়েছে যাতে বিকশিত, বিকাশশীল দেশ সবাই আছে।
৩. কাজের জায়গাতে লাঞ্চ ব্রেক কথাটি আমরা অনেকেই শুনেছি কিন্তু সেক্স ব্রেক আনতে চলেছ এবার স্যুইডেন। নিজের পার্টনারের সাথে সঙ্গম করে আসার জন্য কাজের ফাঁকেই এক ঘন্টার ব্রেক দেওয়া হবে। এতে পরিবারের সমস্যা মিটবে পাশাপাশি কাজে নতুন উদ্যম ফিরে পাবে কর্মিরা।
পের-এরিক মুস্কস, ৪২ বছরের কাউন্সেলর যে এই নিয়মটি চালু করার কথা তুলেছেন তিনি বলেন “ সেক্স হোল যে কোন সম্পর্কের জন্য দুর্লভ সম্পদ, এর মাধ্যমে পার্টনারের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখা যায়। সবার প্রতিদিনের জীবন ব্যাস্ততায়ে ভরা। বেশির ভাগের ঘরে বাচ্চাও আছে। তাই কাজের সময় ব্রেক দেওয়া মানে হোল প্রাইভেসি”
৪.একটি রিসার্চ অনুসারে আইরিশ মানুষরা সকালে ওঠার জন্য অ্যালার্ম লাগালেও যখন তা বেজে ওঠে তারা ঘুম থেকে না উঠে স্নুয বোতামটি দাবিয়ে রাখে যাতে আরো কিছুটা সময় বিছানাতে কাটাতে পারে। জুর্যওস ইন খোলাসা করে কি ভাবে আয়ারল্যান্ড দেশ ঘুমায়। তারা স্নুযিং মোডে বছরে প্রায় চার দিন ঘুমায়ে।
গবেষণা অনুযায়ী ৩৮ শতাংশ লোক ১৫ মিনিট বেশি ঘুমায় এবং ১২ শতাংশ লোক ৩০ মিনিট বেশি সময় অবধি বিছানাতে থাকে। এতে আরো জানা গেছে সারা দিনের কাজের চাপ, মানসিক পরিস্থিতি এইপ্রকার ঘুমের আনিয়মের কারন। ৫৬ শতাংশ লোক স্বীকার করেছে যে তাদের ঘুমে অসিবিধে হয়।
তবে অনেক সময় পার্টনারের বিরক্তিকর কিছু স্বভাবের জন্য ঘুমের আসুবিধে হয়। যেমন রাতে ঘুমের মধ্যে গায়ের চাদর নিজের দিকে টেনে নিলে প্রায়ই ঘুম ভেঙ্গে যায়।
৫. এইচআইভি হওয়ার প্রবনতা পুরোপুরি নির্ভর করে যৌন কার্যকলাপের প্রকৃতির উপর। সব ধরনের শারীরিক সম্পর্কে সমান রিস্ক থাকে না, কোনটিতে কম আবার কোনটিতে বেশি রিস্ক থাকে। শারীরিক সম্পর্কের সময় রিস্ক কম করা যায় সঠিক উপায়ে সেক্স করার মাধ্যমে, ওষুধ ব্যাবহার করে অথবা সঠিকভাবে কনডোম প্রয়োগের মাধ্যমে। কোন ধরনের সেক্সে কি ধরনের রিস্ক?
• আনাল সেক্সঃ এতে রিস্ক সবথেকে বেশি। এতে রেক্টামের আস্তরন খুব সরু হওয়াতে ভাইরাস খুব তারাতারি প্রবেশ করতে পারে। কনডোম ব্যাবহারের মাধ্যমে বা স্টাইল পরিবর্তন করে এই রিস্ক কম করা যেতে পারে।
• অরাল সেক্সঃ এই ধরনের সেক্সে যৌনাঙ্গের সাথে মুখের সংস্পর্শ হয়। এতে রিস্ক তুলনামুলকভাবে কম থাকে।
• হস্তমৈথুনঃ হাতে বা যৌনাঙ্গে যদি কাটা-ছেরা না থাকে তাহলে রিস্ক একদম কম। গ্লাভস ব্যাবহার করে আরো সুরক্ষিত হওয়া যায়।
• সেক্স খেলনাঃ এটি একদম সুরক্ষিত যতক্ষণ অন্য কেউ সেটি ব্যাবহার না করে।
• কিসিং বা চুমুঃ এতে কোন রিস্ক থাকে না।
আরও জেনে রাখা দরকার যে বাতাস বা জল, মশা, থুতু, অশ্রু, ঘাম, হাত মিলানো, একই টয়লেট ব্যাবহার করার মাধ্যমে এইচআইভি ছড়ায়ে না যতক্ষণ না সেটি শরীরের রক্তের সংস্পশে আসে।
৬. স্যান জনগোষ্ঠী বিশ্বের প্রাচীনতম আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মধ্যে এক। আফ্রিকা মহাদেশের দক্ষিণাংশে অবস্থিত দেশ - দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে, লেসোথো, মোজাম্বিক, সোয়াজিল্যান্ড, বতসোয়ানা, নামিবিয়া এবং অ্যাঙ্গোলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে বসবাসরত এই আদিবাসী জনগোষ্ঠী। বুশম্যান নামেই তাদের পরিচিতি থাকলেও অনেক সময় তাদেরকে স্যান জনগোষ্ঠী নামে ডাকা হয়ে থাকে। সনাতনী ধারায় তারা শিকার করে জীবনধারণ করে। তারা খোইসান ভাষাভাষী।
শুষ্ক চারণভূমিতে তাদের বেঁচে থাকার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো পরবর্তী প্রজন্মের কাছে গুরুত্বপূর্ণ জ্ঞান বিলিয়ে দিয়ে যাওয়া। এটি করা হয় পরিকল্পিত নাঁচ, ধর্মীয় আচার-আচরণ আর গল্পের মাধ্যমে। আর তাই, জীবন রক্ষাকারী জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের মাঝে বাহিত হয়। শিশুরা বড়দের দেখে শেখে। শেখা শুরু হয় অনেক ছোটবেলা থেকে। বিষাক্ত কীট-পতঙ্গ, মারাত্মক প্রাণীসহ ভয়ঙ্কর কাঁকড়া বিছে ইত্যাদি থেকে নিজেকে সামলানোর বিদ্যা বয়স্কদের কাছ থেকে শেখে যা তাদের প্রতিদিনের লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে হয় প্রতিনিয়ত।
বুশম্যানদের সমাজব্যবস্থায় শিশুদের কোন দায়বদ্ধতা নেই। অন্যান্য সকল বয়সীদের ন্যায় তারাও খেলাধূলা এবং অবসরকালীন বিনোদনে অভ্যস্ত। আলাপ-আলোচনা, স্ফূর্তি-মজা করা, গান করাসহ উদ্যাম নৃত্যে মেতে উঠে তারা। স্যান সমাজে মহিলারা উচ্চ মর্যাদার অধিকারী ও সকলের সম্মানীয়া। তারা নিজস্ব পরিবারের প্রধান হয়ে থাকেন। জলের সন্ধানে পরামর্শ, খাদ্য সংগ্রহসহ কখনোবা শিকারেও অংশ নিয়ে থাকেন।
৭. মুঘল সম্রাটরা ভারতে দির্ঘদিন রাজত্ব করে গেছে। তাদের সম্রাজ্যের স্থাপনা করেন সম্রাট বাবর। তারই পুত্র ছিলেন হুমায়ুন। পারিবারিক জীবনে সম্রাট হুমায়ুনের ৮ জন স্ত্রীর কথা জানা যায়। এদের মাঝে বেগা বেগম, হামিদা বানু আর মাহ চুচক বেগম বিশেষ গুরুত্ব বহন করতেন। বেগা বেগমকে তিনি সম্রাট বাবরের জীবদ্দশাতেই বিয়ে করেছিলেন। সম্রাটের বাংলা অভিযানের সময় তিনি সম্রাটের সাথেই ছিলেন এবং শের শাহের হাতে বন্দী হন। শের শাহ বেগা বেগমকে বিন্দুমাত্র অসম্মান না করে মুঘল দরবারে ফেরত পাঠিয়ে দেন।
হামিদা বানুকে সম্রাট হুমায়ুন অদ্ভুত এক পরিস্থিতিতে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন। তাকে সম্রাট যখন বিয়ে করেন, তখন হিন্দুস্তানের এক ইঞ্চি জমিও তার দখলে ছিল না। পথের ফকির এই সম্রাটকে বিয়ে করতে হামিদা বানুও তেমন আগ্রহী ছিলেন না, কিন্তু সম্রাটের ইচ্ছা বলে কথা, হোক না তিনি নির্বাসিত।সম্রাটের এই স্ত্রীর গর্ভেই জন্মগ্রহণ করেছিলেন আকবর। যিনি ভবিষ্যতে মুঘল মসনদে বসবেন এবং তার হাতেই পূর্ণতা পাবে মুঘল সালতানাত।
মাহ চুচক বেগমের সাথে সম্রাটের বিয়ে হয় ১৫৪৬ সালে। তার গর্ভে হুমায়ুনের দুই পুত্র ও চার কন্যার জন্ম হয়েছিল। সম্রাটের মৃত্যু ও আকবরের মসনদ আরোহণের পর তিনি কাবুলে বসবাস শুরু করেন।
হুমায়ুনের অন্যান্য স্ত্রীরা হচ্ছেন- গুণবার বেগম, চাঁদ বিবি, শাদ বিবি, গুলবর্গ বেগম বারলাস এবং মেওয়াজান। এদের মাঝে চাঁদ বিবি ও শাদ বিবি চৌসার যুদ্ধের পর থেকে নিখোঁজ ছিলেন। হয়তো যুদ্ধক্ষেত্রেই তারা মারা যান, নয়তো পালানোর সময় পানিতে ডুবে মারা যান। একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, সম্রাটের কোনো স্ত্রীই রাজনীতির সাথে তেমন সম্পৃক্ত ছিলেন না। সম্রাটের চরিত্রের সবচেয়ে বাজে দিকটি ছিল তার অলসতা আর দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা। এ দুটি বৈশিষ্টের কারণে তাকে জীবনে বহু কষ্ট করতে হয়েছে। তিনি কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে চাইতেন না। বাস্তবতা থেকে সবসময় পালিয়ে বেড়াতে চাইতেন।
এসব বৈশিষ্ট্য তাকে ঝামেলায় ফেলে দিতো। যেমন গুজরাট অভিযানের সময় যাত্রাপথে লম্বা বিরতি, আসকারি মির্জা গুজরাটের বিদ্রোহ সামলাতে অপারগ হলে তার সাহায্যের জন্য এগিয়ে না যাওয়া, গুজরাট হাতছাড়া হয়ে যাওয়ার পর আগ্রায় ফিরে দ্রুত পদক্ষেপ না নিয়ে উৎসবে মেতে থাকা, বাংলা বিজয়ের পর দীর্ঘ সময় বাংলায় নিষ্ক্রিয় থেকে বাংলার সৌন্দর্য্য উপভোগ করা, চৌসা ও কনৌজের যুদ্ধে শত্রুর শক্তিমত্তা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা করতে না পারা, এমনকি যুদ্ধের কৌশলে ভুল করা- এত কিছুর মূলে সম্রাটের বদ অভ্যাসগুলোই দায়ী।
তবে, তার চরিত্র বেশ আকর্ষণীয় ছিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আকর্ষণীয় হলেও তিনি তার এই চরিত্র দিয়ে মানুষকে বেশিক্ষণ আচ্ছন্ন করে রাখতে পারতেন না, যা একজন সম্রাটের থাকা অবশ্যই বাঞ্ছনীয়। তাছাড়া, সম্রাট হুমায়ুন দৃঢ়চেতা ছিলেন না, সবসময় সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগতেন। আবার যখন দ্রুত সিদ্ধান্ত দেয়া উচিত, তখনও যথাসময়ে উত্তম সিদ্ধান্ত দিতে পারতেন না।সম্রাটের পারস্য যাত্রার আরেকটি ফল হলো মুঘল চিত্রকলার বিকাশ। ষোড়শ শতাব্দীর শেষের দিকে মুসলিম হিন্দুস্তানের প্রাচীন শিল্পকলা ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়ছিল। কিন্তু, হিন্দুস্তানের পাশেই পারস্যে চিত্রকলা বলতে গেলে নব একটি যুগ লাভ করে। পারস্যে অবস্থানের সময় এই পারসিক চিত্রকলার দ্বারা সম্রাট বিপুল উৎসাহিত হন, যা পরবর্তীতে মুঘল চিত্রকলার দ্বার উন্মুক্ত করে দেয়।
তাবরিজে অবস্থানকালে সম্রাটের সাথে মীর সৈয়দ আলী ও আবদুস সামাদ নামে দুই চিত্রশিল্পীর সাথে পরিচয় হয়। পারস্য থেকে ফিরে সম্রাট হিন্দুস্তান অভিযান নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যান। পরবর্তীতে কাবুল বিজয়ের পর ১৫৫০ সালে এই দুই চিত্রশিল্পী সম্রাট হুমায়ুনের দরবারে চলে আসেন। সম্রাট তাদের পৃষ্ঠপোষকতা শুরু করেন। হুমায়ুনের নির্দেশে তারা ফারসি ‘দাস্তানে আমীর হামজা’ গ্রন্থের চিত্রণ কাজে মনোনিবেশ করেন। ১২ খণ্ডে মোট ১২০০টি চিত্র অঙ্কনের জন্য ঠিক করা হয়। পরবর্তী ৭ বছরে তারা ৪টি খণ্ড সমাপ্ত করেন। সম্রাট হুমায়ুন হুট করে মারা যাওয়ার পরও এই কাজ চলতে থাকে। আকবরের শাসনামলে এই কাজ শেষ হয়।দিনশেষে সম্রাট হুমায়ুন একজন মানুষ ছিলেন। তার চরিত্রে দুর্লভ কিছু গুণের সমাহার যেমন ঘটেছিল, তেমনই কিছু ত্রুটিও তার চরিত্রে ছিল। তবে মানুষ হিসেবে যে তিনি অসাধারণ ছিলেন, তা যে কেউই স্বীকার করতে বাধ্য হবেন। কিন্তু সমস্যা হলো, তিনি জন্মেছিলেন একটি রাজবংশে, বেড়ে উঠেছিলেন একটি রাজবংশে, আর তার নিয়তিই তাকে শাসকের পদে বসিয়ে দেয়। তবে, তাইমুরি বংশের তেজ তার ভেতরে কখনোই দেখা যায়নি। তার ভাগ্যই ছিল এমন যে, ভবিষ্যতে একজন মানুষ হিসেবে মূল্যায়িত হওয়ার চেয়ে একজন শাসক হিসেবে তার মূল্যায়নটা মূখ্য হয়ে উঠবে। আর এই দিকটিতে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।
পিতার কাছ থেকে বিশাল এক সাম্রাজ্য পেয়েছিলেন তিনি। তবে যে কারণেই হোক, তা তিনি ধরে রাখতে পারেননি। তবে ভাগ্যের বিষয় হলো, পিতার রেখে যাওয়া সাম্রাজ্য তিনি পুনরুদ্ধার করে রেখে যেতে পেরেছিলেন। একজন শাসক হিসেবে এটাই তার সফলতা।
পিগমীদের প্রতি বর্ণবাদ
৮. পিগমীদের বর্ণনা যদিও সাহিত্য থেকে শুরু করে কোথাও খুব একটা ইতিবাচকভাবে আসেনি। অ্যারিস্টটল-হোমার থেকে শুরু করে শত বছরের পুরনো ইউরোপীয় পর্যটক হারকুফ সবার বর্ণনাতে পিগমীরা এসেছে শুধুই খর্বকায় গোষ্ঠী হিসেবে।
নিজেদের এমন আকৃতির এবং গায়ের রঙের জন্য সবসময়ই বর্ণবাদের শিকার হয়েছে এই জাতি। এমনকি তাদের নিয়ে ভিডিও গেমও তৈরি হয়েছে, যেখানে সবাই পিগমী হত্যার মাঝে আনন্দ লাভ করে।
১৯০০ সালেও বেলজিয়ামে পিগমীদের ধরে নিয়ে গিয়ে প্রদর্শনীতে দেয়া হতো। নারী পিগমীদের যৌনদাসী রাখার ইতিহাসও বেশ প্রচলিত এবং পুরনো। রোয়ান্ডা গণহত্যার সময় এক-তৃতীয়াংশ পিগমীকে হত্যা করা হয় বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
পিগমীরা পৃথিবীর আদিম অস্তিত্ব। কিন্তু আজ তাদের অস্ত্বিত্ব বিপন্নপ্রায়। শান্তিপ্রিয় পিগমীরা এখনো বনের মাঝে নিজেদের নির্ঝঞ্ঝাট জীবনেই থাকতে চায়, কিন্তু বাহ্যিক সমস্যা তাদের এ জীবনযাপনে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছে। বনের শান্তিপ্রিয় এ আদিবাসী গোষ্ঠী প্রতিনিয়ত অন্যায়, জুলুম, অনাচারের শিকার। এই মুহূর্তে যদি তাদের অধিকার সংরক্ষণে ব্যবস্থা নেয়া না হয়, তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়া না হয়, তবে অতিসত্ত্বর হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যাবে পৃথিবীর আদিমতম একটি গোষ্ঠী।
বাকা পিগমীদের জীবনী
৯. পিগমী আদিবাসীরা হল বিশ্বের প্রাচীনতম বিলুপ্তপ্রায় আদিবাসী। সবধরনের পিগমী আদিবাসীর বাস বনের সবুজে। বাকাদেরও বাসস্থান নাতিশীতোষ্ণ জঙ্গল। তাদের দেখা মেলে আফ্রিকা মহাদেশের কঙ্গো বা ক্যামেরুনের জঙ্গলে। এছাড়াও জঙ্গলের নিকটবর্তী নদীর ধারেকাছে তাদের দেখা যায়। উচ্চতায় তারা ১২০-১৫০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে।
পাতা দিয়ে তৈরি তাঁবুর মতো ঘরের নাম মংগুলু। এরকম তাঁবুর মতো ঘর তারা বানায় বিভিন্ন গাছের পাতা এবং ডালের সমন্বয়ে। তাদের মাঝে বিয়ের প্রচলন অতটা নেই, আবার ঠিক বহুগামিতারও প্রচলন নেই।
বাকারা আফ্রিকান বেশিরভাগ আদিবাসীর মতোই যাযাবর জীবন যাপন করে। তাদের আসল কাজ শিকার করা। এছাড়া নারীদের মাঝে মাছ ধরার প্রচলন আছে। বেশিরভাগ সময় তারা বনের মধ্যে কাটায়। এবং আশেপাশের অঞ্চলের মানুষের সাথে প্রয়োজন ছাড়া কথা বলে না।
বাকাদের ভাষা পার্শ্ববর্তী আদিবাসী গোষ্ঠী বান্টুদের মতো। তবে তাদের নিজস্বতা হলো গান এবং অনুষ্ঠানে। বাকা অত্যন্ত আমোদপ্রিয় একটি সম্প্রদায়। নিজেদের মাঝে সবসময়ই গান-বাজনা চলতে থাকে। শিক্ষা বলতে শিকারের পাশাপাশি বাকা শিশুরা তাদের বাবা-মায়ের কাছ থেকে সুর বা গান বাঁধা শিখে যায়।
তারা আধ্যাত্মবাদে বিশ্বাসী। তাদের আধ্যাত্মিক ঈশ্বরের নাম 'জেংগি'। জেংগি একজন বনদেবতা। এই বনদেবতাকে খুশি করতে বাকারা নাচ-গান করে থাকে। তাদের সর্বপ্রধান ঈশ্বরকে 'কম্বা' বলে সম্বোধন করা হয়।
বাকা সম্প্রদায়ের দুঃখ হলো, দীর্ঘদিন ধরে এ গোষ্ঠীকে পার্শ্ববর্তী এবং অপেক্ষাকৃত লম্বা বান্টু গোষ্ঠী অত্যাচার করে আসছে। তাদের মাঝে সৌহার্দ্য কখনো ছিলো কি না, তা পরিষ্কার নয়। আকৃতির জন্য বাকাদেরকে দ্বিতীয় শ্রেণীর মানুষ বিবেচনা করে অনেক অত্যাচার চালানো হয়। অনেক বান্টু পুরুষ বাকা নারীকে বিয়ে করে, কিন্তু সেই বিয়েও টেকে না উচ্চতার কারণে। শেষপর্যন্ত বাকা নারী সন্তানসহ আবার বনে এসেই বাস করেন।বাকাদের প্রাকৃতিক শত্রু হলো জংলী উকুন। এই উকুন পরিষ্কার করা না হলে অনেক সময় পঙ্গুত্বও বরণ করতে হয়।
নির্বিচারে বন কেটে ফেলার কারণে এই বাকাদের অস্তিত্ব আজ সংকটের মুখে। তাদের সাহায্য করার মতো পর্যাপ্ত সংস্থা এবং উদ্যোগ নেই বললেই চলে। বাকা আদিবাসীরা মানুষ আর প্রকৃতির বিরুদ্ধে নিজেরাই লড়াই করে চলেছে।
১০. এক্স-রে আবিষ্কার হল কি করে?
গবেষণা করতে গিয়ে প্রায়ই বিজ্ঞানীদের ফলাফলে গরমিল হয়। সেই গরমিল থেকে অনেকে নতুনভাবে গবেষণা করে ফলাফল শুধরে নেন। আবার অনেকে সেই গরমিলকে নতুন আবিষ্কার ভেবে চারদিকে হট্টগোল বাঁধিয়ে দেন। যদিও অন্যান্য বিজ্ঞানীদের পর্যবেক্ষণে অচিরেই তার সেই ভুল ভাঙে। কিন্তু মাঝে মাঝে সত্যি সত্যি সে গরমিল থেকে নতুন কিছুর আবিষ্কার হয়। যেমন ধরা যাক, সত্যেন বসুর বোস-সাহা সমীকরণের কথা। গণিতের হিসাবে সামান্য ভুল থেকে তিনি আবিষ্কার করেছেন পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ। তেমনি উনবিংশ শতাব্দীতে একজন পদার্থবিদ বাস করতেন, যিনি ছিলেন প্রথম দলের অন্তর্ভূক্ত। পরীক্ষাগারে সামান্য ভুল থেকে তিনি আবিষ্কার করেন এক বিস্ময়কর রশ্মির। কিন্তু সেই বিজ্ঞানী কিছুতেই বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে, তিনি নতুন কিছু আবিষ্কার করেছেন। তিনি বার বার একই পরীক্ষার পুনরাবৃত্তি করতে থাকেন যেন নিজের ভুল সংশোধন হয়ে যায় এবং বার বার একই ফলাফল পেতে থাকেন। একসময় তিনি ভাবলেন, হয়তো তার মানসিক ভারসাম্য ঠিক নেই। তিনি পাগল হয়ে গেছেন।
অবশ্য তার এরকম ভাবনা অমূলক নয়। কারণ, তিনি যে রশ্মি আবিষ্কার করেছেন, সেটা অনেকটা অদ্ভুত। যেমন, তা অনেক দেহের মাংস ভেদ করে প্রবাহিত হলেও, ঠিকই হাড় দ্বারা প্রতিহত হচ্ছিলো। এই অদ্ভুত রশ্মিকে তিনি তার মনের অলীক কল্পনা ভেবে ভুল করছিলেন। কিন্তু তার ভুল ভাঙলো যখন বুঝতে পারলেন, তিনি একা নন, তার স্ত্রীও একই দৃশ্য অবলোকন করছেন। প্রথম দলভুক্ত সেই বিজ্ঞানীর সেবারের গরমিল তাকে দ্বিতীয় দলভুক্তদের মধ্যে কদাচিৎ সফল হওয়া বিজ্ঞানীদের অন্তর্ভূক্ত করে দিলো। সেই পদার্থবিদ হচ্ছেন উইলহেম রন্টজেন। আর সেই অদ্ভুত রশ্মির নাম রঞ্জন রশ্মি বা এক্স-রে।
১১. তবে গুমনামি বাবাই কি ছিল নেতাজি
অনেকদিন ধরেই প্রচলিত কথা যে গুমনামি বাবাই নাকি নেতাজি। অযোধ্যাতে অনেকদিন ধরে বাস করা সেই গুমনামি বাবার (ভগবান জি) পরিচয় কি তা খোলসা করার জন্য জাস্টিস বিষ্ণু আয়োগ এর রিপোর্ট মঙ্গলবার বিকেলে যোগী ক্যাবিনেটে পেশ করা হয়েছে। শোনা যাচ্ছে যে, আয়োগ জানিয়েছে যে, এটা বলা মুশকিল নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুই গুমনামি বাবা ছিল কিনা। তিন বছর আগে বানানো এই রিপোর্ট আজ উত্তর প্রদেশ বিধানসভায় পেশ করা হবে।
১৯৪৫ সালে আগস্ট মাসে জাপানে সেনা বিমানের দুর্ঘটনার পর সুভাষ চন্দ্র বসুর মৃত্যুর দাবি করা হয়। কিন্তু এই ঘটনা নিয়ে অনেক প্রশ্ন সবার মনে জাগে। ভারত সমের বিশ্বের অনেকেই এটা মানে যে, ওই বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজির মৃত্যু হয়েছিল না। তিনি কয়েকবছর পর ভারতে এসেছিলেন। এটাও শোনা যায় যে, উনি রাশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অনেক বই তেই দাবি করা হয় যে, উনি যখন ভারতে ফিরেছিলেন, তখন উনি সার্বজনীন জীবন ত্যাগ করেছিলেন। উনি ভারতে এসে পরিচয় লুকিয়ে গুমনামি বাবা নামে বসবাস করতে শুরু করেন। অনুজ ধর এর বই বলে যে, রাশিয়ার সাইবেরিয়া জেলে অত্যাচার সহ্য করার পর তিনি চরম মানসিক আঘাত পেয়েছিলেন।
১৯৮৫ সালের ১৬ই ডিসেম্বর গুমনামি বাবা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ১৮ই সেপ্টেম্বর ওনাকে ভক্তেরা তিরঙ্গাতে মুড়ে ওনার পবিত্র দেহর শেষকৃত্য সম্পন্ন করে সরযূ নদীর তীরে। ওই শেষকৃত্যে শুধুমাত্র ১৩ জন উপস্থিত ছিলেন।
সবাই তখন আশ্চর্য হয়ে পড়ে, যখন ওনার ঘর থেকে সব জিনিষ পত্র উদ্ধার করা হয়। এর পর থেকেই কেউ ওনাকে আর সাধারণ মানুষ বলে মানতে পারল না। সবাই তখন এটাই ধরে নিলো যে, উনিই সুভাষ চন্দ্র বসু। গুমনামি বাবার সমস্ত জিনিষ প্রশাসন নিলাম করতে যাচ্ছিল। তখন সুভাষ বসুর ভাইয়ের মেয়ে ললিতা বসু আর সুভাষ বসুর ঘনিষ্ঠ এম.এ হলিম এবং বিশ্ববন্ধু তিওয়ারি আদালতের দরজায় কড়া নাড়েন। আদালতের নির্দেশে ১৯৮৬ সালের মার্চ মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসে ওনার সমস্ত জিনিষ ২৪ টি টাঙ্কে সিল করা হয়। এখন গুমনামি বাবার সমস্ত জিনিষ সরকারি ভাণ্ডারে জমা আছে।
১২. উপন্যাস পথের দাবী
বঙ্গবাণী পত্রিকার মালিক কাগজে ছাপার জন্যে নতুন লেখার সন্ধানে আসেন শরৎচন্দ্রের কাছে। কিন্তু লেখক নতুন কোনো লেখা নেই বলে বিদায় করে দেন। একপর্যায়ে নাছোড়বান্দা মালিকের চোখে পড়ে পাণ্ডুলিপি করা পথের দাবীর ওপর, কিন্তু লেখক তা প্রকাশ করতে নারাজ। অবশেষে ১৯২৬ সালের ৩রা মার্চ প্রকাশিত হয় উপন্যাসটি, অনেকটা পথে পেরিয়ে একরকম বিদ্রোহের মধ্য দিয়েই জন্ম পথের দাবীর।
“আমরা সবাই পথিক। মানুষের মন্যুষত্বের পথে চলবার সর্বপ্রকার দাবি অঙ্গীকার করে আমরা সকল বাধা ভেঙ্গেচুরে চলব”
এই হল পথের দাবীর মূলমন্ত্র। সাদা চামড়া না হওয়ার অপরাধে যখন কাউকে বেঞ্চে বসতে দেয়া হয় না, আইনের কাছে যখন নিপীড়ক পার পেয়ে যায়, শাস্তি পায় নিপীড়িতরা, তখন বোঝা যায় স্বাধীনতা কী চরমভাবে অবহেলিত হচ্ছে, কী ভীষণ রকমের দরকার হয়ে উঠেছে স্বাধীনতার ছোঁয়া। স্বাধীনতা মানে তো কেবল শুধুমাত্র দু'বেলা ভরপেট খাবার খাওয়া নয়, স্বাধীনতার ব্যাপ্তি আরো অনেক বেশি বিস্তৃত।
শরৎচন্দ্রের সময়টা ছিল বৃটিশ শাসিত। পরাধীনতার শেকল ভেঙে এক নতুন জাগ্রত সমাজ তৈরির স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। তারই তো প্রতিচ্ছবি পথের দাবী। সব্যসাচী চরিত্রটি তো তারই চিত্র বহন করে। সব ভেঙেচুরে নতুন স্বাধীন সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ফুটে ওঠে। গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে সমাজের এতদিনের পুরনো শেকল ভেঙে ফেলা সম্ভব, এতে বিশ্বাস ছিল না শরৎচন্দ্রের। তিনি মনে করতেন, আঘাতে আঘাতে সমাজকে পরিবর্তন করতে হবে আগামীর জন্য। শরৎচন্দ্রের এই ভাবমূর্তি দেখা যায় মূল চরিত্র সব্যসাচীর মাধ্যে। তিনিই এই বিপ্লবের নায়ক।
১৩. বাউল গান হল বাঙালিদের গান। সমাজের সমস্ত দুশ্চিন্তা থেকে মক্ত করে যেন অন্য কোন জগতে নিয়ে চলে যায় এই গান। এ বাউল গান যেমন জীবন দর্শনের সঙ্গেই সম্পর্কিত, তেমনি বলা যায় সুর সমৃদ্ধ। বাউল সম্প্রদায়ের বিশ্বাস বাউল সঙ্গীত কিংবা মাজার সঙ্গীতই একটি বিশেষ ধর্মমত। এই মতের সৃষ্টিও হয়েছে বাংলার মাটিতেই। বাউল কূল শিরোমণি লালন সাঁইয়ের গানের মধ্যেই যেন বাউল মতের পরিচিতি লাভ করেছে। এ মাজার বাউলদের সাদামাটা কৃচ্ছ্র সাধনার জীবন আর তাদের জনপ্রিয় লোকজ বাদ্যযন্ত্র একতারা নিয়ে গান বাজিয়ে ও গেয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়ানোই তাদের অভ্যাস। মাজার প্রেমী সাধারণ নারী এবং পুরুষদের সুরের জগতে প্রবেশ করার আগেই যেন ধ্যান মগ্ন হয়ে যান। পরে তারাই ইহজগতের ও পরজগতের অশেষ ফায়দা হাসিলের জন্য এক সুমহান লক্ষ্যে নিজস্ব আত্মায় যেন নিগূঢ় রহস্য খোঁজে। এই জগতের ধ্যানরত মানুষরাই শুধু আধ্যাত্মিক, তারা পীর আউলিয়ার বিশ্বাসেই অন্তরে ধ্বনিত করে অলিক এক মহা শক্তি। সে শক্তিটাকেই তারা তাদের- ”খোদা বা ঈশ্বর” মানে। অন্তরে বিরাজমান সেই ঈশ্বর বিশ্বাসে তারা সুর পিপাসু হয়েই ‘মাজারপ্রেমী’ অজস্র হতদরিদ্র সাধারণ মানুষ বেঁচে থাকে। এমন প্রয়াস সৃষ্টি করেই হোক অথবা তাদের পেটের ক্ষুধা নিবারণ করার জন্যই হোক, মন এবং শরীরকে সুস্থ, সতেজ রাখার জন্যই সঙ্গীতের প্রতি গুরত্বের সহিত নান্দনিক আবেদন খোঁজে বা দৃষ্টি রাখে। প্রাচীন ইতিহাস এবং ঐত্যিহ্যের বিশাল সমৃদ্ধি বাউল সঙ্গীতের ভান্ডারকে নিয়ে রেকর্ড সৃষ্টিকারী লোক সংস্কৃতির নানা শাখায় বিচরণে বিনোদন পূর্ণ আধ্যাত্মিকতার দেশ । এমন মাজার সংস্কৃতিতেই আগর বাতি, মোম বাতি, জালিয়ে কিংবা নানা ধরনের বাদ্যযন্ত্রের সংমিশ্রণেই রংবেরংয়ের বিভিন্ন প্রকারের বৈদ্যুতিক বাতির প্রয়োগ ঘটিয়ে আলোক উজ্জ্বল পরিবেশেই ভক্ত এবং মুরীদ গণদের সারা রাত্রি বিনোদন প্রদান করে থাকে। এ সমাবেশের মধ্যে তারা খোদা’র প্রতি শত সহস্র হৃদয় নিংড়ানো প্রেম-ভালোবাসা’র গভীর এক রহস্য খোঁজে পায়। এ ধ্যানমগ্ন হওয়া মানুষরাই আনন্দ-উল্লাস, বিরহ বা তাদের অন্তর শীতল করার জন্য যুগ যুগ ধরে আধ্যাত্মিকতার এমন এক লোকসঙ্গীতের আয়োজন করে থাকে। সুতরাং- বাউলরাই নাকি ওলী.
২০০৫ সালে “ইউনেস্কো” বিশ্বের মৌখিক ও দৃশ্যমান ঐতিহ্যসমূহের মাঝে বাউল সঙ্গীতকে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ হিসেবে ঘোষনা করেছে। এই বাংলাদেশে বা ভারতের পশ্চিমবঙ্গের গ্রামীণ সৃজনশীল সাধকদের মধ্যে ‘বাউল সম্প্রদায়’ অত্যন্ত প্রসিদ্ধ। এই সম্প্রদায় মূলত দেহ-সাধনা করে এবং সঙ্গীতের মাধ্যমেই সেই দেহ-সাধনার কথা প্রকাশ ও প্রচার করে। বাউলদের রচিত সঙ্গীতে ভাবের গভীরতা, সুরের মাধুর্য, বাণীর সার্বজনীন মানবিক আবেদন বিশ্ববাসীকে যেন এক মহামিলনের মন্ত্রে আহ্বান করে। আবার তাদেরকেই ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে ‘ইউনেস্কো’ বাংলার বাউল সঙ্গীতকে দি রিপ্রেজেন্টিটিভ অব দি ইন্টানজিবল কালচারাল হেরিটেজ অব হিউম্যানিটির তালিকা ভুক্ত করেছে।অবশ্য তারও আগেই বিংশ শতাব্দীর পঞ্চাশ-ষাটের দশক হতেই যেন ইউরোপ-আমেরিকার নানা দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে বাউলগান ও বাউলদের সাধনপদ্ধতি নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। পাশাপাশি এই বাংলার বাউলগান পরিবেশন করতে গ্রামের বাউল সাধকশিল্পীগণ বিভিন্ন দেশ-বিদেশেও ভ্রমণ করেছে। তবে, জাতীয় পর্যায়ে ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাউলদের সাধনা কিংবা সঙ্গীত সম্পর্কে আগ্রহের সূচনা হয়ে ছিল প্রাথমিক পর্যায়েই কাঙাল হরিনাথ মজুমদার, ইন্দিরা দেবী, সরলা দেবী অথবা নবকান্ত চট্টোপাধ্যায়ের তৎপরতায়, পরবর্তীকালেও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘বাংলার বাউল’ বা বাউল সম্পর্কে বিশেষভাবে বিশ্ববাসীকে দৃষ্টি আকর্ষণ করিয়ে ছিল, এমনকি তাঁর নিজের রচনাতেও ভাবসম্পদ হিসেবে বাউলগানের ভাবাদর্শ গ্রহণ করে।
১৪. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 'শিশু পাচার' বন্ধ করার লড়াই
ব্রুক অক্সটেল তার ‘বিউটিফুল জাস্টিস: রিক্লেইমিং মাই ওর্থ আফটার হিউম্যান ট্রাফিকিং অ্যান্ড সেক্সুয়াল অ্যাবিউজ’ গ্রন্থে দুই আমেরিকান তরুণীর জীবনে ঘটে যাওয়া বাস্তব একটি গল্প তুলে ধরেছেন। তারা একজন পুরুষের ধোকায় পড়ে যৌন পাচারের শিকার হয়েছিলেন। ওই দুই তরুণী একদিন রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন, এমন সময় তারা একটি বিশেষ সমস্যায় পড়েন। এবং তখন ওই পুরুষ তাদের সাহায্যে এগিয়ে আসেন এবং একজন প্রকৃত বন্ধুর ন্যায় আচরণ করেন। এতে তারা উক্ত পুরুষকে বিশ্বাস করে ফেলেন এবং এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে উক্ত পুরুষ তাদেরকে যৌন ব্যবসায়ীদের কাছে পাচার করে দেন। যদিও ওই দুই তরুনী অত্যন্ত প্রাণচঞ্চল ও সাহসী চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। তবে পরবর্তীতে দেশের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় তারা অন্ধকার জগত থেকে ফিরে আসতে সক্ষম হন। এর মধ্যে ছোট মেয়েটির নাম লিলি। লিলি খুব সাহসী ও স্পষ্টভাষী মেয়ে। অন্যদিকে বড় মেয়েটির নাম কায়েস (ছদ্মনাম), সে ছিল বেশ হতাশাগ্রস্থ ও চাপা স্বভাবের। এই ঘটনাটি তুলে ধরার কারণ হলো, এটি পাচারকারীদের অতি ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি।
বিচার কাজে সহায়তা প্রদান করতে গিয়ে ব্রুক অক্সটেল তাদের সাথে অনেক কথা বলার সুযোগ পান। তাদের জীবনের গল্পগুলো ব্রুক মন দিয়ে শোনেন। একদিন ব্রুক নিজেও তার জীবনের গল্পগুলো লিলি ও কায়েসের সামনে তুলে ধরতে থাকেন। লিলি ও কায়েস জানতে পারে ব্রুকের জীবনেও তাদের মতো অন্ধকার সময় নেমে এসেছিল।
ব্রুক অক্সটেলের সাথে লিলিও বর্তমানে শিশু ও নারীদের সুরক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তারা পাচারকারীদের হাত থেকে শিশুদের সুরক্ষায় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিচ্ছেন। বিশেষত, শিশুদের কাছে পারাকারীদের বৈশিষ্ট্য ও পাচারের পদ্ধতিসমূহ তাদের সামনে তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন। তবে এক্ষেত্রে শিশুরা যেন কোন মানসিক সঙ্কট বা আতংকগ্রস্থ না হন।
পাচারকারীরা সাধারণত তিনটি ধাপে এই কাজ সম্পন্ন করে। প্রথমত, টার্গেটকৃত শিশু বা নারীকে তারা বড় বড় স্বপ্ন দেখাতে শুরু করেন। তারপর তাদেরকে প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে যান এবং ক্রমান্বয়ে আত্মীয়স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন করতে থাকেন। তারপর একপর্যায়ে তাদের উপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেন এবং যৌনতাসহ নানা অবৈধ কাজে যুক্ত হতে বাধ্য করেন।
১৫. মিউটিনি অন দ্য বাউন্টি-একটি বিদ্রোহের কাহিনী
মাহিনা দ্বীপে ‘উরু’ বা ‘ব্রেডফ্রুট’ এর গুরুত্ব বোঝার জন্য তাদের প্রচলিত কাহিনী জানারও কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা, এই দ্বীপে আসলেই পথে-ঘাটে, হাটবাজারে যে বস্তুটি সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ে তা হলো এই উরু ফলটি। রাস্তার দু'ধারে বড় বড় উরু গাছ দেখা যায়, যার মধ্যে ডুমুরের মতো ঝাঁকে ঝাঁকে এই ফল দেখা যায়। প্রচুর পরিমাণে ফলনের কারণ হিসেবে পলিনেশিয়ার একজন ব্যক্তি বলেন, “এর অর্থ হলো, আপনি আপনার পরিবারকে বছরের পর বছর ভালোমতো খাওয়াতে পারবেন।” এই ধারণা সকলের মধ্যে প্রচলিত কিংবদন্তির দরুণই জেগেছে।১৭৬৮ সালে ক্যাপ্টেন জেমস কুক ব্রিটিশ রয়্যাল নেভির জাহাজ এইচএমএস এন্ডেভারে করে ইংরেজ উদ্ভিদবিজ্ঞানী স্যার জোসেফ ব্যাংকস এবং আরও সিপাহীসহ অনুসন্ধানমূলক ভ্রমণে যান। সেই সময়ে তারা ফ্রেঞ্চ পলিনেশিয়ার দ্বীপ তাহিতিতে তিন মাসের জন্য বিরতি নেন। তবে তাদের অনুসন্ধানমূলক যাত্রাটি ছিল তিন বছরের। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল নতুন কোনো গাছের সন্ধান এবং ক্রীতদাসদের ভরণপোষণের জন্য কম দামী কোনো খাদ্যের সন্ধান করা।
বিরতিতে আশ্রয় নেয়া পলিনেশিয়ান দ্বীপটি সেই যুগেও প্রাকৃতিকভাবেই উরু গাছে ভরা ছিল। গাছগুলো খুব কম যত্নে রাখলেও অতি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এর পেছনে বেশি খরচ বা অন্য কোনো ঝামেলাও নেই। তাছাড়া বছরের সাত মাসই পাওয়া যায় এর বাম্পার ফলন। একটি গাছের এত বৈশিষ্ট্য দেখে দুজনের মাথায় একটি বুদ্ধি চেপে বসে। তারা ইংল্যান্ডে ওয়েস্ট ইন্ডিজ থেকে নিয়ে আসা ক্রীতদাসদের খাবারের যোগান দিতে এই ফল ব্যবহার করার পরিকল্পনা করেন। কম কষ্টে ও টাকায় কৃতদাসদের ভরণপোষণ করার মন-মানসিকতার দরুণ এই উদ্ভাবন। ইংল্যান্ডে ফিরে যাবার পর ব্যাংকস এবং ক্যাপ্টেন কুক সম্রাট তৃতীয় জর্জকে তাদের নতুন আবিষ্কার সম্পর্কে জানান এবং এ থেকে তারা কীভাবে লাভবান হতে পারেন তা বুঝিয়ে বলেন। তাদের পরিকল্পনা সকলের নিকট সমাদৃত হলেও এই উরু গাছগুলো কীভাবে স্থানান্তর করা হবে তা নিয়ে সমস্যা শুরু হয়। এমনকি আর কোনো পথ না পেয়ে ব্যাংকস নিজেও ঘোষণা দেন, কোনো ব্যক্তি যদি ১,০০০ উরু গাছের চারা তাহিতি থেকে ওয়েস্ট ইন্ডিজে স্থানান্তর করতে পারে, তবে তাকে যথাযথভাবে পুরস্কৃত করা হবে। কিন্তু সেই সময়ে কুক ও ব্যাংকসের এই কূটনীতি সফল হতে পারেনি।উল্লেখ্য, পরবর্তীতে এই উদ্ভিদবিজ্ঞানী ব্যাংকস বিশ্বের সবচেয়ে পুরনো বৈজ্ঞানিক প্রতিষ্ঠান ‘রয়্যাল সোসাইটি’র প্রেসিডেন্ট হন। তিনি একজন প্রকৃতিবিদ এবং কিউ গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।ক্যাপ্টেন কুকের প্রাথমিক অভিযানের প্রায় দুই যুগ পরে সম্রাট তৃতীয় জর্জ লেফটেন্যান্ট উইলিয়াম ব্লাইকে তাহিতি দ্বীপ থেকে উরু গাছের চারা স্থানান্তর করার দায়িত্ব দেন। ১৭৮৭ সালের ২৮ নভেম্বর ব্লাই তার দল নিয়ে এইচএমএস বাউন্টিতে যাত্রা শুরু করেন। তার সাথে দুজন মালীও ছিলেন। অভিযানে শুরু থেকেই বিভিন্ন ঝামেলার শুরু হয়। উঁচু জোয়ার-ভাটা, ঝড়-বৃষ্টি বারবার থামিয়ে দিচ্ছিল সমুদ্রযাত্রাটি। কোনোভাবে তাহিতি গিয়ে পৌঁছাতে পারলেও উরু পরিবহনে ব্লাই ও তার দলকে অপেক্ষা করতে হয় পাঁচ মাস। কারণ ফুটবল সাইজের ফলগুলো বছরে সাত মাস পাওয়া যায়।আর ব্লাই তাহিতিতে বছরের এমন এক সময়ে পৌঁছান, যখন এই ফল জন্মায় না। তাই তাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। কিন্তু এরপরেও কারণে-অকারণে দেরি হতে থাকে ফিরে আসার যাত্রা। অবশেষে ১৭৮৯ সালের ২৯ এপ্রিল ক্যাপ্টেন ব্লাইয়ের তত্ত্বাবধানে তাদের মূল উদ্দেশ্য, তথা ওয়েস্ট ইন্ডিজে উরুর চারা পরিবহন করে নিয়ে যাওয়ার কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে তা আর কখনও সফল হতে পারেনি।
এই দিনে লেফটেন্যান্ট ব্লাইয়ের হঠাৎ করে ঘুম ভাঙে বুকের উপর জোরে চাপ পড়ার কারণে। চোখ খুলতেই দেখতে পান, তার দলের সিপাহীরাই তার দিকে বন্দুক তাক করে দাঁড়িয়ে আছে। এর মূল হোতা ছিলেন ২৩ বছরের ফ্লেচার ক্রিস্টিয়ান। ব্লাইকে জোর করে নিয়ে যাওয়া হয় তার জাহাজের কাছে, যেখানে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, বিদ্রোহীরা তার জাহাজ দখল করে নিয়েছে। আর যারা তার প্রতি বিশ্বস্ত ছিলেন, তারাও এখন বিদ্রোহীদের হাতে বন্দি। ব্লাইসহ মোট ১৯ জনকে বিদ্রোহীরা দয়া করে মেরে না ফেললেও জোরপূর্বক একটি লঞ্চে প্রেরণ করেন, যেখানে এই ১৯ জনের জন্য পাঁচ দিনের যথেষ্ট খাবার এবং পানির ব্যবস্থা ছিল। তবে লঞ্চটিতে কোনো মানচিত্র ছিল না। ক্রিস্টিয়ান এবং বাকি বিদ্রোহীরা নিশ্চিত ছিলেন যে, ব্লাই ও বাকি সিপাহীরা মাঝরাস্তায় কোনো না কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে পড়ে কিংবা খাদ্যাভাবে করুণভাবে মারা যাবেন। অর্থাৎ সেই দয়া কোনো মহৎ মানসিকতার নিদর্শন ছিল না।
কিন্তু ভাগ্যক্রমে ব্লাইয়ের কাছে ছিল একটি কম্পাস, একটি কোয়াড্রেন্ট (কৌণিক মাপের সাহায্যে উচ্চতা মাপার যন্ত্র), নৌযাত্রার জন্য কিছু খণ্ড খণ্ড সারণী এবং একটি ভাঙা সেকসট্যান্ট। এগুলোর সহায়তা তিনি প্রায় ৪,০০০ মাইলের ঐতিহাসিক সমুদ্রযাত্রা সম্পন্ন করেন। এই যাত্রায় শুধুমাত্র একজন সিপাহী মারা যান। বাকিরা নিরাপদেই ব্লাইয়ের সাথে ইংল্যান্ডে ফিরতে পারেন।এখন কথা হলো, কেন এই বিদ্রোহ সংঘটিত হয়? লেফটেন্যান্ট ব্লাই ও তার বাহিনী তাহিতি দ্বীপে উরুর ফলনের জন্য যখন অপেক্ষা করছিলেন, তখন তার দলের বেশিরভাগ সিপাহী তাহিতি দ্বীপের আবহাওয়ায় অভ্যস্ত হতে থাকে। তাছাড়া ব্লাইয়ের কঠোর নিয়ম-কানুন কিংবা সিপাহীদের পারিশ্রমিক ঠিকমতো না দেওয়ার কারণে তাদের মনে বিদ্রোহের আগুন প্রজ্বলিত হয়। এর মূল হোতা ফ্লেচার ক্রিস্টিয়ান ও তার পুরো পরিবার ব্লাইয়ের কাছে ঋণগ্রস্ত ছিলেন। এসব অসন্তোষ ও ক্ষোভের কারণেই ব্লাইয়ের এই দশা হয়। আর এই বিদ্রোহ ইতিহাসের পাতায় ‘মিউটিনি অন দ্য বাউন্টি' নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।তবে দ্বিতীয়বার সমুদ্রযাত্রায় গিয়ে ব্লাই উরুর চারা স্থানান্তর করতে সফল হন। এই সময়ে তিনি দ্বিতীয় বিদ্রোহের হাত থেকে কোনোভাবে বেঁচে যান। কিন্তু ১৮০৫ সালে অস্ট্রেলিয়ার সাউথ ওয়েলসে গভর্নর হিসেবে নিয়োজিত হলে সেখানে আরেকটি বিদ্রোহের জন্ম নেয়। দোষ-ত্রুটি থাকলেও ব্লাই প্রায় ৪,০০০ মাইলের একটি অসম্ভব সমুদ্রযাত্রা সম্পন্ন করার জন্য ইতিহাসের পাতায় এখনও স্মরণীয় হয়ে আছেন।
১৯. টাকা দিয়ে স্ত্রী পাওয়া যায় এখানে
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে এখনো এমন সব কুপ্রথা ও অমানবিক রীতিনীতি চালু আছে যা সর্বজননিন্দীত। আর এমনই এক বর্বর প্রথা চালু আছে আফ্রিকার দেশ নাইজেরিয়ার কয়েকটি অঞ্চলে, যেখানে ‘মানি ওয়াইফ’ বা অর্থের বিনিময়ে অপ্রাপ্তবয়স্কা মেয়েদের স্ত্রী হিসেবে কিনতে পাওয়া যায়!
বিশেষত দেশটির ক্রস রিভার রাজ্যের অবানলিকু অঞ্চলের বিসিভ গ্রামের আদিবাসীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি লক্ষ্য করা যায়। উক্ত সম্প্রদায়ের নাম অনুসারে তাদের গ্রামের নামও বিসিভ দেয়া হয়েছে। প্রাদেশিক রাজধানী ক্যালাবার থেকে সড়কপথে সেখানে যেতে প্রায় আট ঘন্টা সময় লাগে। সম্প্রতি বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তাদের মানি ওয়াইফ প্রথার বিশ্বব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে।
অবুধা পর্বতের ছায়াতলে বেড়ে ওঠা এই গ্রামকে বলা হতো ঘুমন্ত গ্রাম। কিন্তু সেখানেই যুগের পর যুগ ধরে চলে আসছে দাসত্ব প্রথা। যেখানে কন্যাদের মাত্র ৫-৬ বছর বয়সে তাদের পিতা-মাতারা বয়জ্যেষ্ঠ কোনো পুরুষের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন। মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন, শুধুমাত্র টাকা-পয়সার লোভে পিতা-মাতারা তাদের সন্তানদেরকে এমন অন্ধকার পথে ঠেলে দিচ্ছেন। যদিও আদিবাসী নেতারা বিষয়টি এখন আর চালু নেই মর্মে দাবি করছেন, কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, স্বয়ং গোত্রপতিরাই এখনও একাধিক অপ্রাপ্তবয়স্কা স্ত্রী গ্রহণ করে বসে আছেন।
পাঁচ বছর বয়সী মিরাকেলের ‘মানি ম্যারিজ’ সম্পন্ন হয়েছিল কিছুদিন আগে। বিয়ের পর তার উপর স্বামীর পৈশাচিক যৌন নির্যাতন নেমে এসেছিল। কিন্তু তার সৌভাগ্য; স্থানীয় একটি মিশনারি সংস্থার সহায়তায় তিনি তার স্বামীর হাত থেকে মুক্ত হতে পেয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি মিশনারি সংস্থার সাথে বসবাস করছেন। এরকম আরেক দুর্ভাগা যুবতীর নাম রোজ ইনিয়েতি। যদিও তিনি নয় বছর আগে তার কথিত ‘মানি হাজবেন্ডের’ হাত থেকে উদ্ধার হয়েছিলেন।
এসব মেয়েরা বিয়ের পর প্রায় সকল প্রকার অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। কেননা তাদের বাজারে পণ্য বেচা-কেনার মতো করে বিনিময় করা হয়; অনেক সময় পুরস্কার হিসেবে আদান-প্রদান করা হয়। এমনই এক ঘটনা ঘটেছে আদিবাসী তরুনী ডরথির জীবনে। ডরথি জানান, পিতা-মাতা ও স্থানীয় লোকজন মিলে তাকে একজন পুরুষের কাছে তুলে দিয়েছিল। সেই লোক তাকে ঘুমানো ব্যতীত আর কোনো কাজে লাগাতো না। মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়েছিলেন।
২০.শবর জাতির গৌরবপুর্ন অতীত
আজকের দিনে শবরদের অবস্থা যা-ই হোক না কেন, শবরদের অতীত অনেক গৌরবের। শবর কথাটির উৎপত্তি হয়েছে ‘সগর’ থেকে। স্কাইথিয়ান ভাষায় ‘সগর’ শব্দের অর্থ হলো কুঠার। বোঝাই যাচ্ছে, শবররা কুঠার হাতে বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াতেন। সেখান থেকেই শবর নামটির প্রচলন হয়। শবররা বাস করেন পশ্চিম বাংলা, চেন্নাই, মধ্যপ্রদেশ, ছোটনাগপুর আর উড়িষ্যায়। ইদানীং ত্রিপুরা জেলাতেও কয়েক ঘর শবরের সন্ধান পাওয়া গেছে। ব্রিটিশ শাসনের মাঝামাঝি শবররা বাংলাদেশের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। প্রথমদিকে যাযাবর থাকলেও পরবর্তীতে চা শ্রমিক হিসেবে কাজ নেন তারা। মৌলভীবাজার জেলার হরিণছড়া, রাজঘাট ও নন্দরাণী এলাকায় শবরদের দেখা মেলে। আমাদের দেশে বর্তমানে শবরদের সংখ্যা ২,০০০ এর কিছু বেশি।
প্রাচীন মহাকাব্য মহাভারত, রামায়ণ, হর্ষচরিত, চর্যাপদ আর পুরাণে শবরদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সাহিত্য কিংবা লোকগাঁথা ছাড়াও ধর্মচর্চায়ও শবররা মর্যাদার দাবিদার। বলা হয়ে থাকে, পুরীর জগন্নাথ নাকি এই শবরদেরই দেবতা। জগন্নাথের এই লীলাভূমি সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীর পবিত্র স্থান। চর্যাপদে শবরদের সম্পর্কে লেখা আছে, “উঁচা উঁচা পাবত তোঁহি বসতি শবরী বালি”।
২১.৪৯ হাজার বছর আগের আদিবাসী বসতির খোঁজ
৯ বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় এক পাহাড়ি এলাকায় সার্ভে করতে বেরিয়েছিলেন অজি ক্লিফর্ড ক্যলথার্ড। কিন্তু, মাঝপথে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিয়ে গিয়েই একটি গুহা খুঁজে পান তিনি। আর এর ভিতরেই ছিলো মানুষের বসতি গড়ে তোলার প্রমাণ। ছিলো আদিম সভ্যতার প্রমাণ। ক্যলথার্ডের সঙ্গে সেই সময় ছিলেন মেলবর্নের আর্কিওলজির অধ্যাপক গাইলস হ্যাম।
৪৯ হাজার বছর আগের আদিবাসী বসতির খোঁজ পেলেন তারা অস্ট্রেলিয়ার পাহাড়টিতে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডের উত্তরে ৩৪০ মাইল দূরে ওয়ারত্তি পাহাড়ের মাঝে এক গুহায় আদিম বসতি ছিল বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই আবিষ্কার থেকে মনে করা হচ্ছে, প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ার এই এলাকাতেই বসতি গড়ে তুলেছিল মানুষ। যদিও এতদিন আর্কিওলজিস্টরা দাবি করতেন, পঞ্চাশ নয়, চল্লিশ হাজার বছর আগে বসতি গড়েছিল মানুষ। সৃষ্টি হয়েছিল সভ্যতা। কিন্তু, এই আবিষ্কারের পর অনেক ধারণায় পরিবর্তন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
হ্যাম জানিয়েছেন, পাথর দিয়ে ঘেরা ওই জায়গার বিভিন্ন অংশে মিলেছে কালো ছাদের অস্তিত্বও। যা মানুষের বসবাসের প্রমাণ দেয়। ৯ বছর আগের সেই দিন থেকে আরও বেশি পরিমাণ প্রমাণ জোগাড় করেন হ্যাম ও ক্যলথার্ড।
তাদের দাবি, ১৬টি স্তন্যপায়ী ও ১টি সরীসৃপের মোট ২০০ হাড়খন্ড ওই গুহা থেকে উদ্ধার করেছেন তারা। সঙ্গে রয়েছে প্রায় ৪৩০০ মানুষের হাতের কাজের প্রমাণ।
এর আগে পশ্চিম-মধ্য অস্ট্রেলিয়ার পুরিতজারায় প্রাচীনতম আদিবাসী বসতির খোঁজ মিলেছিল। যা প্রায় ৩৮ হাজার বছরের পুরোনো বলে দাবি করা হয়। কিন্তু, এই আবিষ্কারের সঙ্গে নয়া তত্ত্বের সৃষ্টি হল। প্রসঙ্গত, প্রায় ৫০ হাজার বছর আগে অস্ট্রেলিয়ায় প্রথম আদিবাসী বসতি গড়ে উঠেছিল বলে মনে করা হয়।
২৩. সাঁওতালদের ধর্ম কি?
সাঁওতালদের ধর্মের নাম ‘সারি ধরম’ কিছু কিছু ব্যক্তি আবার ‘সারনা ধরম’ও বলে থাকেন। ‘সারি’ কথার অর্থ – সত্য, আর ‘সারনা’ কথা এসেছে ‘সারিন্ (সত্য) + আঃ (তাহা) = সারিনাঃ। এই সারিনাঃ থেকে সারনা হয়েছে। একমাত্র জাহের বঙ্গা সাঁওতালরায় সুপ্রাচীনকাল থেকেই সারি ও সারনা শব্দ দুটি ব্যবহার করে আসছেন। সমার্থক শব্দ হওয়ায় জাহের বঙ্গা সাঁওতালরা ‘সারি ধরম’ ও ‘সারনা ধরম’ বলে থাকেন।
সাঁওতালরা প্রতি মুহূর্তে সূর্যকে স্মরণ করে ‘সিংচাঁন্দো’ বা সিংবঙ্গা বলে । জাহের থান’ ও ‘মাঞ্জহি থানে’ সূর্য ও পৃথিবীর উপাসনা করা হয়। এই দুজনের উপস্থিতিতেই ফসলের সৃষ্টি হয়। এই ঘটনা (ফসল সৃষ্টি) যে ধ্রুব সত্য তাঁরই প্রতিক হিসাবে উক্ত দুটি স্থানে ধিরি (পাথর) অতি অবশ্যই স্থাপন করা হয়। আর এই ফসল (আমন ধান) কাটার বা ওঠার পরই সহরায় অর্থাৎ সারি সহরায় উৎসব হয়।
সারি বা সারনা-র অর্থ একই তা হল সত্য। ‘সারি ধরম’ মানে সত্য ধর্ম। ধর্ম গ্রন্থের নাম- ‘জমসিম বিন্তী’। সাঁওতালদের মতে সত্য ব্যতিরেকে ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না, তাকে আবার নতুন করে প্রতিষ্ঠা করার কে? সেই জন্যই তাদের সমাজে কোন অবতার বা ধর্ম গুরুর আবির্ভাব পরিলিক্ষত হয়নি। সৃষ্টির আদিকালে স্বয়ং ‘মারাং বুরু’ যে নির্দেশ দিয়ে গেছেন তা চিরন্তন সত্য।
24. মধ্যপ্রদেশের নারী এবং শিশু উন্নয়ন মন্ত্রী ইমারতি দেবি আবার বিতর্কে জরিয়ে পরেন যখন তিনি বলেন “টয়েলেটে রান্না করলে তাতে ভুল কিছুই নেই”। মঙ্গলবার দিন মিডিয়াতে দেওয়া সাক্ষাতকারে তিনি এই চাঞ্চল্যকর মন্তব্য পেশ করেন। “আপনাদের বুঝতে হবে যে রান্নাঘর আর টয়লেটের মাঝে যদি দেওয়াল থাকে তবে সেখানে রান্না করার মধ্যে ভুল কিছুই নেই। আজকাল তো আমাদের সকলের বারিতেই বাথরুম আর রান্নাঘর একসাথে থাকে।“
শিভপুরি জেলার সিলানগর পোখার গ্রামে একটি আঙ্গনবারিতে বাচ্চাদের জন্য মিড-ডে মিল টয়লেটের ভিতর রান্না করার ছবি যেদিন সামনে আসে ঠিক তার পরের দিনই সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী এই বক্তব্য রাখেন। গ্রামটি ভুপাল শহর থেকে মাত্র ৩৫০ কিলোমিটার দূরে। ঘটনাটি নিয়ে বিতর্ক ছরাতেই তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে।
৫০ জন ছাত্রের রান্না সেখানে হয়। যেই সময় রিপোর্টার সেই স্থানে পৌছায় তখন রান্নায়ে ব্যাবহারের সব জিনিসপত্র টয়লেট সিটের উপর রাখা ছিল এবং তার থেকে একটু দূরে রান্না করা হচ্ছিলো।
25. মঙ্গলবার দিন ফিরোজাবাদ মিনিউসিপালিটি থেকে সরবরাহ করা দুষিত পানীয় জল খেয়ে দুই ভাই, একজন ৫ বছরের এবং অপরজন ৩ বছরের, মারা যায়। আরও ১৪ জন বাচ্চা হাসপাতালে ভর্তি। এখানেই শেষ নয়, ১৩ জন আরও বাচ্চা বমি এবং ডায়ারিয়ার অভিযোগ করেছে।
মৃতের নাম বিকি এবং তার বোন লক্ষ্মী। আগ্রার একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাদের মৃত্যু হয়। বাকিদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে। আনান্দ নগরের বাসিন্দারা জানিয়েছেন যে প্রায় ৩ সপ্তাহ ধরে পানীয় জল সরবরাহের লাইনে ফাটল ছিল যার জন্যই জল দুষিত হয়েছে। মিনিউসিপালিটির কর্তাদের উদাসীনতার কারনেই এই ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে প্রশাসন আনান্দ নগর এলাকাতে ডাক্তারের একটি দল পাঠানো হয়েছে এবং একটি ক্যাম্প বসানো হয়েছে সবাইকে পরীক্ষা করার জন্য।
26. যদিও নিজের পরিবারকে কিডনি দেওয়া নতুন কিছু না, কিন্তু তার জন্য নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দেওয়ার দৃষ্টান্ত খুবই বিরল। বাংলাদেশ থেকে ঘুরতে আসা ২৫ বছর বয়সি এক মহিলা যখন ব্যাঙ্গালুরুতে তার মাকে বাঁচানোর জন্য নিজের কিডনি দান করে, ঠিক তার আগেই সে নিজের বিয়ে ভেঙ্গে দেয় কারন তার শ্বশুর বাড়ির তরফ থেকে বাধা দেওয়া হচ্ছিলো।
অবিবাহিত মহিলারা কাউকে কিডনি দান করেছে এমন ঘটনা সচরাচর দেখা না গেলেও, নিজের বিয়ে ভেঙ্গে মাকে বাচানো সত্যি দুর্লভ এবং দৃষ্টান্তমূলক। এই অঙ্গপ্রতিস্থাপনটি হয় পুরানো এয়ারপোর্ট রোডে মনিপাল হাসপাতালে। মেয়েটির বাবা জানায় যে সে সত্যি ভাগ্যবান এমন মেয়ে পাওয়ার জন্য। মেয়ের বিয়ে ভেঙ্গে যাওয়ার কথা বলতে বলতে তিনি ভেঙ্গে পড়েন। তিনি আরও বলেন যে তার দুটি মেয়ে থাকায়ে গ্রামের অনেকেই তার উপর হাসতো কিন্তু আজ সেই মেয়ের জন্যই তিনি গর্বিত।
1. নেটফ্লিক্স, মদ, কফি, এবং সঙ্গম। এই সব জিনিস দীর্ঘবছর ধরে যুব সমাজের কাছে খুব পছন্দের। কিন্তু যদি তাদের বিনা খরচে ছয় মাসের জন্য কোথাও ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় তবে তারা সব কিছু ছেড়ে দিতে রাজি। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সী ছেলেমেয়েদের জীবনে ভ্রমনের গুরুত্ব কতটা তার সার্ভে করতে গিয়ে এমন তত্ত্বই জানালেন ট্রাভেল কোম্পানি সন্টিকি।এই কোম্পানিটি আরও জানায় যে নতুন প্রজন্ম কি ভাবে তাদের ছুটির দিন কাটানোর জন্য প্রস্তুত। অর্ধেকের বেশি লোক জানায়ে যে কোথাও ঘুরতে যাওয়ার আগে থাকা এবং খাওয়ার জায়গা নিয়ে পরিকল্পনা করতে তারা প্রায় তিন ঘন্টার উপর বিভিন্ন উৎস থেকে খবর নেয়। এর জন্য তারা ইন্সটাগ্রাম বা ইউটিউবের আশ্রয় নেয়।
২. সেক্স পাওয়ার বাড়াতে চান। সঙ্গী বা সঙ্গীনির চাহিদা মেটাতে চান। ঝুকে পড়ছেন দুশ্চিন্তায়। খাচ্ছেন নানা ধরনের ক্ষতিকারক ঔষধ। কিন্তু ফলাফল শূন্য। অথচ আপনার দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় কিছু খাবার রাখলেই যৌন জীবন সুখের হতে পারে। আসুন জেনে নেই খাবার গুলো কি কি..
মাখনে পেয়াজ ভেজে উঠিয়ে নিয়ে মধু মিক্স করুন। খালি পেটে এই খাবার টি খেতে হবে। এর দুঘন্টার পর অন্য খাবার খাবেন।
কাজুবাদাম খেতে পারেন। এটি সেক্স বুস্টার হিসাবে কাজ করে।
সি ফুডঃ সাগরের তৈলাক্ত মাছ খেতে পারেন।
সাইট্রাস ফলঃ মান্দারিন কমলা, গোলাপি আংগুর, জাম্বুরা, লেবুতে ভিটামিন সি, এন্টিঅক্সিডেন্ট ও ফলিক এসিড থাকে। যা সেক্স পাওয়ার বাড়াতে সহায়ক।
নানান সবজি যেমন ব্রকলি, ফুলকপি, পাতাকপি তে সেক্স নিউট্রন্ট ফলেট থাকে।
চিনি মিক্স না করে সবুজ চা কিংবা ব্লাক টি খেতে পারেন।
স্ট্রবেরী খেতে পারেন। এটি শুক্র উতপাদন বাড়ায়।
আদা সেক্সুয়াল প্রত্যংগ সহ শরীরের সর্বাংশে রক্তসঞ্চারক হিসেবে কাজ করে।
ডার্ক চকোলেট এর ফেনিলিথাইলেমিন যৌনানুভুতি বাড়ায়।
গরু বা খাসির কলিজায় পর্যাপ্ত পরিমানের জিংক থাকে যা কিনা সেক্স হরমোন বাড়ায়।
ডিমে ভিটামিন বি৫ ও বি৬ থাকে যাকিনা হরমোনের মাত্রা সুষম রেখে সেক্স পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়।
মিস্টি আলুর বিভিন্ন উপাদান সেক্স হরমোন বাড়ায়।
তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড থাকে। এ খাদ্য খেলে বেশীক্ষন মেলামেশা করার শক্তি পাওয়া যাবে।
গলদা চিংড়ীতে পর্যাপ্ত প্রোটিন, কপার, সেলেনিয়াম, ফসফরাস ও জিংক থাকে। সেক্স পাওয়ার বাড়াতে গলদা চিংড়ী মাছ খেতে পারেন।
3. দ্রুত বীর্যপাত পুরুষ মানুষদের জন্য একটি অভিশাপের সমান। সেক্সুয়াল এক্সাইটমেন্ট আসতে না আসতেই মনের অজান্তেই বীর্যপাত হয়ে যায়। এই সমস্যা থেকে উত্তরনের জন্য কিছু বিষয় অনুসরন করলে সমাধান আসে।
মদ, তামাকজাত দ্রব্য, নেশাজাতীয় ঔষুধ ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে।
মেলামেশার সময় কনডম ব্যাবহার করুন। বর্তমানে বাজারে লং লাস্টিং প্রোভেন কনডম পাওয়া যায়। কনডম ব্যাবহার করলে এমনিতেই সেনসেশন কম অনুভূত হয়। এতে করে দেরিতে বীর্যপাত হবে।
এনেস্থেটিক ক্রিম এবং স্প্রে লিংগে ব্যাবহার করতে পারেন। এগুলো সহবাস করার কিছুক্ষন পূর্বে ব্যাবহার করলে সেন্সেশন কমে গিয়ে বীর্যপাত দেরীতে হয়।
এই সমস্যার জন্য বিষণ্ণতা দায়ী থাকতে পারে। সেহেতু এন্টিডিপ্রেসেন্ট ঔষুধ খাওয়া যেতে পারে। শুধু ঔষুধের উপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাভাবিক প্রাণবন্ত জীবন যাপন করতে চেষ্টা করুন। মানুষিক প্রশান্তির কাছে কঠিন রোগও হার মানে।
এনালজেসিভ মেডিসিন দ্রুত বীর্যপাত প্রতিরোধ করে। তবে যেকোন ঔষুধ খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিবেন।
4. যুবতী মহিলারা সুন্দর এবং আকর্ষনীয় হওয়ার জন্য স্তনের আকার আকৃতি নিয়ে ভেবে থাকেন। মানুষের শরীরের অন্যান্য অংগের মত স্তন ও স্বাভাবিক প্রত্যঙ্গ। সকলেই চায় স্তন যুগল আকর্ষণীয় হোক, সুডৌল হোক। কেউ কেউ আছেন যাদের স্তন নিয়ে দুশ্চিন্তা করতে হয় না। তারা প্রকৃতিগত ভাবে সুডৌল স্তন পেয়ে থাকেন। আবার অনেকেই তাদের স্তনের আকার নিয়ে সন্তুষ্ট নন।
স্তনের আকার উন্নত করতে আপনি ঘরে বসে কয়েকটি নিয়ম পালন করতে পারেন। আশা করি ফলাফল পাবেন।
নিচের টিপ্সগুলো দেখুন-
১। প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০ মিনিট যাবত দেয়ালে দুই হাতের উপর ভর দিয়ে পুশ আপ করুন। এতে করে বুকের উপরে চাপ পড়ে সংকোচনের ফলে স্তনের পার্শ্ববর্তী মাংসপেশি ও টিস্যু সুগঠিত হয়।
২। Thai Traditional and Alternative Medicine এর মতে প্রতিদিন স্তন ম্যাসাজ করলে স্তন বড় ও সুডৌল হয়। দৈনিক দুই বার স্তনের চারপাশে অলিভ অয়েল বা এলমন্ড ওয়েল দিয়ে ১০০-৩০০ রাউন্ড চক্রাকারে ম্যাসাজ করুন।
৩। মেথিতে স্তন বড় করার কার্যকরী উপাদান থাকে যা কিনা ব্রেস্ট ইনলার্জিং হরমোনের কার্যকারিতা বাড়ায়। কতগুলো মেথির বীজ গুড়ো করে একটি কাপের মধ্যে নিন। এক ভাগ মেথি পাউডার ও তিন ভাগ পানি মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপর স্তনের পুরো অংশ পেস্ট দিয়ে আবৃত করে কমপক্ষে ১০ মিনিট ম্যাসাজ করুন। মেথির তেল পাওয়া গেলেও হয়, এই তেল বডি লোশনের সাথে মিশিয়ে ম্যাসাজ করতে পারেন।
5. ডেঙ্গুজ্বর সম্পর্কিত কিছু তত্থ্ব জেনে রাখা খুবই দরকার
ডেঙ্গু জ্বর মৃদু বা হাল্কা থেকে মারাত্মক ধরনের হয়ে থাকে। মৃদু ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে তীব্র জ্বর, শরীরে লালচে দানা এবং মাংসপেশী ও হাড়ে ব্যথা হয়। মারাত্মক ডেঙ্গু জ্বরে (ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর এবং ডেঙ্গু শক সিনড্রোম) মারাত্মক রক্তক্ষরণ, রক্তচাপ কমে যাওয়া এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।
ডেঙ্গুজ্বর একধরনের জীবাণু বাহিত একটি রোগ। ডেঙ্গুজ্বরের নির্দিষ্ট কোন চিকিৎসা নেই এবং অধিকাংশ রোগীই আরোগ্য লাভ করে। কিন্তু রোগের মারাত্মক ধরনে আক্রান্ত হলে রোগীকে অবশ্যই হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা করাতে হবে। এডিস নামে এক ধরনের মশার কামড়ে ডেঙ্গুজ্বর হয়। এই মশা সাধারণত দিনের বেলা কামড়ায়।
রোগের ধরন ও মাত্রা অনুযায়ী ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গ ভিন্ন হয়ে থাকে। ডেঙ্গুজ্বরের ক্ষেত্রে সাধারণত: যেসব লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যায় সেগুলো হলো-
তীব্র জ্বর-১০৫ ফারেনহাইট(৪০.৬ সে.) পর্যন্ত।
সারা শরীরজুড়ে লালচে দানা যা কিছুদিনের জন্য চলে গিয়ে পুনরায় দেখা দেয়।
তীব্র মাথা ব্যথা, পিঠ ব্যথা অথবা দুটোই।
চোখের পিছনে ব্যথা।
অস্থি সন্ধি এবং মাংসপেশীতে তীব্র ব্যথা।
বমি বমি ভাব এবং বমি।
ডেঙ্গু হেমোরেজিক জ্বর
এটি রোগের মারাত্মক একটি ধরণ। এই জ্বর মৃদু জ্বরের মতোই শুরু হয়। পরবর্তী কিছু দিনের মধ্যেই অবস্থা অধিকতর খারাপ হতে শুরু করে। এই জ্বরে ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি আরো যে সমস্যা গুলো হয়-
রক্ত জমাট বাঁধতে সাহায্যকারী রক্ত কোষের সংখ্যা কমে যায় ফলে
চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয় এবং নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়।
অনেক সময় মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
ডেঙ্গু শক সিনড্রোম
এটি ডেঙ্গুজ্বরের সবচেয়ে মারাত্মক ধরন। এই জ্বরে মৃদু ডেঙ্গুজ্বরের লক্ষণ ও উপসর্গের পাশাপাশি অন্যান্য যে সমস্যা গুলো হয়-
তীব্র পেটে ব্যথা
ঘন ঘন বমি
জ্ঞান হারানো
অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ
রক্তচাপ হঠাৎ কমে যাওয়া
এতে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে
ডেঙ্গুজ্বরের যে কোন লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা দেয়ার সাথে সাথে ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। সাধারণত লক্ষণ দেখেই ডাক্তাররা বুঝতে চেষ্টা করেন ডেঙ্গু হয়েছে কিনা,তবে এর পাশাপাশি রক্ত পরীক্ষাও করা হয়ে থাকে। রক্ত পরীক্ষা করে রোগের ধরন ও মাত্রা বুঝা হয়। ডেঙ্গু হলে কি করবেন?
বেশি করে তরল জাতীয় খাদ্য গ্রহন
প্যারাসিটামল ওষুধ সেবন
হাসপাতালে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা
দরকার হলে শিরাপথে স্যালাইন দেয়া
রক্তচাপ পরীক্ষা
রক্ত ঘাটতি পূরণের জন্য রক্ত দেয়া
বমি এবং জ্বর থেকে পানিশূণ্যতা পূরণের জন্য রোগীকে বেশি করে স্যালাইন ও অন্যান্য তরল খাবার খেতে দিতে হবে।
আক্রান্ত রোগীকে মশারীর ভিতর রাখতে হবে।
কখনোই নিজে থেকে কোন ব্যথানাশক ঔষধ খাবেন না, তাতে ডেঙ্গুজ্বরের জটিলতা বেড়ে যেতে পারে।
প্রতিরোধ
ডেঙ্গুজ্বরের জীবাণু বহনকারী মশা দিনের বেলায় কামড়ায়। তাই দিনের বেলা মশারী টাঙিয়ে অথবা কয়েল জ্বালিয়ে ঘুমাতে হবে।
ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীকে অবশ্যই সবসময় মশারীর মধ্যে রাখতে হবে যাতে করে রোগীকে কোন মশা কামড়াতে না পারে।
বাড়ির আশেপাশের ঝোপঝাড়, জঙ্গল পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
বাড়ির আশেপাশে ভাঙ্গা ফুলের টব, ভাঙ্গা ফুলদানি, অব্যবহৃত কৌটা, ডাবের খোসা, ভাঙ্গা বেসিন, অব্যবহৃত টায়ার, মুখ খোলা পানির ট্যাঙ্ক, প্লাস্টিকের প্যাকেট, পলিথিন এবং ঘরের আশেপাশে যেন পানি না জমে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
একটি নতুন সমীক্ষা দেখিয়েছে যে সব শুক্রানু ডিম্বানুকে নিষিক্তকরনের আগে বেশি সময় বেঁচে থাকে, তারা বাকি শুক্রানুর তুলনায় অনেক স্বাস্থ্যবান সন্তানের জন্ম দিতে পারে।
সুইডেনের ইস্ট অ্যাঙ্গলিয়া এবং উপ্পাসালা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সমীক্ষা দেখিয়েছে, যে শুক্রাণুর আয়ু বেশি সে অনেক বেশি সুস্থ সবল সন্তানের জন্ম দিতে পেরেছে।
সমীক্ষায় গবেষকেরা একটি পুরুষ জেব্রাফিশের উপরে পরীক্ষা করে দেখিয়েছেন, যে এই ব্যবস্থা মানব প্রজনন ব্যবস্থার ক্ষেত্রেও একইভাবে কাজ করে।
এ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মুখ্য গবেষক ডঃ সিমলার বলেন একজন পুরুষ প্রতি বার কয়েক হাজার মিলিয়ন শুক্রানু মুক্ত করেন। তার মধ্যে থেকে যে কোনও একটি শুক্রাণু শেষ পর্যন্ত ডিম্বাণুকে নিষিক্ত করতে পারে।
সিমলার আরো বলেন প্রতিবার মুক্ত হওয়া শুক্রাণু শুধুমাত্র আকার এবং পারফর্ম্যান্সের দিক থেকেই নয়, জেনেটিক দিক থেকেও পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্য বহন করে। এতদিন পর্যন্ত ভাবা হতো যে কোন শুক্রানু ডিম্বানু কে নিষিদ্ধ করলো তাতে কিছু আসে যায় না শুধুমাত্র নিষিক্তকরণটাই জরুরি। তবে এখন দেখা যাচ্ছে যে কোন নির্দিষ্ট শুক্রানু ডিম্বানুকে নিষিক্ত করবে তার উপরেই নির্ভর করে সন্তানের স্বাস্থ্য কেমন হবে।
লিঙ্গের সম্মুখভাগের সংবেদনশীলতার কারণে নিজের অস্বস্তি ছাড়াও আরেকটি সমস্যা দেখা দিতে পারে, যা আবার মানসিক চাপেরও কারণ হতে পারে। লিঙ্গের অগ্রভাগের এই শিরশিরানির প্রভাব পড়তে পারে আপনার যৌন জীবনেও। ডাঃ আশিষ মিত্তল জানান যে, এই সমস্যা পুরুষদের ইরেকশন ক্ষমতা। বেলেনাইটিস নামেও পরিচিত এই রোগ আসলে একটি সংক্রমণ, যার ফলে মানুষ শরীরের নানা অংশে সংবেদনশীলতা অনুভব করে, যার মধ্যে লিঙ্গের অগ্রভাগের শীর্ষ অংশটিও অন্তর্ভুক্ত। এই সমস্যা নিয়মিত যত্ন এবং কিছু ওষুধ ব্যবহারেই সেরে যেতে পারে। যাঁদের লিঙ্গের অগ্রভাগের চামড়া ছোটবেলায় ছেদন হয়ে থাকে, তাঁদের এই সমস্যার সম্ভাবনা নেই।
লিঙ্গের এই সংবেদনশীলতার ফলে লাল হয়ে যাওয়া, ব্যাথা, চুলকানি, প্রদাহ এবং স্রাবের মতো সমস্যা দেখা যায়। আপনার লিঙ্গ নিয়মিত পরিষ্কার রাখুন, কারণ চামড়ার ভাঁজের মধ্যে এই স্রাব, তেল বা কোষ আটকে থেকে সংক্রামণ হতে পারে।
আলিয়া ভট্টের লেহঙ্গা অর্ডার দেওয়ার খবর অনেক দিন ধরেই মিডিয়াতে ঘুরছে তবে আগামী এপ্রিলেই নাকি আলিয়া আর রণবীর এর বিয়ে হতে চলেছে। এমনই গুঞ্জন বলিউডের অন্দরে। রণবীর কাপুরের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রেম করলেও কেউ আজ পর্যন্ত প্রকাশ্যে সম্পর্কের কথা স্বীকার করেননি তাঁরা। তবে সুত্রের খবর আগামী এপ্রিলে কাপুর বাড়িতে সানাই বাজবে। শোনা যাচ্ছে, শুভবিবাহের লেহঙ্গাও অর্ডার দিয়ে দিয়েছেন আলিয়া ভট্ট।তবে যাইহোক আলিয়া আর রণবীর বিয়ের খবরে বলিউডে গুঞ্জন বাড়ছে তা বলাই যায়।
৯. ভয়ঙ্কর গিরিগিটি কমোডো ড্রাগন দর্শন বন্ধ
বিশ্বের বিরল সমস্ত প্রাণীদের রক্ষা করার জন্য বিভিন্ন আইন থাকলেও এবার ভয়ঙ্কর গিরগিটি কমোডো ড্রাগনকে রক্ষা করার জন্য নতুন আইন আনল ইন্দোনেশিয়া সরকার । কমোডো ড্রাগন প্রচন্ড ভয়ঙ্কর প্রজাতির। দু চোখে তাদের ক্রূরতা ঝরে পড়ে। প্রবল শক্তিতে ছিন্নভিন্ন করে দেয় প্রতিপক্ষকে। বিরাট-বিস্ময় এই বিষ দানব অর্থাৎ কমোডো ড্রাগনকে রক্ষায় কড়া পদক্ষেপ ইন্দোনেশিয়া সরকারের। যে সব দ্বীপগুলিতে এই প্রাণীদের বসবাস সেখানে পর্যটকদের আনাগোনা বন্ধ করা হচ্ছে আপাতত।
সরকারের এই কঠিন সিদ্ধান্তে স্থানীয় পর্যটন শিল্প ও তার সঙ্গে জড়িত অনেকের জীবনে নেমে এসেছে দুশ্চিন্তা। ধাক্কা খাচ্ছে অর্থনীতি। তবুও সরকার কড়া ভূমিকা নিয়েই এই ড্রাগনদের রক্ষায় তৎপর। বিবিসি জানাচ্ছে এই খবর।
কমোডো ড্রাগনের মতো প্রাণীদের দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার সংবাদটি আন্তর্জাতিক পর্যটন শিল্পের ক্ষেত্রে আলোড়ন ফেলেছে। তবে সরকারের দাবি, যে হারে পর্যটক আসছিলেন তাতে এই প্রাণীদের জীবন ধারণে তৈরি হয়েছিল প্রতিবন্ধকতা। সেই কারণেই কড়া সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে।বালি-সুমাত্রার মতো বিখ্যাত দ্বীপ নিয়ে তৈরি ইন্দোনেশিয়ার আরও একটি দ্বীপ রয়েছে কোমোডো। এই দ্বীপ ও সংলগ্ন কিছু দ্বীপে থাকে বিশালাকার বিষাক্ত গিরগিটি শ্রেণির প্রাণী। প্রবল শক্তিশালী ও হিংস্রতায় ভরপুর এই ভয়ঙ্কর প্রাণীদের নাম কমোডো ড্রাগন। মনে করা হয় কাল্পনিক ড্রাগনের তারই উত্তর প্রজন্ম।
বিবিসি রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় গিরগিটি জাতীয় প্রাণী। এদের দাঁত ধারালো, লম্বা লেজ এবং এর কামড়ে বিষ রয়েছে। পূর্ব ইন্দোনেশিয়ার ছোট বড় দ্বীপে তারা থাকে নিজেদের মতো। এদের দেখতে প্রতিবছর হাজার হাজার টুরিস্ট ভিড় করেন। ফলে প্রাণীগুলির জীবনে বেশকিছু নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
স্থানীয় প্রশাসক ভিক্টর বুংটিলু লাইসকোডাট জানিয়েছেন, এই দ্বীপ শুধুই নাম কমোডো ড্রাগনের জন্য। মানুষের জন্য নয়। সেজন্যেই এখানে কোন মানবাধিকার কাজ করবে না। কাজ করবে শুধু প্রাণী অধিকার। তিনি জানান ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ এই দ্বীপ অল্প কিছু দর্শনার্থীর জন্য খুলে দেয়া হবে। দ্বীপের বাসিন্দাদেরও সেখান থেকে চলে যেতে হবে।
10. পকসো আইন সংশোধনী বিল নিয়ে আলোচনার সময়ে রাজ্য সভায় নিজের যৌন হেনস্থা নিয়ে মুখ খুললেন ডেরেক ও’ ব্রায়েন। তিনি বলেন ১৩ বছর বয়সে ভিড়ে ঠাসা বাসে তাঁর সঙ্গে এই ঘটনা ঘটে। এ ধরনের ঘটনা নিয়ে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তৃণমূল কংগ্রেসের এই সাংসদ। এই বিরোধী নেতার মননশীলতার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেন কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি।
রাজ্যসভায় তিনি বলেন, “এটা খুবই পরিষ্কার যে, বাড়ি থেকেই এই ধরণের নির্যাতন শুরু হয়। মানুষের এ বিষয়ে জনসমক্ষে কথা বলা উচিত এবং আলোচনা করা। এই ধরণের নির্যাতন সম্পর্কে সাধারণ মানুষ কথা বললে শিশুরাও সাহস পাবে।” পাশাপাশি ডেরেক সমস্ত সাংসদের আহ্বান জানান তাঁরা যেন শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের বিষয় নিয়ে সরব হন।
নারী ও শিশুকল্যাণ সম্পর্কিত আইন পকসো সংশোধনী বিল ২০১৯ নিয়ে বিতর্কের ঝড় ওঠে রাজ্যসভায়। সংশোধিত এই বিলে শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ড যোগ করা হয়েছে। যা সমর্থন করেছেন ডেরেক ও’ব্রায়েন।
তৃণমূল সাংসদ তাঁর বক্তব্যে বলেন যে, “আমি যা বলতে চাই, তা অনেক গর্বের সঙ্গে, আমি সবাইকে জানাতে চাই। আমার পরিবারও জানে, এবং আমি মনে করি, দেশবাসীরও জানা দরকার। যখন বয়স ছিল ১৩, সেই সময় কলকাতায় টেনিস প্র্যাকটিস করে বাসে ফেরার পথে আমি যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম, আমি শর্ট প্যান্ট এবং টি-শার্ট পড়েছিলাম, আমি একটা ভিড় বাসে উঠেছিলাম, যৌন হেনস্থার শিকার হয়েছিলাম। আমি সেই ঘটনা সম্পর্কে কিছু অনেকদিন কাউকে কিছু বলতে পারিনি। আমাদের উচিত এই ব্যাপারে সরব হয়ে মানুষের কাছে পৌঁছানো। এই বিষয়ে যতবেশী কথা বলা হবে, তত বেশী শিশুরা সুরক্ষিত থাকবে।”কেন্দ্রীয় নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এই সাংসদের প্রশংসা করে তাঁর নিজের বক্তব্য শুরু করেন। তিনি বলেন, ১৩ বছর বয়সে হওয়া ঘটনার কথা ৪৬ বছর পর তিনি ভাগ করে নিলেন, তিনি বুঝিয়ে দিলেন যৌন হেনস্থা শিশুমনে কেমন ছাপ ফেলে যায়।”
দীর্ঘ বিতর্কের পর রাজ্যসভায় এই বিল পাস হয়। বিলের সংশোধনীতে ধর্ষণের ক্ষেত্রে ১০ বছর থেকে শাস্তির পরিমাণ বাড়িয়ে ২০ বছর করা হয়েছে।
11. বিশ্বকাপ খেলেছে দু-বার। কিন্তু টেস্টে সেভাবে নিজেকে এখনও মেলে ধরতে পারেনি আয়ারল্যান্ড। এবার তাদের সেই স্বপ্ন পূরণ হতে চলেছে।
অ্যাসেজ সিরিজের আগে কার্যত পূর্ণ শক্তির দল নিয়েই আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছিল ইংল্যান্ড। কিন্তু আইরিশ বোলারদের দাপটে নজিরবিহীন লজ্জার সম্মুখীন হতে হল জো রুট-জেসন রয়দের। আয়ারল্যাণ্ডের বিরুদ্ধে বিশ্বচ্যাপমিয়নদের এমন অবস্থা হবে কেউ ভাবতে পারেনি। আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে একমাত্র টেস্টে খেলতে নেমে মাত্র ৮৫ রানে গুঁড়িয়ে গেল ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংস।এ দিন আয়ারল্যান্ডের বিরুদ্ধে টস জিতে ব্যাটিং নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। আয়ারল্যান্ডের টিম মুরতাঘের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের জবাব ছিল না ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের কাছে। স্বাভাবিক ভাবে তাঁর জোরালো বোলিং এর সামনে তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পরে ইংল্যান্ডের ব্যাটিং লাইন আপ। যার ফলস্বরুপ ৮৫ রানেই শেষ হয় ইংল্যান্ডের ইনিংস। আয়ারল্যান্ডের পেসার টিম মুরতাগ ১৩ রান দিয়ে ৫ উইকেট নিয়ে একার হাতেই ধ্বংস করেছেন বিশ্বজয়ীদের। সতীর্থ মার্ক অ্যাডেয়ারও তিন উইকেট তুলে নিয়ে তাঁকে যোগ্য সঙ্গত দিয়েছেন।
12. শুধু ভারতবর্ষ নয়, পৃথিবীর বৃহত্তম ওভারহেড রিজার্ভার হলো কলকাতার ‘টালা ট্যাঙ্ক’। ঐতিহাসিক ‘টাইটানিক’ জাহাজ যে লোহা দিয়ে তৈরি হয়েছিল ‘টালা ট্যাঙ্ক’ তৈরি হতেও সেই রকম লোহা ব্যবহৃত হয়েছিল।
১৭১৭ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি মোঘল সম্রাট ফারুকশিয়ার এর কাছ থেকে ৩৮ টি গ্রাম অধিগ্রহণ করেছিল। যার মধ্যে ৩৩ টি ছিল বর্তমান কলকাতায়। আস্তে আস্তে কলকাতা যখন শহরে পরিবর্তিত হতে থাকলো এবং উন্নত থেকে উন্নততর হতে থাকলো তখন স্বাভাবিক ভাবেই প্রথম এবং প্রাথমিক কাজ হয়ে উঠলো নাগরিকদের সুস্থ পানীয় জল সরবরাহ করা। কারণ যেকোনো সুস্থ বসতি এবং জনজীবন গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে জলের গুরুত্ব সবার আগে। সেইসময় হেদুয়া, ভবানীপুর এবং ওয়েলিংটন এ পুকুর কেটে জল সরবরাহ শুরু করা হয়। এরপর শহর বড় হতে লাগলো, বড় হতে লাগলো জনজীবন, জনবসতি, তাই নাগরিক দের চাহিদা অনুযায়ী স্বাস্থকর জল সরবরাহ করার জন্য মিস্টার ডেভেরাল ১৯০১ সালে একটি ট্যাঙ্ক নির্মাণ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন এবং কলকাতা কর্পোরেশন দ্বারা এই প্রস্তাব গৃহীত হয় ১৯০২ সালে। ১৯০৩ সালে ডব্লিউ বি ম্যাককাবে এই বর্তমান ‘টালা ট্যাঙ্ক’-এর সামান্য কিছু পরিবর্তন করেন আর তাতে তখনকার দিনে টাকার পরিমান দাঁড়ায় ৬৯ লক্ষ ১৭ হাজার ৮৭৪ টাকা।
আজ যেখানে ‘টালা ট্যাঙ্ক’ দাঁড়িয়ে আছে সেখানে এক কালে প্রচুর পুকুর ছিল, এই পুকুর ভরাট করে তৈরি করা হয়েছিল এই টাঙ্কটি। এই ট্যাঙ্কের জায়গা অর্থাৎ ৪৮২ একর জমি দান করেছিলেন বাবু খেলাদ ঘোষ নামক এক ব্যক্তি। তাঁরই জমিতে তৈরি হয়েছিল প্রায় ১০ তলা বাড়ির সমান এই ট্যাঙ্ক। ১৯০৯ সালে তৎকালীন গভর্নর স্যার এডওয়ার্ড বেকার এই ট্যাঙ্কের শিলান্যাস করেন এবং ১৯১১ সালে নাগরিকদের জল সরবরাহ করার জন্য খুলে দেওয়া হয় এই ট্যাঙ্কটি।
টালা ট্যাঙ্ক নির্মাণের জন্য প্রায় ৮৫০০ টন লোহা লেগেছিল।যা ইংল্যান্ডের সুদূর ম্যাঞ্চেস্টার থেকে জাহাজে করে আনা হয়েছিল। মাটি থেকে ১১০ ফুট উঁচুতে অবস্থিত ওই ট্যাঙ্ক আক্ষরিক অর্থেই এক বিস্ময়! সল্টলেক স্টেডিয়ামের মাপ হল ২৮০ ফুট বাই ২৮০ ফুট। সেখানে টালা ট্যাঙ্কের দৈর্ঘ্য-প্রস্থের মাপ ৩২১ ফুট বাই ৩২১ ফুট! অর্থাৎ, ফুটবল মাঠের থেকেও আয়তনে বড় ওই জলাধার! ২১৫টি লোহার স্তম্ভের উপরে দাঁড়ানো ট্যাঙ্কটির উচ্চতা ২০ ফুট। আশ্চর্য্য বিষয় হলো পুরোপুরি কাঠের পাটাতন এর উপর কোনো স্ক্রু ছাড়ার ৩২১ ফুট×৩২১ ফুট বর্গাকার এই বিশালাকার টাঙ্কটি এখনোও গর্বের সাথে মাথা উঁচু করে মানুষকে জল সরবরাহ করে যাচ্ছে। প্রথমে ‘টালা ট্যাঙ্ক’-এর ছাদটি ছিল চুনসুরকির, পরে ছাদে ১৪ ইঞ্চি পুরু কংক্রিটের ঢালাই দিয়ে তৈরি করা হয়।
জনশ্রুতি বলছে, শুরুর দিকে নাকি এই জল খেতে চাননি শহরবাসী। কারণ, তখন ধারণা ছিল, গঙ্গার জল পবিত্র। সেই জল মেশিন ও পাইপের ভিতর দিয়ে আসার ফলে তার পবিত্রতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে! পাঁচ বছর তাই টালা ট্যাঙ্কের জল ব্রাত্যের তালিকায় ছিল। ব্রিটিশরা শেষ পর্যন্ত বোঝাতে পেরেছিল যে, টালা ট্যাঙ্কের জল ব্যবহার না করে উপায় নেই। সে দিন থেকে এখনও পর্যন্ত টালা ট্যাঙ্কের জল সত্যিই প্রাণবিন্দুসম! উত্তর ও মধ্য কোলকাতা তো বটেই, ভবানীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত এই প্রাণধারা।
13. শহর কলকাতার আনাচে কানাচে জড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। বহু পর্জটক আজও আসেন সেই সব দর্শনীয় স্থানের টানে। এক সময়ে সেই কলকাতার স্মৃতি আজও বহন করে আজকের এই প্রিন্সেপ ঘাট। যদি কলকাতা ভ্রমণে কিছু সময় একান্তে কাটাতে চান, তবে প্রিন্সেপ ঘাট আপনার জন্য আদর্শ স্থান। প্রিন্সেপ ঘাট হুগলী নদীর তীরে ব্রিটিশ শাসনামলে নির্মিত। প্রিন্সেপ ঘাট কলকাতার সচেয়ে পুরনো দর্শনীয় স্থানগুলির একটি। সপ্তাহান্তে অনেক মানুষ এখানে বেড়াতে আসেন। নদীর গা ঘেঁষে রাস্তায় খাবারের দোকান রয়েছে। ঘাটের কাছে চল্লিশ বছরের পুরনো আইসক্রিম ও ফাস্ট ফুড বিক্রির একটি কেন্দ্র আছে। এখানে অনেক মানুষ আসেন। তরুণদের মধ্যে এই কেন্দ্রটি বেশ জনপ্রিয়। এখান থেকে অনেকে নদীতে নৌকায় প্রমোদভ্রমণে যান। ২০১২ সালের ২৪ মে প্রিন্সেপ ঘাট থেকে বাজে কদমতলা ঘাট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার পথে সুন্দর নদিতীরের উদ্বোধন করা হয়েছে। এই অংশটি আলোকমালা, বাগান, প্রমোদপথ, ফোয়ারা দিয়ে সাজানো হয়েছে এবং এই অংশের ঘাটগুলির সংস্কার করা হয়েছে।
কলকাতাবাসী জেমস প্রিন্সেপের স্মৃতির স্মরণে এ ঘাট নির্মাণ করে। বিকেলের পরন্ত রোদ সাথে গঙ্গার পাড়ের নিস্তব্ধতা উপভোগ করতে অনেকেই আসেন এখানে। শহর কলকাতার অন্যতম স্মরনীয় স্থান এই প্রিন্সেপ ঘাট। কলেজ পড়ুয়া থেকে শুরু করে বিদেশী পর্জটক অনেকেই ছুটে আসেন এই স্থানে। প্রতিদিনের ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপে প্রান ওষ্ঠাগত। প্রিয় শহরের বুকেই রয়েছে এমন কয়েকটি জায়গা যেখানে পৌঁছালে আপনার ক্লান্তি দূর হতে বাধ্য। প্রিন্সেপ ঘাট তাঁর মধ্যে অন্যতম।
14. মানব সভ্যতা এগিয়ে গেছে বহুদূর। আধুনিকতার আলোয় পুরাতনকে ফেলে নতুন রীতিনীতিকে গ্রহণ করেছে মানুষ। ‘মধ্যযুগীয়’ কিংবা ‘বর্বর’ আখ্যা দিয়ে বহু আদি প্রথা ও রীতিনীতিকে পরিত্যাগ করেছি আমরা। তারপরও পৃথিবীর অনেক জায়গায় এখনো রয়ে গেছে সেই বর্বর প্রথাগুলোর গুমোট অন্ধকার। কোথাও ধর্মের নামে, আবার কোথাও প্রথা ধরে রাখার নামে চালু রাখা হয়েছে ‘অমানবিক’ কর্মকাণ্ড। ঠিক তেমনই একটি অমানবিক প্রথা চালু আছে ভারতের মহারাষ্ট্রে বসবাসরত কাঞ্জারভাট আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে। সেখানকার নারীদের আজও বিয়ের প্রথম রাতে বা বাসর ঘরে ‘কুমারিত্ব পরীক্ষা’ দিতে হয়।
এই কুমারীত্ব পরীক্ষার পদ্ধতি আদিম যুগের যেকোনো বর্বর প্রথাকেও হার মানাবে। সেখানে বরকে যৌন উত্তেজক ঔষধ, পর্নগ্রাফি প্রদর্শন ও সমাজের জ্যেষ্ঠদের দ্বারা ‘প্রশিক্ষণ’ দিয়ে বাসর ঘরে পাঠানো হয়। বাসর ঘরের জন্য নির্ধারণ করা হয় একটি ভাড়া করা হোটেল। সেই হোটেলের বিছানায় বিছানো হয় ধবধবে সাদা একটি চাদর। স্বামী-স্ত্রীর মিলনের ফলে সেই সাদা চাদর যদি ভিজে লাল হয়ে যায়, তবে প্রমাণিত হয় নববধূর কুমারীত্ব বহাল আছে।
আর যদি নববধূ এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে ব্যর্থ হন তবে তাকে প্রকাশ্যে অপমান-অপদস্থ করা হয়। সবার সামনে ‘অসতী’ আখ্যা দিয়ে তাকে জুতাপেটা কিংবা গণপিটুনি দেয়ার মতো ঘটনা ঘটে। আর বিবাহ বিচ্ছেদ হয় হোটেল রুমের কথিত বাসর ঘরেই। স্ত্রী ভাগ্য জোটে না তার। এক ভয়াল অন্ধকার নেমে আসে তার জীবনে।
তবে স্বামী সাক্ষ্য দিলেই হবে না। সমাজের ক্ষমতাধর পঞ্চায়েত কমিটির সদস্যরা সেই হোটেলের সামনে অপেক্ষমাণ থাকেন। তারাই সেই সাদা চাদর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয়। শাস্তি নির্ধারণ কিংবা বিয়ের বৈধতা প্রদানের ক্ষমতাও তাদের হাতে কুক্ষিগত থাকে।
15. ভারতে রয়েছে আফ্রীকান আদিবাসী সম্প্রদায়ের এক গোষ্ঠী। জনগোষ্ঠীটির নাম 'সিদ্দি'। এই আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব আফ্রিকায়। কিন্তু খুব কম ভারতীয় তাদের সম্পর্কে জানেন। জনসংখ্যায় তারা কমপক্ষে ২০,০০০। কোনো কোনো পরিসংখ্যানে এই সংখ্যা প্রায় ৭০,০০০ পর্যন্ত দেখা যায়। জনগোষ্ঠীটির নাম 'সিদ্দি'। তারা নিজেদের আফ্রিকার বানতু আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত বলে মনে করে।
প্রায় বিচ্ছিন্ন এই জনগোষ্ঠীটি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যে বেশ কয়েকটি গ্রামে ছোট ছোট দলে বিভক্ত হয়ে বসবাস করে। এছাড়াও ভারতের মহারাষ্ট্র, গুজরাট ও হায়দ্রাবাদ শহরের কিছু কিছু স্থানে তাদের বসবাস রয়েছে (ভারতের বাইরে পাকিস্তানে তাদের একটি বড় জনগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে)।
বানতু জনগোষ্ঠীর এই সদস্যরা ৭ম শতকে আরব বণিকদের দাস হিসেবে ভারতীয় উপমহাদেশে আগমন করেন। আরবদের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে পর্তুগিজ ও ব্রিটিশ শাসকরাও বানতুদের দাস হিসেবে আফ্রিকা থেকে ভারতে নিয়ে আসে। দাস ছাড়াও স্বাধীনভাবে অনেক বানতু বিভিন্ন সময় ভারতে আসেন। পেশায় তারা ব্যবসায়ী ও সৈনিক ছিলেন।
তবে পর্তুগিজদের আগমন ঘটলে বানতুদের স্বাধীনভাবে ভারত আসার পথ বন্ধ হয়ে যায়। ১৮-১৯ শতকের মধ্যে যখন দাসপ্রথা রহিত হতে থাকে, তখন আফ্রিকা থেকে আসা এসব বানতু সদস্য বিপদে পড়ে যান। তারা দলে দলে জঙ্গলে পালাতে থাকেন। যারা জঙ্গলে পালাতে পারেননি, তাদের ধরে ধরে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়।
এসব আফ্রিকান দাসরা মূলত 'হাবশি' নামে পরিচিত ছিল। তারা আবিসিনিয়া বা বর্তমান ইথিওপিয়া অঞ্চলে বসবাস করতেন। হাবশি কিংবা বানতু না হয়ে তারা 'সিদ্দি' নাম ধারণ করার পেছনে ইতিহাসে দুটি কারণ পাওয়া যায়। হাবশি কিংবা বানতু না হয়ে তাদের ‘সিদ্দি’নাম ধারণের পেছনে ইতিহাসে দু’টি কারণ পাওয়া যায়।প্রথমত, যখন উমাইয়া খেলাফতের সেনাপতি হিসেবে মোহাম্মদ বিন কাসিম ভারত বিজয় করেন, তখন তিনি আফ্রিকার একটি সৈন্যবাহিনী সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন।সেসব আফ্রিকান সৈন্য ছিল বানতু জনগোষ্ঠীর সদস্য। মোহাম্মদ বিন কাসিম ভারত বিজয় করলে তারা রাজকীয় মর্যাদা লাভ করেন। এসময় তাদেরকে ‘সাইয়্যেদ’উপাধি প্রদান করা হয়। আরবিতে সাইয়্যেদ শব্দের অর্থ ‘সম্মানিত’।এই সাইয়্যেদ শব্দ বিবর্তিত হয়ে ‘সাইয়িদ’ ও পরে ‘সিদ্দি’ নামে উপনীত হয়। সেসব সৈন্য ভারতে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করলে বিভিন্ন সময় দাস হিসেবে আসা বানতুরাও তাদের সাথে মিশে যান এবং একটি বড় জনগোষ্ঠীতে পরিনত হন।
১৬. ব্রাজিলের আদিবাসী ছাড়া সম্পূর্ণরূপে অন্যদের জন্য নিষিদ্ধ এই জঙ্গল
প্রায় দুই বিলিয়ন বর্গ কিলোমিটার জুড়ে বিস্তৃত আমাজন রেইনফরেস্ট একটি বিশাল প্রাকৃতিক জঙ্গল। ল্যাটিন আমেরিকার প্রায় ১১টি দেশ জুড়ে ছড়িয়ে আছে এই বিশাল জঙ্গলটি। এই পুরো জঙ্গলটি যদি একটি দেশ বলা যেত, তাহলে এটি হতো পৃথিবীর নবম বৃহৎ দেশ। ব্রাজিলের এই আমাজন জঙ্গলের ৭৭ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা আদিবাসী ছাড়া সম্পূর্ণরূপে অন্যদের জন্য নিষিদ্ধ । অনির্দিষ্টকাল ধরে এ নিয়মটি প্রচলিত।
রহস্যময় এই আমাজন এর জঙ্গলে এমন সব এলাকা রয়েছে যেখানে কি থাকতে পারে তা সভ্যজগতের অনেকেরই অজানা। সেরকমই একটি এলাকা হল ভ্যাল ডো জাভারি রিজার্ভেশন। নাম শুনেই বুঝতে পারছেন এটা কোন এক ধরনের সংরক্ষিত এলাকা, ঠিকই ধরেছেন আপনি।
ভ্যাল ডো জাভারি রিজার্ভেশন এলাকায় পাওয়া গেছে এমন কিছু স্থানীয় আদিবাসীদের গ্রাম, যাদের বাইরের পৃথিবী নিয়ে বিন্দুমাত্র ধারনা নেই। তারা এখনও সেই প্রাচীন আমলের লোক হয়েই আছে, চিন্তা চেতনা, সংস্কৃতি, আচার-বিচার সহ সব কিছু নিয়ে তারা এখনও ঠিক প্রাচীন পৃথিবীতেই আটকে আছে। তাদের এলাকাটি রয়েছে আমাজন এর ব্রাজিল অংশে।
আকাশ থেকে চালানো সার্ভেতে দেখা যায় প্রায় চোদ্দটি গ্রাম রয়েছে যারা জীবন যাপনের জন্য সম্পূর্ণরূপে কৃষি এবং আমাজন জঙ্গলের উপরে নির্ভরশীল। তাদের জীবন-যাপন ও সংস্কৃতি বাইরের প্রভাব থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত রাখতে তাই ব্রাজিল কর্তৃপক্ষ এই বিশাল এলাকাটিকে সংরক্ষিত এলাকা ঘোষণা দিয়ে সেটাতে বাইরের কারও প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে।
এই মানুষগুলোর এখনও কোন ধারনা নেই কিভাবে বাইরের পৃথিবী গত একশ বছরে বদলে গেছে। তারা এখনও সেই প্রাচীন আমলের পদ্ধতিতে কৃষি কাজ, নদীতে ভেলা ও ক্যানু ভাসিয়ে মাছ ধরা ও আমাজন জঙ্গল থেকে পাওয়া পশু শিকার করেই কাটিয়ে দিচ্ছে। মাঝে মাঝে গোপনে আকাশ থেকে ও দূর থেকে তাদের উপরে পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। সেখান থেকেই পাওয়া এই ছবিগুলো। একদিন হয়ত এই বাঁধা থাকবে না, আধুনিক মানুষ এবং আধুনিকতার আশীর্বাদ কিংবা অভিশাপ তাদেরও স্পর্শ করবে। ততদিন পর্যন্ত থাকুক তারা তাদের মত করেই আদিম সরলতায়।
১৭. গুয়াজাজারা আদিবাসীরা চায় না আধুনিক সভ্যতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কস্থাপন
আমাজন জঙ্গলের গভীরে বসবাসরত আদিবাসীদের সঙ্গে জোর করে সম্পর্ক তৈরির প্রচেষ্টা হবে গণহত্যার শামিল। সম্প্রতি আদিবাসীদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা সংগঠনের পক্ষ থেকে ওই বনের একটি আদিবাসীদের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে আমাজনের গভীরে বসবাসকারী গুয়াজাজারা আদিবাসী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে এ আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
আধুনিক সভ্যতা ও মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন আমাজনের গভীর জঙ্গলের এসব আদিবাসীদের বিভিন্ন সেবা দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের দুজন নৃবিজ্ঞানী। এ দুই বিজ্ঞানী গভীর জঙ্গলে গত দুই বছর ধরে সময় কাটিয়েছেন। অধ্যাপক কিম হিল ও রবার্ট ওয়াকারের প্রস্তাব, আদিবাসীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা ও শিক্ষিত করে গড়ে তোলা দরকার। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের জঙ্গলে প্রবেশ করার আগেই এটা করতে হবে।
তাদের এ প্রস্তাবের বিরোধিতা করে আসছে সার্ভাইভাল ইন্টারন্যাশনাল নামক একটি দাতব্য সংস্থা। তারা সম্প্রতি একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। এতে আমাজন বনের ব্রাজিলের উত্তর-পূর্ব দিকের অংশে বসবাস করেন এমন একটি আদিবাসীদের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। গুয়াজাজারা নামক আদিবাসী গোষ্ঠীর পক্ষ থেকে দাবি সতর্ক করা হয়, জোর করে আধুনিক সভ্যতা ও মানুষের সঙ্গে যদি তাদের সম্পর্ক স্থাপন করা হয় তাহলে এটা গণহত্যার শামিল হবে।
ভিডিওতে আদিবাসীদের পক্ষ থেকে জমি ও জঙ্গল কেড়ে নেওয়ারও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়।
সার্ভাইভাল ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক ফিওনা ওয়াটসন জানান, রাষ্ট্রের অনুপস্থিতিতে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার বিষয়টি নিজেরাই দেখছে আদিবাসী গোষ্ঠীটি। এর আগেও এরকম জোর করে সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। ওই সব ক্ষেত্রেও গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে ওয়াকার ও হিলকেও একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে এই আশঙ্কার কথাও জানানো হয়েছে।
18. ডাচ অভিনেতা রজার হাউয়ার ‘ব্লেড রানার’ ছবিতে রয় বাট্টি এর অভিনয় করেছিলো। ১৯৮২ সালের বিখ্যাত কল্প-বিজ্ঞান সিনেমা ‘ব্লেড রানার’। সেই অভিনেতা রজার হাউয়ার আর নেই। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর।রজারের এজেন্টের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, খুব অল্প দিন রোগে ভুগে নেদারল্যান্ডসে শুক্রবার মারা যান এই অভিনেতা। তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে বুধবার।
ব্লেড রানার’ ছবিতে রয় ব্যাটি নামের সিনথেটিক মানুষের চরিত্রে ছিলেন রজার হাউয়ার। রিডলি স্কটের পরিচালনায় মূল চরিত্রে অভিনয় করেন হ্যারিসন ফোর্ড।ছবির শেষে নায়ক ও ভিলেন মুখোমুখি হয়। সেখানে রজারের দেওয়া সংলাপ আজও মনে রেখেছেন অনেক দর্শক। সংলাপটির শুরুর লাইন ছিল, “আমি এমন অনেক কিছু দেখি যা মানুষ বিশ্বাস করবে না।”
বিশেষ করে হরর ও ভ্যাম্পায়ার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য রজার হাউয়ারের পরিচিতি রয়েছে। ‘ড্রাকুলা থ্রিডি’ সিনেমায় ভেন হেলসিং বা মিনি সিরিজ ‘সালেমস লট’-এ ভ্যাম্পায়ার বার্লো চরিত্র মনে রাখার মতো।
১৯৪৪ সালের ২৩ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের কাছাকাছি একটি স্থানে জন্মগ্রহণ করেন রজার। তারুণ্যে যোগ দেন ডাচ মার্চেন্ট নেভিতে। ১৯৬২ সালে ইস্তফা দিয়ে অভিনয় নিয়ে পড়াশোনা করেন। পরে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ফিরে এসে আবার যোগ দেন অভিনয়ে।রজার অসংখ্য সিনেমা ও টিভি সিরিজে অভিনয় করেছেন। চলতি বছরের ডিসেম্বরে প্রচারিতব্য মিনি সিরিজ ‘আ ক্রিসমাস ক্যারল’-এ তাকে দেখা যাবে ভৌতিক চরিত্রে।সিন সিটি, ব্যাটম্যান বিগেনস সিনেমায় অভিনয় করেছেন রজার হাউয়ার। দেখা গেছে এইচবিও’র ‘ট্রু ব্ল্যাড’ মিনি সিরিজে।তার প্রয়াণে অনেক অভিনেতা ও নির্মাতা শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
20. আফ্রিকাতে আবার ইবোলা সঙ্কট
মধ্য আফ্রিকার উত্তরাংশে কঙ্গোর উপত্যকায় প্রবাহিত ইবোলা নদী থেকে ইবোলা ভাইরাসের নামকরণ। সর্বপ্রথম ১৯৭৬ সালে এ ভাইরাসের অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়। ২০১৪-১৫ সালে পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণে ১১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তখন বেশি আক্রান্ত হয়েছিল গিনি, সিয়েরা লিওন এবং লাইবেরিয়া। ২০১৪ সালে কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণে ৪০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। গত বছরের আগস্ট মাস থেকে কঙ্গোর উত্তর কিভু অঞ্চলে নতুন করে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।
বিশ্ব স্বাস্থ্য জেনিভাতে এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গিব্রাইয়াসুস এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বলেন, "বিশ্ববাসীর নজর দেওয়ার সময় এসেছে।"
তবে সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে এখনই কিছু বলা হয়নি। এমন সতর্কবার্তা এর আগে এ পর্যন্ত চারবার দিয়েছে সংস্থাটি। ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোতে ইবোলা সংক্রমণে এ পর্যন্ত ১৬০০ লোকের মৃত্যু হয়েছে।
ডিআর কঙ্গোতে সম্প্রতি ইবোলা ভাইরাসের যে প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে সেটি ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্ববৃহৎ। এর শুরু ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে। দেশটির দুটি প্রদেশে প্রথম এটি দেখা দেয়। এ পর্যন্ত আড়াই হাজার ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে তিনভাগের দুইভাগই মারা গেছেন। প্রতিদিন ১২ জন করে নতুন রোগী পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলছে প্রতিবেশী দেশগুলোতে এটি ছড়িয়ে পরার সম্ভাবনা খুবই বেশি। উগান্ডায় ইতিমধ্যেই রোগটি কয়েকজনের মধ্যে সনাক্ত হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে রুয়ান্ডা কারণ দেশটির সাথে ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গোর সীমান্তবর্তী অঞ্চল গোমা'তে ইবোলা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনই সীমান্ত বন্ধ করে দেওয়ার ব্যাপারে কিছু বলা হয়নি।
সংস্থাটি জানায়, রোগটির প্রতিষেধক রয়েছে এবং সেটি ৯৯ শতাংশ ক্ষেত্রে কার্যকর। দেড় লাখের বেশি মানুষকে সেই প্রতিষেধক দেওয়াও হয়েছে। তবে কঙ্গোর সবাইকে তা দেয়া হয়নি। শুধুমাত্র যারা কোন ইবোলা রোগীর সংস্পর্শে এসেছেন অথবা তাদের সংস্পর্শে যারা এসেছেন তাদেরকে ওই প্রতিষেধক দেওয়া হয়েছে।
পশ্চিম আফ্রিকাতে এর আগেরবারের মহামারী যখন চলছিলো তখন এই রোগের প্রতিষেধক প্রস্তুত হয়েছে। এবারের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর সবার জন্য সেটি সহজলভ্য করা হয়েছে।
21. ইবোলার লক্ষণ কি
ইবোলার কারন হোলো একটি ভাইরাস। এতে আক্রান্ত হলে খুব হঠাৎ করে জ্বর দেখা দেয়। খুব দুর্বল লাগে।
মাংসপেশি খুব ব্যথা হতে থাকে। গলায়ও খুব ব্যথা হয়। এর পরবর্তী ধাপ হল বমি ও ডাইরিয়া দেখা দেয়। শরীরের ভেতরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গে রক্তপাত হতে থাকে।
সরাসরি আক্রান্ত ব্যক্তির কেটে যাওয়া ত্বক, তার মুখ, নাক, বমি, রক্ত, মল বা শরীরের অন্য ধরনের তরল কোন পদার্থের সংস্পর্শে এলে নতুন করে কেউ আক্রান্ত হতে পারে।
22. রাশিয়ার শরণাপন্ন হয়েছেন ভেনেজুয়েলার যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট হুয়ান গুইদো। মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে এমন তথ্য জানিয়েছেন খোদ রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, হুয়ান গুইদো-র লোকজন মস্কোর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চাইছেন। আমরা তাদের বলেছি যে, বাইরের হস্তক্ষেপের জন্য উসকানি দিয়ে অভ্যন্তরীণ সমস্যার সমাধানের প্রচেষ্টা গ্রহণযোগ্য নয়। যুক্তরাষ্ট্রের যে নিয়মিত হুমকি আমরা দেখছি, সেটি অগ্রহণযোগ্য।
তিনি বলেন, ভেনেজুয়েলা পরিস্থিতি ইতিবাচক পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে। এর আগে এ মাসের গোড়ার দিকে রাজনৈতিক সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করার ঘোষণা দেয় রাশিয়া। মস্কোয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ জানান, চলমান চুক্তির অধীনেই ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করা হবে। প্রাথমিকভাবে রাশিয়া থেকে পাঠানো সামরিক সরঞ্জাম রক্ষণাবেক্ষণ প্রাধান্য পাবে। তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই চলমান কাঠামোর মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সশস্ত্র বাহিনীকে শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেবো।
রুশ উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভেনেজুয়েলার বৈধ সরকারকে উৎখাত করতে মার্কিন উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। তবে দেশটির রাজনৈতিক পক্ষগুলোর সঙ্গে রাশিয়া যোগাযোগ রাখছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা হুয়ান গুইদো। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারকে অবৈধ দাবি করে নিজেকে বৈধ অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে অভ্যুত্থানের ডাক দেন তিনি। এতে সমর্থন ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র। পরে কথিত ওই অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নস্যাতের ঘোষণা দেন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো।
23. চীনা ফাক্সিং ট্রেন বর্তমানে বিশ্বের সবথেকে দ্রুতগতির ট্রেন হিসেবে বিবেচিত। চীনের ফাক্সিং ট্রেন ঘণ্টায় ৩৫০ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম।তবে এইবার ভ্রমণের ক্ষেত্রে অব্যহত বৈপ্লবিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে নিজেদের সবচেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন বুলেট ট্রেনের পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু করেছে জাপান। ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার গতিসম্পন্ন ট্রেনটি ২০৩০ সাল নাগাদ যাত্রী পরিবহন শুরু করতে পারবে বলে মনে করা হচ্ছে।
শুক্রবার সিনকানসেন ট্রেনের আলফা-এক্স সংস্করণটির তিন বছর মেয়াদী পরীক্ষামূলক যাত্রা শুরু হয়েছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে সক্ষম ট্রেনটি পুরোদমে চলতে শুরু করবে ২০৩০ সাল নাগাদ। আর শুক্রবার থেকে শুরু হওয়া এর পরীক্ষামূলক চালনা চলবে আরও তিন বছর। শিনকানসেন বুলেট ট্রেনের আলফা-এক্স প্রযুক্তির এ ট্রেন ঘণ্টায় ৪০০ কিলোমিটার বেগে চলতে সক্ষম হলেও, বাস্তবে এটি তার পূর্ণ সক্ষমতা কাজে লাগাবে না। পুরোদমে চালু হওয়ার পর এটি ঘণ্টায় ৩৬০ কিলোমিটার বেগে ছুটবে, যা নিঃসন্দেহে একে বিশ্বের দ্রুততম ট্রেনে পরিণত করবে।
সেন্দাই ও আমোরি শহরের মধ্যকার লাইনের ট্রেনটির পরীক্ষা চালানো হবে। দুই শহরের মধ্যকার সোজাসুজি দূরত্ব প্রায় ২৮০ কিলোমিটার। টানেলে প্রবেশের সময় বিপুল বাতাসের শক্তি প্রতিরোধে ট্রেনটির সামনে প্রায় ২২ মিটার লম্বা নাকের মতো মসৃণ অংশ রয়েছে। ধাতব রুপালি রংয়ের মধ্যে সবুজ দাগ কাটা ট্রেনটিতে দশটি বগি রয়েছে। সপ্তাহে দুই দিন করে মধ্যরাতের পর ট্রেনটির পরীক্ষা চালানো হবে। তখন এই লাইনটি তুলনামূলক কম ব্যস্ত থাকে।
বিশ্বের প্রসিদ্ধ দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রেন সার্ভিস সিনকানসেন এর আলফা-এক্স সংস্করণ ভবিষ্যতে এই সেবাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মাত্র এক বছর আগে জাপানের দ্রুত গতির সিনকানসেন এন৭০০এস ট্রেনটির পরীক্ষা শুরু করে। এই মডেলটি ২০২০ সাল নাগাদ ট্রেন সার্ভিসের নিয়মিত বহরে যুক্ত হতে পারবে। তবে এর সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার। তবে একই এন৭০০ সিরিজের ট্রেন সহজেই আলফা-এক্স ট্রেনের গতি অতিক্রম করতে পারে।
২০২০ সালে টোকিও-তে গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে বিলাসবহুল নতুন মডেলের ট্রেন চালুর চেষ্টা করছে জাপান। পরীক্ষামূলক যাত্রার সময় চাইলে আলফা এক্স বুলেট ট্রেন ৪০০ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম হতে পারে। তবে এই গতি দিয়ে জাপান রেলওয়ের ম্যাগনেটিক ট্রেনের রেকর্ড ভাঙা গতি ছোঁয়া সম্ভব হবে না। ম্যাগলেভ নামে জাপানের ম্যাগনেটিক ট্রেনটি ২০১৫ সালে পরীক্ষামূলক লাইনে ঘণ্টায় ৬০৩ কিলোমিটার গতি তুলতে সক্ষম হয়।
24. পৃথিবীতে খুব লোক এমন আছে যে ঘুরতে ভালবাসে না। অনেকেরই দেশ বিদেশ ভ্রমনের প্রতি অনেক টান থাকে এবং সেই সুত্রে নতুন নতুন জায়গা ঘোরে। এতে তারা যে শুধু বিভিন্ন সংস্কৃতির সাথেই পরিচিত হন তা না, আরও অনেক উপকারিতা আছে ভ্রমনের। ব্রিটেনের নতুন সমীক্ষা অনুযায়ী, ভ্রমনের ফলে ওজন কম হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে, যৌবন ফিরে আসে এবং সঙ্গম বা সেক্সের প্রতি নতুন করে আসক্তি গড়ে ওঠে।
এক্সপিডিয়া, একটি ট্রাভেলস কমপানি, প্রায় দশ লক্ষ যাত্রীদের উপর সমীক্ষা চালায় এবং জানতে পারে যে প্রত্যেকের যৌন জীবন অনেক উন্নত হয়েছে। আসলে ভ্রমনের ফলে মন এবং শরীর উভয় হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পায় যার সুপ্রভাব পড়ে যৌন জীবনে।
তাছাড়া প্রায় সমান সংখ্যক যাত্রী স্বীকার করেছে যে ভ্রমনের ফলে তাদের ওজন আগের তুলনায় হ্রাস পেয়েছে। তারা জানায় যে দূরে ভ্রমন করার অনেক আগের থেকে তারা শরীরচর্চা শুরে করে এবং বাইরে যাওয়ার পর খাওয়া-দাওয়া খুব সাবধানে রুটিন মেনে করে যার ফলস্বরূপ ওজন কমে যায়।
প্রায় ২০ লক্ষ লোক বলেন যে ভ্রমনের পর তাদের পজিটিভ চিন্তাধারা অনেক বেড়েছে এবং নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে কোন আসুবিধে বোধ হয় না। তার কারন হোলো সেরোটোনিন নামক হরমোন যার বৃদ্ধির ফলে পজিটিভ চিন্তাধারা বৃদ্ধি পায়। এই কারনে যারা উদাসীনতায় ভুগছেন, যারা নিজের ওজন কমাতে চান বা যৌন জীবন সুন্দর করতে চান, তারা আজই নিজের পছন্দ জায়গায়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নিন।
25. ভারতীয় ক্রিকেট টিমের জার্সিতে আর দেখা যাবে না চিনা মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা ওপোর ব্র্যান্ড নেম। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফর পরবর্তী দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে টিম স্পনসর হিসেবে ওপোর পরিবর্তে আসতে চলেছে বাইজু। নতুন স্পনসর বাইজু বেঙ্গালুরুর একটি এডুকেশনাল টেকনলোজি ও অনলাইন টিউটোরিয়াল ফার্ম।
অর্থাৎ টিম স্পনসর হিসেবে আসন্ন ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরই শেষ ওপোর জন্য। আগামী ৩ অগাস্ট থেকে শুরু হতে চলা কোহলিদের ক্যারিবিয়ান সফর শেষ হবে আগামী ২ সেপ্টেম্বর। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকেই দলের স্পনসরশিপ টেক ওভার করবে বাইজু। পাঁচ বছরের চুক্তিতে ২০১৭ মার্চে ভারতীয় ক্রিকেট দলের নতুন স্পনসর হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে চিনা মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা ওপো।আরেক মোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা ভিভোকে সরিয়ে ১০৭৯ কোটি টাকার বিশাল চুক্তিতে ভারতীয় ক্রিকেট দলের স্পনসরশিপ স্বত্ত্ব কিনে নেয় তারা। ২০২২ মার্চে সেই চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট অনুযায়ী মাঝপথেই চুক্তি থেকে সরে আসছে তারা। কারণ ২০১৭ যে অঙ্কের বিচারে স্পনসরশিপ স্বত্ত্ব তারা কিনেছিল, ভবিষ্যতে সেই অঙ্কের নিরিখে ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে তাদের। একথা আশঙ্কা করে মাঝপথেই তারা চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে আসছে বলে রিপোর্টে প্রকাশ।আবার ওই একই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে ৩১ মার্চ, ২০২২ অবধি বাইজুর থেকে সমপরিমাণ অর্থই সংগ্রহ করবে বিসিসিআই। কোনও দ্বিপাক্ষিক সিরিজ কিংবা ত্রিদেশীয় সিরিজে ম্যাচ পিছু বিসিসিআইকে ৪.৬১ কোটি টাকা প্রদান করে ওপো। আইসিসির কোনও ইভেন্টে অঙ্কটা কমে দাঁড়ায় ১.৫৬ কোটি টাকা। ভারতীয় ক্রিকেট দলের পূর্বতন স্পনসর স্টার ইন্ডিয়া যেখানে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের জন্য ১.৫৬ কোটি টাকা ও আইসিসি ইভেন্টের জন্য ম্যাচ পিছু ৬১ লাখ টাকা প্রদান করত বিসিসিআইকে।
আগামী ৩ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় প্রথম টি২০ ম্যাচ দিয়ে ক্যারিবিয়ান সফর শুরু করছে ভারতীয় ক্রিকেট দল। ৩টি টি২০, ৩টি ওয়ান ডে-র পাশাপাশি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ২টি টেস্ট ম্যাচ দিয়ে ওয়ার্ল্ড টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে অভিযান শুরু করছে কোহলির দল।
26. অনলাইন দুনিয়ায় আমাজনের নাম কারুর অজানা নয়। এটি একটি মার্কিন কোম্পানি। এবার ইন্টারনেটের স্পিড বাড়ানোর জন্য কয়েক হাজার স্যাটেলাইট পাঠাতে চলেছে এই সংস্থা।
সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বিশ্বের যেসব জায়গায় এখনও ইন্টারনেট পৌঁছয়নি, সেখানে ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রজেক্ট কুপার নামে ওই উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে ওয়েবসাইটে।
মোট ৩,২৩৬টি লো অরবিট স্যাটেলাইট স্থাপন করা হবে। যার রেঞ্জ হবে ৫৯০ কিলোমিটার থেকে ৬৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত। আপাতত পরীক্ষা নিরিক্ষা চালাচ্ছে এই সংস্থা।
সম্প্রতি জানা গিয়েছে, এবার আমাজনে আরও বেশি করে বিক্রি হবে Apple এর প্রডাক্ট৷ আপকামিং ফেস্টিভ্যাল সিসনে দেখা যাবে সেই ছবি৷ তালিকাতে থাকছে আইফোন, আইপ্যাড সহ অন্যান্য একাধিক ডিভাইস৷ ইওরোপ, জাপান, ইউএস সহ ভারতে বিক্রি করা হবে ডিভাইসগুলিকে৷ গত কয়েকটি সেলে নির্দিষ্ট মাত্রায় Apple এর প্রডাক্ট বিক্রি করেছে আমাজন৷ যেটিও Apple এর মার্কেট পড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত৷
Apple জানাচ্ছে, ‘Apple গ্রাহকদের অভিজ্ঞতাকে আরও ভাল করতে আমাজনের সঙ্গে কাজ করছি আমরা৷ যেখানে গ্রাহকরা আইফোন, আইপ্যাড, অ্যাপেল ওয়াচ, ম্যাক সহ একাধিক ডিভাইস কেনার সুযোগ পাবেন৷’ ২০১৮ তে আমাজনের মাধ্যমে Apple এর ৭১ শতাংশ বিক্রি হয়েছে৷ সেই হারকেই আরও বাড়াতে নয়া কৌশল গ্রহণ করেছে মার্কিনি সংস্থাটি৷ কিন্তু, এই কৌশল কতখানি কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়৷
1. কাশ্মীর ঘাঁটির প্রধান সমস্যা হলো যে সেখানে হিন্দু পন্ডিত দের তাড়িয়ে সম্পূর্ণরূপে ইসলামীকরণ করা হয়েছে। এই কারণেই কাশ্মীরে এখন জিহাদ চলে যেটিকে আমরা অর্থাৎ ভারতীয়রা আতঙ্কবাদ বলে জেনে থাকি। কাশ্মীর ঘাঁটিতে যে সমস্যা আছে সেই সমস্যার জম্মু বা লাদাখ প্রান্তে নেই। তাই কাশ্মীর ঘাঁটির সমস্যার সমাধান করতে হলে 35A কে মুছে ফেলতে হবে। স্বাধীনতা দিবস পালনের পর দেশের জন্য একটা সু-খবর সামনে আসতে পারে। সরকার একটা বড়সড়ো সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে পারে। মোদী সরকার জম্মু কাশ্মীর থেকে ধারা 35A মুছে ফেলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর জন্য পরের মাসে ১৫ আগস্ট এর পর নিউ দিল্লীতে একটা উচ্চস্তরীয় বৈঠক করা হবে। ওই বৈঠকে অনুচ্ছেদ 35A মুছে ফেলার রোডম্যাপ নিয়ে আলোচনা হবে বলে সূত্রের খবর। বলা হচ্ছে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও আইন বিশেষজ্ঞদের একটা রোড ম্যাপ তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। একটা প্রভাবশালী কার্য পরিকল্পনা তৈরির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ স্বাধীনতা দিবসের পর বৈঠক ডেকেছেন।
এই বৈঠকে কেন্দ্রীয় কেবিনেটের মন্ত্রীরা ছাড়াও সমস্ত কেবিনেট সচিব ও জম্মু-কাশ্মীরের সাথে জুড়ে থাকা বরিষ্ঠ অধিকারিকরা জুড়ে থাকবেন। বিজেপির রাষ্ট্রীয় উপাধ্যক্ষ সম্প্রতি বলেছেন যে, “কেন্দ্র সরকার 35A এর উপর যেকোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখে। বিজেপি স্ট্যান্ড এক্ষেত্রে স্পষ্ট। আমরা এই ধারাকে মুছে ফেলার পক্ষে। এর জন্য যা করতে হবে সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
অন্যদিকে ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আব্দুল্লাহ বিজেপির স্ট্যান্ড নিয়ে বিরোধ প্রকাশ করেছেন। আব্দুল্লাহ বলেছেন, 35A মুছে ফেলার কথা বলে জম্মু-কাশ্মীরের জনগণকে ভয় দেখানো হচ্ছে। ওমর আব্দুল্লার বলেছেন ১৫ আগস্ট এর পর 35A নিয়ে বৈঠক ডাকার কথা শোনা যাচ্ছে। যদি 35A মুছে দেওয়া হয় তাহলে ব্যাপক হিংসা ছড়িয়ে যাবে বলে মত উমর আব্দুল্লাহ। সরকার প্রশাসন কাশ্মীরের স্থিতিকে শান্ত রাখার পরিবর্তে হিংসাত্মক করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ ওমর আব্দুল্লাহর।
3. আমরা জানি যে এখনকার প্রযুক্তি ও সোশ্যাল মিডিয়া মানুষকে কি করে নিজের লোকের থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে। তবে প্রযুক্তি যে শুধু দূরে সরেচ্ছে তা নয়, কিছু মানুষকে কাছে আনতেও সাহায্য করছে। FaceApp এর মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করে চীনের গুয়াঙঝোউ শহরে 18 বছর আগে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া ছেলেকে খুঁজে পেলেন তার মা-বাবা। এবার পুলিশ এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে বেশি বয়সের সম্ভাব্য ছবি তৈরি করে খোঁজ চালিয়ে সাফল্য পেলেন। ব্রিটিশ সংবাদসংস্থা মেট্রো-এর একটি রিপোর্টে এমনটাই জানাতে পারা গেছে। 2001 সালের 6 মে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছিল এই ছোট্ট 3 বছরের ছেলে ইউ ওয়েইফেঙ। ইউ-এর বাবা একটি নির্মীয়মান বিল্ডিং-এ মিস্ত্রীর কাজ করতে যাওয়ার সময়ে তাকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়েছিল।
বিল্ডিং-এর সামনের মাঠে শেষ বার খেলা করতে দেখা গিয়েছিল তাকে। তখনই অপহরণ করা হয় ছোট্ট ইউকে। কাজ শেষে বিল্ডিং-এর বাইরে বেরিয়ে ইউকে দেখতে পাননি তার বাবা। এরপরই ইউ এন এর মা-বাবা খোঁজ চালাতে শুরু করে ছেলের। এই বিষয় নিয়ে পুলিশের কাছে ডায়েরি ও করা হয় তবে কোন বিশেষ তথ্য সেই সময় মেলেনি। সেই সময় গুয়াঙঝোউ পুলিসের এক কর্তা জানান, তখন বহু চেষ্টা করেও ইউ-এর খোঁজ পায়নি পুলিস। সম্প্রতি ফেসঅ্যাপের জনপ্রিয়তা বাড়ার পর নতুন বুদ্ধি মাথায় আসে পুলিশের।
আজ এই প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ফেস অ্যাপ এর মতনই বয়সের সঙ্গে মুখের আদল বদল এর প্রযুক্তির বানানো হয়। আর তার পরই এই ধরনের কেস গুলি আবার নতুন করে খুলতে শুরু করে পুলিশ।এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইউ-এর 3 বছর বয়সের একটি ছবি থেকে 21 বছর বয়সের মুখের আন্দাজ করা হয়। তারপরই গুয়াঙঝোউআশেপাশের শহরগুলিতে খোঁজখবর লাগাতে শুরু করে পুলিশ।প্রাথমিকভাবে তদন্তের পর পুলিশের ডাটাবেসে এরকম 100 জন 21 বছর বয়সী যুবকে বাছাই করা হয়।চুলচেরা বিশ্লেষণের পর তার মধ্যে একজনকে আলাদা করে পুলিস।পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।ডিএনএ টেস্ট করে জানা যায় এই যুবকই 18 বছর আগে নিখোঁজ হওয়া ইউ।
অন্যদিকে এই 18 বছরের বালক মা-বাবার কাছে দত্তক পুত্র হিসেবে বড় হয়ে উঠেছে সেই ছোট্ট ছেলে ইউ।এখন সে তাদেরই পদবী ব্যবহার করে। প্রথমে পুলিশের দাবি বিশ্বাস করতে পারেনি এই যুবক পরে ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট আসার পর কান্নায় ভেঙে পড়ে সে। আজ আঠারো বছর পর 20 জুলাই বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া মা বাবার সাথে দেখা হয় তার। অন্যদিকে ছেলেকে এতবছর পরও এভাবে ফিরে পাবেন একথা কখনো ভাবেননি ইউ-এর মা বাবা। ছেলেকে পেয়ে আনন্দে কেঁদে ফেলেন তাঁরা।
সংবাদমাধ্যমকে ইউ-এর বাবা বলেন, “এভাবে ছেলেকে 18বছর পর ও ফিরে পাব ভাবিনি। ওকে যত্ন করে বড় করার জন্য ওর পালক মা-বাবাকে ধন্যবাদ। ওর এখন দুটো বাবা। ওর আরেক বাবা আজ থেকে আমার ভাই।”
4. ব্লাড প্রেসার নিয়ে আমরা প্রত্যেকেই চিন্তিত থাকি এবং অনেকেই অনেক কম বয়স থেকে ওষুধ শুরে করে দেয়। গত কয়েক দশকে আমাদের দেশে ব্লাড প্রেসারের মতো রোগের প্রকোপ চোখে পরার মতো বৃদ্ধি পেয়েছে। পরিসংখ্যান বলছে প্রতি ৮ জন ভারতীয়ের মধ্যে ১ জন ব্লাড প্রেসারের রোগী। আর সবথেকে ভয়ের বিষয় হল উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশিরভাগরই বয়স ৪৫ এর নিচে। এমন পরিস্থিতিতে প্রত্যেক ভারতীয়েরই যে প্রতিদিন একটা করে কলা খাওয়া উচিত, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই।
আসলে এই ফলটির অন্দরে উপস্থিত রয়েছে প্রচুর মাত্রায় পটাসিয়াম, যা শরীরে প্রবেশ করার পর সোডিয়ামের প্রভাবকে কমাতে শুরু করে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চলে আসতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে আরও একাধিক শারীরিক সমস্যাও বাগে চলে আসে। যেমন ধরুন...
হাড় শক্তপোক্ত হয়:
একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত একটা করে কলা খাওয়া শুরু করলে শরীরে ক্যালসিয়ামের ঘাটতি দূর হতে সময় লাগে না। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হাড় শক্তপোক্ত হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে অস্টিওআথ্রাইটিস মতো বোন ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও যায় কমে।
দৃষ্টি শক্তির উন্নতি ঘটে:
একেবারেই ঠিক শুনেছেন বন্ধু! দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটাতে বাস্তবিকই কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে কলাতে উপস্থিত ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম এবং আরও নানাবিধ উপকারি উপাদান শরীরে প্রবেশ করার পর এমন খেল দেখায় যে চোখের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে রেটিনার ক্ষমতাও এতটা বৃদ্ধি পায় যে ম্যাকুলার ডিজেনারেশন বা কোনও ধরনের চোখের রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় থাকে না বললেই চলে।
সার্বিকভাবে শরীর চাঙ্গা হয়ে ওঠে:
বছরের শেষেও অফিসে এমন কাজের চাপ যে ক্লান্তি ঘরির কাঁটার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে বাড়তে মাত্রা ছাড়িয়েছে? ফিকার নয়! এমন পরিস্থিতিতে একটা কলা খেয়ে নেবেন সব সময়।
ত্বকের সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়:
কলা খাওয়ার পর যদি কলার খোসা মুখে লাগাতে পারেন, তাহলে একাদিক যেমন ত্বকের রোগের প্রকোপ কমে, তেমনি স্কিনের হারিয়ে যাওয়া ঔজ্জ্বল্য ফিরে আসে। আসলে কলার খোসার অন্দরে থাকা একাধিক উপাকারি উপাদান এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রসঙ্গত, কলার খোসায় থাকা উপকারি ফ্যাটি অ্যাসিডও এক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাহলেই দেখবেন অনেক চাঙ্গা লাগবে। কারণ ক্লান্তি দূর করতে কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। এই কারণেই তো অ্যাথেলিটদের রোজের ডেয়েটে আর কিছু থাকুক না থাকুক কলা থাকেই!
হজম ক্ষমতার উন্নতি ঘটে:
আয়ুর্বেদ শাস্ত্র মতে কলার অন্দরে এমন কিছু উপাদান রয়েছে, যা পাচক রসের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে স্বাভাবিকভাবেই হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটে। তাই পুজোর পর থেকে যদি পেটটা ঠিক না যায়, তাহলে আজ থেকেই নিয়মিত কলা খাওয়া শুরু করুন। দেখবেন উপকার মিলবে।
স্ট্রেস কমে চোখে পরার মতো:
বেশ কিছু গবেষণায দেখা গেছে রোজের ডায়েটে কলাকে জায়গা করে দিলে শরীরে ট্রাইপটোফিন নামক একটি উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে, যার প্রভাবে ফিল গুড হরমোনের ক্ষরণ এত মাত্রায় বেড়ে যায় যে স্ট্রেস লেভেল তো কমেই, সেই সঙ্গে মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না। তাই তো বলি বন্ধু আজকের যুবসমাজের সিংহভাগই যখন স্ট্রেস নামক সমস্যার শিকার, তখন নিয়মিত কলা খাওয়া প্রয়োজন যে বেড়েছে, সে বিষয়ে কিন্তু কোনও সন্দেহ নেই!
টক্সিক উপাদানেরা সব বেরিয়ে যেতে শুরু করে:
শুনতে আজব লাগলেও একথা ঠিক যে শরীরের ইতি-উতি উপস্থিত ক্ষতিকর টক্সিক উপাদানদের বের করে দেওয়ার মধ্যে দিয়ে দেহের প্রতিটি অঙ্গকে চাঙ্গা রাখতে কলার কোনও বিকল্প হয় না বললেই চলে। আসলে এই ফলটির অন্দরে উপস্থিত প্রেকটিন নামক একটি উপাদান, শরীরের প্রবেশ করা মাত্র ক্ষতিকর উপাদানদের বিরুদ্ধে জেহাদ ঘোষণা করে। ফলে রোগমুক্ত শরীরের অধিকারী হয়ে ওঠার স্বপ্ন পূরণ হতে সময় লাগে না।
5. আলসেমি কাটানোর সহজ উপায়
সঠিক মানসিকতা এবং উদ্যম হীনতাকেই বলা হয় আলসেমি ।আলসেমি আমাদের জীবনের নানা কারণে আসতে পারে। কর্মব্যস্ততার অভাব হোক বা মানুষিকতা, যেকোনো কারণের জন্যে আলসেমি আমাদের জীবনে বাসা বাঁধে। হয়তো অনেক সময় কর্মব্যস্ততা থাকলে বাঁধাধরা কাজের গণ্ডি টুকু ছাড়া কোন কাজ করতে ইচ্ছা হয় না।
আমরা অনেক সময় ভাবি কীভাবে নিজেদের ব্যস্ত রাখা যায় বা কিভাবে দিনের বেশিরভাগ সময়কে ব্যবহার করা যায়। কিন্তু পরিকল্পনার অভাবে অনেকটা সময় নষ্ট হয়ে যায় বলে সেই মজ্জাগত আলসেমি চলে আসে। অনেকেই এই আলসেমি কাটানোর জন্য নানা উপায়ে ভেবে বের করলেও ঠিক করে উঠতে পারেন না যে কোন উপায় বা পথে এগোলে নিজের অলসতা কাটানোর সম্ভব হবে। ফলে যে আলসেমি আজ কারুর দিনের কিছুটা সময় নষ্ট করছে ভবিষ্যতে সেই আলসেমি তার ব্যর্থতার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কিন্তু কিভাবে নিজের আলসেমি কাটিয়ে উঠবেন। এই আলোচনায় খুঁজে নেওয়া যাক তার কিছু স্বাস্থ্যকর এবং সঠিক সমাধান।
সঠিক কারণ খুঁজুন
অনেক ক্ষেত্রেই আমরা আলসেমি সঠিক কারণ জানি না। আর ঠিকঠাক কারণ না জানার জন্য আমরা বারবার পিছিয়ে পড়ি। তাই যদি আপনার মনে হয়ে থাকে যে আপনি অলসতায় ভুগছেন তাহলে প্রথমেই হতাশ না হযে তার কারণ খুঁজুন। ঠিক কী কারণে এই অসুবিধা হচ্ছে টা জানার চেষ্টা করুন। কর্মজীবনে হতোদ্যম হয়ে পড়া থেকে শুরু করে স্কুল কলেজের পড়াশুনায় পিছিয়ে পড়া, এসব আপনার অলসতার কারণ হতে পারে। চিকিৎসা শাস্ত্রে বলে রোগ সারাতে হলে প্রথমে দরকার সঠিক রোগ নির্ণয়। এখানেও তার ব্যতিক্রম নেই। আসল কারণ খুঁজে পেলে সেটা কীকরে সমাধান করা যেতে পারে তার রাস্তা বের করা সহজ হয়ে পড়ে। যদি অনেক গুলো কারণে আপনি বিভ্রান্ত হন তাহলে একটু পিছিয়ে গিয়ে শুরুর কথা ভাবুন। সমাধান বেরোবেই।
গুছাতে শিখুন
আলসেমি বা অলসতা কাটানোর প্রথম এবং প্রধান ধাপ এটা। নিজের কাজ কে গুছাতে শিখুন। পরনির্ভরশীলতা কমান। নিজের কাজ করার জন্যে অন্য কে ডাকবেন না। নিজের কাজ গোছানো আলসেমি কাটানোর প্রধান ধাপ। সেটা নিজের ঘর হোক বা নিজের কাজের বা পড়ার টেবিল। রোজ নিজের ব্যবহার করা জিনিস গুছিয়ে রাখলে ফেলে রাখার মনোভাব কমবে। ইচ্ছা হলে নিজের কাপড় বা জামা নিজে পরিস্কার করুন সপ্তাহে এক দিন। এই ছোটো ছোট কাজগুলো একসময় আপনার অলসতা ভরা চিন্তা ভাবনাকে দূরে সরিয়ে রাখবে।
আজকের কথা ভাবুন
আমরা তখনই আমাদের মধ্যে অলসতা ঢুকতে দি যখন কাজ কম করে ভাবি বেশি। আজকে কি করতে হবে না ভেবে আগে কি হয়েছিল বা পরে কি হবে এই করেই বেশিরভাগ সময় কাটিয়ে দি। এই অভ্যেস ত্যাগ করা বাঞ্ছনীয়। কাজ না করে আগের বা পরের কথা ভেবে লাভ হয় না সময় নষ্ট ছাড়া। আজকে কি করছেন তার ফল কতটা সুদূরপ্রসারী হতে পারে সেটা ভেবে নিজেকে কাজে নিয়োজিত করে দেখুন। ফল পাবেন।
সকালে উঠুন
ভোরবেলা বিছানা ছড়ার জন্যে সবাই বলেন। কিন্তু আজকের বিনোদন মুখর জীবন সেই কাজ করতে নারাজ। এই অভ্যেস ত্যাগ করে রোজ সকালে উঠুন। সকালের শুরু যদি ভালো হয় সারা দিন কাজ করার আলাদা এনার্জি থাকে। সকালের বাতাসে অক্সিজেনের মাত্রা বেশি থাকে দূষণ কম হওয়ার কারণে। সাথে রোজ সকালে স্বাস্থ্য চর্চা করুন। অল্প সময়ের জন্যে হলেও। যোগাভ্যাস করতে পারেন। রোজ সকালে উঠে একটা সারাদিনের কাজের লিষ্ট তৈরি করুন। এটা দরকার নেই যে লিষ্ট লম্বা এবং অনেক হতে হবে। শুধু ছোটো ছোট কাজ যখন সারাদিনে করে উঠবেন তাহলেই দিনের শেষে অলসতা কাটিয়ে উঠবেন। স্বপ্নের আবেশে বিভোর না হয়ে বাস্তবের মাটিতে পা রেখে কাজ করা ভালো।
প্রাধান্য দিন
অনেক সময় হতে পারে যে কাল যে দূরদর্শিতা কথা ভেবে নিজের কাজ গুলোকে প্রাধান্য দিয়েছেন, সময়ের সাথে হয়ত তার কোনো কাজের গুরুত্ব কমেছে যা পরে করলেও হবে। অনেক সময় আমরা সেসব না ভেবে শুরু করেছি বলে শেষ করার জন্যে উঠেপড়ে লাগি। ফলে ইচ্ছা ক্রমশ কমতে থাকে। তাই কিছুদিন অন্তর নিজের ঠিক করা কাজগুলোকে ভালো করে দেখুন এবং তার প্রাধান্য বিচার করুন। তাহলে কাজে মন বসবে এবং আলসেমি কাটিয়ে কাজ শেষ হবে।
6. পারস্য উপসাগরে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন নিয়ে অনেকদিন ধরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কে টানাপড়েন চলছে। এরই মধ্যে ইরানের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান রুহানি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী এবং পারস্য উপসাগরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তেহরানের দায়িত্ব রয়েছে। কৌশলগত সামুদ্রিক পথের নিরাপত্তায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে এমন যে কোনও হঠকারিতার বিরুদ্ধে তেহরান কঠোর ব্যবস্থা নেবে। আজ সরকারি এক বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
প্রেসিডেন্ট রুহানি বলেন, পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে গোলযোগ তৈরির সুযোগ আমরা কাউকে দেব না। এ অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় রাখার ক্ষেত্রে ইরান এবং এর উপকূলবর্তী দেশগুলোর বিশেষ দায়িত্ব রয়েছে। এ অঞ্চলের নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে তেহরান যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে তাতে অন্যদের উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। ইরানি জাতি সব সময় পারস্য উপসাগরের অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছে।
পারস্য উপসাগরে কোনও ধরনের হঠকারী তৎপরতা এবং আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি হুরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসির যে কোনও সতর্কবার্তার ব্যাপারে সজাগ থাকার জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
পারস্য উপসাগর অঞ্চলের সুরক্ষা দেওয়ার অন্য দেশগুলোকে ইরানের সামরিক বাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন রুহানি।
7. ফিলিস্তিনিদের সাথে ইসরায়েলের সম্পর্ক প্রথম থেকেই আন্তর্জাতিক নজরে রয়েছে। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের ধরপাকড় নতুন নয়। ধরপাকড়ে ও নিপীড়নের এ তালিকায় বাদ নেই নারী ও শিশুরাও। ফিলিস্তিনি প্রিজনার্স অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা জানিয়েছে, ২০১৫ সাল থেকে কমপক্ষে ৬ হাজার ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করেছে ইসরায়েল। আটক শিশুদের ৯৮ শতাংশই বন্দি অবস্থায় শারীরিক ও মানসিক নিপীড়নের শিকার হয়েছে। প্রথমে গুলি করে আহত করার পর শত শত ফিলিস্তিনি শিশুকে আটক করে ইসরায়েলি বাহিনী। রামাল্লাভিত্তিক কারাবন্দি বিষয়ক ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের কমিটির তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইসরায়েলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন প্রায় পাঁচ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি। এদের মধ্যে ৪৮ নারী ও ২৫৯ শিশু রয়েছে।
প্রতিবেদনে আর বলা হয়, ইসরায়েলি দখলদারি বাহিনী ফিলিস্তিনি শিশুদের প্রতি হত্যা ও নিপীড়ন অব্যাহত রেখেছে। এজন্য তাদের কোনও জবাবদিহি করতে হয় না বরং ইসরায়েলি সরকার তাদের সমর্থন দেয়।
আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা আন্দোলনের অংশ ওই সংগঠনটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জাতিসংঘ মহাসচিবের প্রতি আহ্বান জানায়। শিশুদের ওপর ইসরায়েলের সহিংসতার ব্যাপারটি জাতিসংঘ তাদের বার্ষিক প্রতিবেদনে যেন অন্তর্ভূক্ত করে সেই আহ্বানও জানায় সংস্থাটি।
8. বুধবার হেবেই প্রদেশের একটি আদালত ১১৮ শিশু দত্তক নিয়ে এক সময়ে ব্যাপক প্রশংসিত হওয়া ৫৪ বছর বয়সী এক নারীকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে চীন। তাকে জালিয়াতি, চাঁদাবাজি ও সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগের দণ্ডিত করে। লি ইয়ানজিয়া নামের এই নারী এক সময়ে একটি এতিমখানার মালিক ছিলেন। ‘লাভ মাদার’ নামে খ্যাতি পাওয়া এই নারীকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২৬ লাখ ৭০ হাজার ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩ কোটি ২৮ লাখেরও বেশি টাকা) জরিমানা করা হয়। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি’র খবরে বলা হয়েছে, একই সঙ্গে তার ছেলেবন্ধুসহ ১৫ সহযোগিকেও বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার পর চীনের সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ওইবুতে প্রকাশিত আদালতের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই নারী সহযোগিদের সঙ্গে বিপুল অর্থনৈতিক সুবিধা নিতে অন্য অপরাধের পাশাপাশি জালিয়াতি করেছে। বিবিসি জানিয়েছে, তার ছেলে বন্ধু জু কি’র বিরুদ্ধে সামাজিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ, চাঁদাবাজি, জালিয়াতি ও উদ্দেশ্যমূলক আহতের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। তাকে জরিমানার পাশাপাশি ১২ বছর ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অফর ১৪ সহযোগিকে চার বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
লি ইয়ানজিয়া প্রথম খ্যাতি পান ২০০৬ সালে। ব্যাপক সংখ্যক শিশু দত্তক নেওয়ার ঘটনা তখন সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হলে খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে তার। হেবেই প্রদেশের উয়ান শহরে বাস করতেন তিনি। ওই সময়ে তিনি সংবাদমাধ্যমকে তিনি জানিয়েছিলেন এক সময়ে বিয়ে করলেও পরে তাদের ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। তার অভিযোগ তার সাবেক স্বামী তাদের ছেলেকে সাত হাজাই ইউয়ানের বিনিময়ে পাচার করে দেয়। পরে তিনি নিজের ছেলেকে ফিরে পেতে সমর্থ্য হন। আর এ থেকেই তিনি অন্য শিশুদের সহায়তার সিদ্ধান্ত নেন।
বছরের পরিক্রমায় তিনি হেবেই প্রদেশের অন্যতম ধনী নারীতে পরিণত হন। ১৯৯০ দশকের মাঝামাঝিতে তিনি লোহার খনি কোম্পানিতে বিনিয়োগ করেন। পরে তিনি এর মালিক বনে যান।
ওই সময়ে হেবেই এর স্থানীয় একটি দৈনিককে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি প্রায়ই খনির চারপাশে একটি পাঁচ-ছয় বছর বয়সী এক মেয়ে শিশুকে ঘোরাঘুরি করতে দেখতাম। তার বাবা মারা গিয়েছিল...মা পালিয়েছিল...সেকারণে ওই শিশুকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসি। সেই আমার প্রথম দত্তক নেওয়া শিশু’। পরে আরও শিশু দত্তক নিতে থাকেন তিনি। আর এক সময়ে ‘লাভ ভিলেজ’ নামে একটি এতিমখানা খোলেন তিনি। ২০১৭ সালে তার দত্তক নেওয়া শিশুর সংখ্যা ১১৮তে পৌছায়।
ওই বছরে স্থানীয় বাসিন্দারা তার সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে সতর্ক করে। ২০১৮ সালের মে মাসে পুলিশ তার ব্যাংক অ্যাকাউন্টে দুই কোটি ইউয়ান ও ২০ হাজার মার্কিন ডলারের হদিস পায়। এছাড়া ল্যান্ড রোভার ও মার্সিডিজ বেঞ্চ-এর মতো বিলাসবহুল গাড়িরও সন্ধান পায় পুলিশ। ২০১১ সাল থেকে লি ইয়ানজিয়া অবৈধ কর্মকান্ড চালাচ্ছে বলে জানতে পারে পুলিশ।
9. বাদামি খোসার ডিম সাদা ডিমের মধ্যে পার্থক্য কি? কোনটি খওয়া বেশি ভালো? অনেকেই মনে করেন বাদামি খোসার ডিম সাদা ডিমের চাইতে বেশি স্বাস্থ্যকর। তবে এই ধারণা সঠিক নয়। বাদামিও সাদা খোসার ডিমের মধ্যে কোনটি বেশি স্বাস্থ্যকর তা নিয়ে বেশ কিছু গবেষণাও হয়েছে। এখন পর্যন্ত খোসার রঙ ছাড়া বড় কোনও পার্থক্য খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পুষ্টিগুণ
কোলেস্টেরল, প্রোটিন ও ক্যালোরির বিবেচনায় দুই ধরনের ডিম একই রকম। এক্ষেত্রে বাদামি খোসার ডিমে ওমেগা থ্রি একটু বেশি থাকলেও তা উল্লেখযোগ্য না। ১০০ গ্রাম ডিমে ১৩ গ্রাম প্রোটিন থাকে, যা দুই ধরনের ডিমে একই রকম।
এটা ঠিক যে মুরগিকে কোন খাবার খাওয়ানো হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে ডিমের ধরন। তবে সে ক্ষেত্রে ডিমের পুষ্টিগুণ, ক্যালোরি খুব বেশি কম বেশি হয় না। মুরগির প্রজাতির কারণে ডিমের খোসার ভিন্ন হয় শুধু। এছাড়া মুরগিকে কেমন খাবার খাওয়ানো হয়েছে ও ডিম কীভাবে রান্না করা হচ্ছে, সেটার ওপর নির্ভর করে ডিমের স্বাদ কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
10. গর্ভাবতীদের জন্য আনারস কতটা উপকারী?
আনারস হোলো একটি গ্রীষ্মকালীন ফল। এটি খেতে অনেকেই পছন্দ করে এবং এই ফলটির মধ্যে রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। আনারস অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। এটি প্রদাহ কমাতে ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কাজ করে।
আনারসের মধ্যে থাকা ব্রোমেলেইন এনজাইমের কারণে এটি হজম ভালো করে। এ ফলটি ক্যানসার প্রতিরোধেও উপকারী। আনারসে রয়েছে প্রদাহরোধী উপাদান। এটি আর্থ্রাইটিস প্রতিরোধে কার্যকর।
তবে এত পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এ ফলটি কি গর্ভাবস্থায় খাওয়া উপকারী? ভারতীয় ওয়েবসাইট টাইমস অব ইন্ডিয়া ও স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন জানিয়েছে এর উত্তর।
আনারস বেশ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ ফল। তবে এ ফলটি থেকে গর্ভবতী নারীকে একটু দূরেই থাকতে বলা হয়। কারণ, আনারসের মধ্যে রয়েছে উচ্চ মাত্রায় ব্রোমেলেইন। এ এনজাইমটি সারভিক্সকে নরম করে দেয় এবং জরায়ুর সংকোচনকে উদ্দীপ্ত করে। এ কারণে আগেভাগে সন্তান জন্ম হতে পারে, যেটি মা ও শিশু উভয়ের জন্যই ক্ষতিকর।
এ ছাড়া ব্রোমেলেইন গর্ভপাতও ঘটিয়ে দিতে পারে। তাই গর্ভাবস্থায় আনারস খাওয়া এড়িয়ে যাওয়ার পরামর্শই দেন বিশেষজ্ঞরা।
11. যদিও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়েছেন যুবরাজ সিংহ। বিশেষ ছাড়পত্র নিয়ে তিনি যান কানাডাতে টি-২০ খেলার জন্য। অবসর নেওয়ার পর এই প্রথমবার কোনও প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচে মাঠে নামলেন যুবরাজ সিং৷ তবে প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে নজর কাড়তে পারলেন না যুবি৷ হারতে হল তাঁর দলকেও৷
অবসর নেওয়ার পর গ্লোবাল টি-২০ কানাডায় খেলার জন্য বিসিসিআই-এর কাছ থেকে ছাড়পত্র চেয়েছিলেন যুবরাজ৷ বোর্ড নো অবজেকশন সার্টিফিকেট দিতে কুণ্ঠা বোধ করেনি৷ গ্লোবাল টি-২০’তে টরন্টো ন্যাশনাল টিমের ক্যাপ্টেন নিযুক্ত হন যুবরাজ৷ দলে যোগ দেওয়ার পরেই একটি টুইটে কানাডা লিগে কিছু ছক্কা মারার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি৷ সেই টুইটের প্রতিক্রিয়ায় পালটা ছক্কা মারার হুঁশিয়ারি দেন প্রথম ম্যাচে যুবির প্রতিপক্ষ দল ভ্যাঙ্কুভার নাইটসের ক্যাপ্টেন ক্রিস গেইল৷টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে টস জিতে প্রথমে যুবরাজদের ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান গেইল৷ টরন্টো নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটের বিনিময়ে ১৫৯ রান তোলে৷ ওপেনার রডরিগো থমাস ৩টি চার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ৩১ বলে ৪১ রান করেন৷ ২০ বলে ৪১ রান করেন হেনরিচ ক্লাসেন৷ তিনি ২টি চার ও ৪টি ছক্কা মারেন৷ কায়রন পোলার্ড ২টি তার ও ৩টি ছক্কার সাহায্যে ১৩ বলে ৩০ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে অপরাজিত থাকেন৷ব্রেন্ডন ম্যাকালাম ৫ বলে ৪ রান করে আউট হন৷ ২৩ বলে ১৭ রান করেন ম্যাকলেয়ড৷ যুবরাজ সিং ২৭ বলে ১৪ রান করে ক্রিজ ছাড়েন৷ তিনি একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেননি৷ রিজওয়ান চিমার বলে স্ট্যাম্প আউট হলেও টেলিভিশন রিপ্লেতে দেখা যায় যে উইকেটকিপার তোবিয়াস ভিসি বল স্ট্যাম্পে ছোঁয়ানোর সময় যুবরাজ ক্রিজের ভিতরেই ছিলেন৷ তা সত্ত্বেও আম্পায়ার আউট দেওয়ার আগেই ক্রিজ ছেড়ে হাঁটা লাগান যুবি৷পালটা ব্যাট করতে নেমে ভ্যাঙ্কুভার ১৭.২ ওভারে মাত্র ২ উইকেটের বিনিময়ে ১৬২ রান তুলে ম্যাচ জিতে যায়৷ গেইল ১০ বলে ১২ রান করে আউট হন৷ তোবিয়াস ভিসি ২০ রান করে ক্রিজ ছাড়েন৷ ওয়ালটন ৩৫ বলে ৫৯ ও ভ্যান ডার দাসেন ৪৩ বলে ৬৫ রান করে অপরাজিত থাকেন৷ যুবির দলের হয়ে ১টি করে উইকেট পেয়েছেন গর্ডন ও মন্টফোর্ট৷ পোলার্ড ও ম্যাকক্লেনাঘানের মতো তারকারা উইকেট তুলতে পারেননি৷
১২. ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো সুড়ঙ্গ বা পূর্ব-পশ্চিম মেট্রো সুড়ঙ্গ হল ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ন নির্মীয়মান সুড়ঙ্গ পথ। এই সুড়ঙ্গটির একটি অংশ গঙ্গা বা হুগলি নদীর নিচে নির্মিত হবে। এটি ভারত তথা দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম কোনো জলভাগ বা নদীর নিচে নির্মিত সুড়ঙ্গ। এই সুড়ঙ্গটি নির্মাণ করা হচ্ছে কলকাতা মেট্রোর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ন করিডর লাইন-২ বা ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর রেল চলাচলের জন্য। এই সুড়ঙ্গটি গঙ্গার পূর্ব পাড়ের কলকাতা ও পশ্চিম পাড়ের হাওড়া শহরকে যুক্ত করবে। সুড়ঙ্গটি মোট ১১ কিলোমিটার দীর্ঘ।
গঙ্গার তলা দিয়ে সুড়ঙ্গ নির্মাণ শেষ হয় ২০১৭ খ্রস্টাব্দের জুন মাসের মাঝামাঝি। গঙ্গার নিচে যে দুটি সুড়ঙ্গ তৈরি হয়েছে, তার একটির নাম ‘রচনা’, অন্যটির নাম ‘প্রেরণা’। দুটি সুড়ঙ্গের মধ্যে রচনার কাজ আগে শেষ হয়েছে। এক-একটি সুড়ঙ্গ ৫২০ মিটার লম্বা। গঙ্গার তলদেশের ৩০ মিটার নিচে সুড়ঙ্গ কাটার সময়ে বহু জিনিস উদ্ধার করেছেন কেএমআরসিএল-এর ইঞ্জিনিয়ারেরা। সেগুলির মধ্যে রয়েছে কামানের গোলা, ডুবে যাওয়া জাহাজের খোলের অংশ প্রভৃতি।
এক হিন্দি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, কলকাতা মেট্রোতে নয়া লাইনের ফেজ-১-এ শীঘ্রই মেট্রো পরিষেবা শুরু হতে চলেছে বলে জানা যাচ্ছে৷ সল্ট লেক সেক্টর-৫ থেকে সল্ট লেক স্টেডিয়াম অর্থাৎ প্রায় ৫ কিলোমিটার লম্বা এই মেট্রো লাইনে নিরাপত্তার বিষয়টি মঙ্গলবারই সম্পূর্ণ হয়েছে৷ মনে করা হচ্ছে খুব শীঘ্রই অনুমতিও হয়তো পাওয়া যাবে৷ এরপরেই জনসাধারণ এই মেট্রো পরিষেবা পাবেন৷কলকাতা মেট্রোর ইস্ট-ওয়েস্ট প্রোজেক্ট প্রায় ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ৷ এটি সল্ট লেক স্টেডিয়াম থেকে হাওড়া ময়দান পর্যন্ত বিস্তৃত৷ সল্ট লেক সেক্টর-৫ থেকে সল্ট লেক স্টেডিয়ামের মধ্যে এই লাইনে করুণাময়ী, সেন্ট্রাল পার্ক, সিটি সেন্টার এবং বেঙ্গল কেমিক্যাল মেট্রো স্টেশন রয়েছে৷
কলকাতা মেট্রো ভারতীয় রেলের আওতায়৷ এবং রেল এই প্রোজেক্টে ৮৫৭২ কোটি টাকা ব্যয় করছে৷ এই প্রোজেক্টে ২০০৯ সাল থেকে কাজ চলছে৷ আপ এবং ডাউন লাইনে এখানে দুটি সুড়ঙ্গ তৈরি হচ্ছে যা প্রায় ১.৪ কিলোমিটার দীর্ঘ৷ এখানে হুগলী নদী প্রায় ৫২০ মিটার চওড়া এবং এর নীচ দিয়েই মেট্রো যাবে৷ এই সুড়ঙ্গ তৈরি করতেই রাশিয়া এবং থাইল্যান্ডের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া হয়৷ সুড়ঙ্গে জল রুখতে ব্যবহার করা হয়েছে উন্নতমানের প্রযুক্তিও৷ তিন স্তরে সুরক্ষা কবচ তৈরি করা হয়েছে৷ এই সুড়ঙ্গে প্রতি ঘন্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে মেট্রো দৌড়বে৷
১৩. পাসওয়ার্ড হ্যাক জানবার উপায়
গুগলের পাসওয়ার্ড চেকআপ টুলের ব্যাপারে খুব কম লোকই জানেন। জানেন কি, এই টুলটি ব্যবহার করে সহজে চেক করতে পারেন আপনার কোনও পাসওয়ার্ড হ্যাক হয়েছে কিনা। এটি মূলত গুগল ক্রোমের একটি এক্সটেনশান। তবে এই এক্সটেনশান ব্যবহার করতে আপনার গুগল ক্রোম ব্রাউজারের সর্বশেষ সংস্করণ থাকতে হবে।
গুগলের পাসওয়ার্ড চেকআপ টুল ডাউনলোড করবেন যেভাবে: আপনার পিসি থেকে গুগল ক্রোম ব্রাউজারটি খুলুন। এখন গুগল ক্রোম স্টোর খুলুন এবং পাসওয়ার্ড চেকআপ টুলটি অনুসন্ধান করুন। এটি ইনস্টল করতে ‘ক্রোমে যোগ করুন’ বাটনে ক্লিক করুন।
পাসওয়ার্ড চেকআপ টুল যেভাবে কাজ করে: গুগলের পাসওয়ার্ড চেকআপ টুলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে লগইন করার সময় তাদের অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ডগুলো নিরীক্ষণ করে। এক্সটেনশানটি কোন ত্রুটি চিহ্নিত করলে বা যদি এটি শনাক্ত করে যেকোনও পাসওয়ার্ড ফাঁস হয়ে গেছে তবে ব্যবহারকারীকে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করার জন্য একটি লাল সতর্কতা বাক্স পপআপ অনুরোধ করে। যদি পপআপটি আপনার নজরে না-ও আসে তবে পাসওয়ার্ড চেকআপ আইকনটি সবুজের পরিবর্তে লাল হয়ে থাকবে।
পাসওয়ার্ড চেকআপ টুল ব্যবহার করে পাসওয়ার্ড পরিবর্তন করবেন যেভাবে: পাসওয়ার্ড চেকআপ টুলের পপআপ পেজের 'আরও জানুন' নামে একটি বাটন রয়েছে, যা ব্যবহারকারীদের সরাসরি ওয়েব পেজের সহায়তা পৃষ্ঠাতে নির্দশ করে। ফলে এই টুলের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা তাদের পাসওয়ার্ডগুলো পরিবর্তন করতে পারবেন।
১৪. স্যামসাং এর গ্যালাক্সি ফোল্ড অনেক দিন ধরেই বাজারে আসার কথা চলছিলো। অবশেষে এ বছরের সেপ্টেম্বরে গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আসবে বলে জানিয়েছে স্যামসাং। সাম্প্রতিক এক টুইট বার্তায় গ্যালাক্সি ফোল্ড সম্পর্কিত এই বিষয়গুলো নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
উল্লেখ্য, জুন মাসে গ্যালাক্সি ফোল্ড বাজারে আসার কথা থাকলেও গুণগত মান নিশ্চিত করার স্বার্থে ফোনটির বাজারে আসার তারিখ পিছিয়ে দেওয়া হয়।
প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট এনগেজেটের বরাতে জানা গেছে, গ্যালাক্সি ফোল্ডকে আরও টেকসই করার লক্ষ্যে ইনফিনিটি ডিসপ্লের নিরাপত্তা লেয়ার ‘বেজেল’-এর বাইরেও বর্ধিত করা হয়েছে। এছাড়া ডিসপ্লের নিচে মেটাল লেয়ার যোগ করা হয়েছে এবং উপরে ও নিচের হিঞ্জ ক্যাপকে আরও উন্নত করা হয়েছে।
স্যামসাংয়ের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, শুধু হার্ডওয়্যার নয়, ফোল্ডের সফটওয়্যার উন্নয়নেও কাজ করা হচ্ছে।
এদিকে সেপ্টেম্বরে নির্ধারিত কিছু বাজারে এটি ছাড়ার কথা বলা হলেও, ঠিক কোন কোন বাজারে গ্যালাক্সি ফোল্ড আসবে তা এখনও পরিষ্কার করে জানায়নি স্যামসাং।
১৬. লিবিয়ার জাতীয় তেল কোম্পানি দেশটির বৃহত্তম তেলক্ষেত্র শাহারায় তেল উৎপাদন বন্ধ ঘোষণা করেছে। পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি। তবে পাইপলাইন বন্ধের পেছনে কারা দায়ী তা জানায়নি রাষ্ট্রীয় কোম্পানি। মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস এ খবর জানিয়েছে।
শনিবার লিবিয়ার ন্যাশনাল ওয়েল কর্পোরেশন তেলক্ষেত্র শাহারা বন্ধের ঘোষণা দেয়। ভূমধ্যসাগরের উপকূলে জাউইয়া বন্দরের সঙ্গে সংযোগ পাইপলাইন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এই ঘোষণা দেওয়া হলো। শুক্রবার পাইপলাইনটি বন্ধ হয়।
শাহারা তেলক্ষেত্রটিতে প্রতিদিন প্রায় ২ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন হয়। খলিফা হাফতারের অনুগত বাহিনী তেলক্ষেত্রটি নিয়ন্ত্রণ করত। এপ্রিলে খলিফা হাফতারের লিবিয়ান ন্যাশনাল আর্মি দেশটির রাজধানী ত্রিপোলি দখলের লক্ষ্যে অভিযান শুরু করে। জাতিসংঘ সমর্থিত লিবিয়ার সরকারের অনুগত মিলিশিয়াদের সঙ্গে হাফতার বাহিনীর যুদ্ধ চলমান রয়েছে।
২০১১ সালে লিবিয়ার দীর্ঘদিনের শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফিকে উৎখাত ও হত্যার পর থেকেই দেশটিতে বিশৃঙ্খলা বিরাজ করছে।
১৭. পৃথিবীকে রক্ষার জন্য ২০২০ সালকে শেষ সময়সীমা বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে
জলবায়ুর পরিবর্তন গোটা বিশ্বের কাছে সবথেকে বড় সমস্যা. জলবায়ুর পরিবর্তন বিষয়ে জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের একটি টিম, ইন্টার গভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ (আইপিসিসি) ২০১৮ সালে বলেছিল, যদি এই শতকের মধ্যে আমরা তাপমাত্রা বৃদ্ধি ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ধরে রাখতে চাই, তাহলে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে। কিন্তু এখন অনেক বিশেষজ্ঞ বলছেন, অতটা সময় আর হাতে নেই। কার্বন নির্গমন কমাতে একেবারে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক পদক্ষেপ নিতে হবে ২০২০ সালের আগেই।
পৃথিবীকে রক্ষার জন্য ২০২০ সালকে শেষ সময়সীমা বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে, সেটা বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় জলবায়ু বিজ্ঞানী প্রথম ঘোষণা করেন ২০১৭ সালে। জলবায়ু বিজ্ঞানী এবং পটসড্যাম ক্লাইমেট ইনস্টিটিউটের হ্যান্স জোয়াকিম শেলনহুবার বলেন, ‘জলবায়ু বিষয়ক অংকটা বেশ নির্মমভাবেই স্পষ্ট এখন। আগামী কয়েক বছরের মধ্যে হয়তো পৃথিবীর ক্ষত সারিয়ে তোলা সম্ভব নয়, কিন্তু ২০২০ সালের মধ্যে আমরা পৃথিবীর অপূরণীয় ক্ষতি করতে পারি আমাদের অবহেলার মাধ্যমে’।
২০২০ সালই যে পৃথিবীকে জলবায়ুর পরিবর্তন থেকে বাঁচানোর শেষ সুযোগ- তা দিনে দিনে আরও স্পষ্ট হচ্ছে। ব্রিটিশ যুবরাজ চার্লসও সম্প্রতি কমনওয়েলথ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক বৈঠকে একই কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘আমার দৃঢ় মত হচ্ছে, আগামী ১৮ মাসেই নির্ধারিত হবে আমরা জলবায়ুর পরিবর্তনকে আমাদের টিকে থাকার মাত্রায় আটকে রাখতে পারবো কিনা। আমাদের টিকে থাকার জন্য প্রকৃতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে পারবো কিনা’।
২০২০ সালের শেষ পর্যন্ত জাতিসংঘের অনেক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক আছে। ২০১৫ সালে যে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি হয়েছিল, তারপর থেকে কিন্তু তর্কবিতর্ক অব্যাহত রয়েছে এই চুক্তির একটি 'রুলবুক' তৈরির জন্য। কিন্তু চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো এমন অঙ্গীকারও করেছিল যে তারা ২০২০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন কমাতে আরও ব্যবস্থা নেবে।
গত বছর আইপিসিসির রিপোর্টে একটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ টার্গেট ঠিক করা হয়েছিল, যা কিন্তু সেভাবে আলোচিত হয়নি। সেটি হচ্ছে, কার্বন নির্গমন বাড়ার হার ২০২০ সালেই থামিয়ে দিতে হবে, যাতে তাপমাত্রা এই শতকে এক দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি আর না বাড়ে। কিন্তু এখন পর্যন্ত যে পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, তা কোনোভাবেই তাপমাত্রা বৃদ্ধিকে নিরাপদ সীমার মধ্যে ধরে রাখতে পারবে না। চলতি শতকের শেষ নাগাদ তাপমাত্রা হয়তো তিন ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
বিশ্বের প্রায় সব দেশেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাগুলো সাধারণত পাঁচ বা দশ বছরের। কাজেই ২০৩০ সাল নাগাদ যদি কার্বন নির্গমন ৪৫ শতাংশ কমাতে হয়, সেই পরিকল্পনা টেবিলে হাজির করতে হবে ২০২০ সাল শেষ হওয়ার আগেই।
প্রথম যে বড় বাধাটি অতিক্রম করতে হবে সেটি হচ্ছে জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্থনিও গুতেরেসের আহ্বানে বিশেষ জলবায়ু সম্মেলন, যেটি হবে এ বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর। জাতিসংঘ মহাসচিব বেশ খোলাখুলিই বলেছেন, কোনও দেশ যদি তাদের কার্বন নির্গমনের মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর প্রস্তাব করতে পারে, তবেই যেন তারা এই সম্মেলনে আসে। এরপর এ বছরের শেষ নাগাদ চিলির সান্টিয়াগোতে ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অন ক্লাইমেট চেঞ্জ বলে একটি সম্মেলন হবে। সেখানে এই প্রক্রিয়া আরও সামনে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাটি ঘটবে এর পরের সম্মেলনটিতে, যা ২০২০ সালের শেষ নাগাদ ব্রিটেনে হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ব্রিটেন আশা করছে, ব্রেক্সিটের পর তারা সেখানে এই কাজের জন্য যে রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার সেটা দেখাতে পারবে। ব্রিটেনর পরিবেশমন্ত্রী মাইকেল গোভ বলেন, ব্রিটেন যদি এই সম্মেলন আয়োজনে সফল হয়, তাহলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি যেন ১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যেই আটকে রাখা যায়, সে রকম একটা পদক্ষেপ সেই সম্মেলনে সব দেশকে সম্মিলিতভাবে নিতে হবে।
সম্প্রতি জলবায়ুর পরিবর্তনের বিষয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। কীভাবে এর সমাধানে নিজেরা কিছু করা যায়, সেটা নিয়ে ভাবছে অনেকে। একই সঙ্গে ঘটা বেশ কিছু ঘটনা হয়তো এর পেছনে কাজ করছে। প্রথমত, ইউরোপজুড়ে তাপপ্রবাহ যে বাড়ছে তার অনেক প্রমাণ এখন পাওয়া যাচ্ছে। সুইডেনের স্কুলছাত্রী গ্রেটা থানবার্গের আন্দোলন অনেককে উজ্জীবিত করেছে। আর 'এক্সটিংশন রেবেলিয়ন' নামের বিপ্লবী পরিবেশবাদী গোষ্ঠীর আন্দোলনও জনমতকে প্রভাবিত করেছে।
মানুষ এখন এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। অনেক দেশেই রাজনীতিকরাও এখন এটা নিয়ে সচেতন হয়ে উঠেছেন। ব্রিটেন তো ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নির্গমন শূন্যে নামিয়ে আনার প্রতিজ্ঞা করেছে।
তবে ব্রিটেনে যখন সামনের বছর এই জলবায়ু সম্মেলন হবে, ঠিক একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো পাকাপাকিভাবে প্যারিস চুক্তি ছেড়ে বেরিয়ে যাবে। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হেরে যান এবং ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী বিজয়ী হন, তাহলে উল্টোটাও হতে পারে। দুটির যেটিই ঘটুক, এর এক বিরাট প্রভাব পড়বে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকানোর সংগ্রামে।
বর্তমানে বেশ কয়েকটি দেশ জোটবেঁধে চেষ্টা চালাচ্ছে জলবায়ুর পরিবর্তন ঠেকানোর কাজে বাগড়া দিতে। এরমধ্যে আছে যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, কুয়েত ও রাশিয়া। জাতিসংঘে আইপিসিসির বিশেষ প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা তারা আটকে দেয়। কয়েকদিন আগে জার্মানির বনে সৌদি আরব আবারও এরকম একটি আলোচনায় আপত্তি জানায়।
ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের অধ্যাপক মাইকেল জ্যাকবস সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের জলবায়ু উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি মনে করেন, যদি আগামী বছর ব্রিটেনের জলবায়ু সম্মেলনের সুযোগ কাজে লাগানো না যায়, তাহলে তাপমাত্রা এক দশমিক ৫ ডিগ্রির মধ্যে আটকে রাখার লক্ষ্য অর্জনের কোনও সুযোগ থাকবে না।
১৮. বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া বন্দীদের মৃত্যুদণ্ড ১৬ বছর পর আবার কার্যকর করতে চলেছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। বৃহস্পতিবার দেশটির বিচার বিভাগের পক্ষ থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয় ।
অ্যাটর্নি জেনারেল উইলিয়াম বার এক বিবৃতিতে বলেন, পাঁচ বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি ব্যুরো অব প্রিজনসকে (বিওপি) নির্দেশনা দিয়েছেন। এই পাঁচজন শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি হত্যা ও ধর্ষণের মতো অভিযোগে অভিযুক্ত। চলতি বছরের ডিসেম্বরে এবং ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হবে।
ওই বিবৃতিতে উইলিয়াম বার আরও বলেন, উভয় পক্ষের প্রশাসনিক তত্ত্বাবধানে বিচার বিভাগ সবচেয়ে খারাপ অপরাধীদের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চেয়েছেন। বিচার বিভাগ আইনের শাসন সমর্থন করেন।
অধিকার সংগঠনগুলো বলছে, মৃত্যুদণ্ডগুলো বেশি কাছাকাছি সময়ে কার্যকর করা হচ্ছে। আমেরিকান সিভিল লিবার্টি ইউনিয়ন (এসিএলইউ) বলছে, বিষয়টির প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায্যতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এসিএলইউয়ের কেসি স্টুবস বলেন, এই মামলাগুলোর বিবেচনা এবং পর্যালোচনা করার জন্য সময় প্রয়োজন। এই ভাবে একসঙ্গে কার্যকর করার কোনো ভিত্তি নেই।
২০০৩ সালে ট্রেসি জয় ম্যাকব্রাইড নামের ১৯ বছর বয়সী এক সৈনিককে অপহরণ ও হত্যার দায়ে উপসাগরীয় যুদ্ধে অংশ নেওয়া ৫৩ বছর বয়সী সৈনিক লুই জোনস জুনিয়রের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এরপর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর স্থগিত করে যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্যে মৃত্যুদণ্ড বৈধ আছে। ১৯৭৬ সালের পর সবচেয়ে বেশি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে টেক্সাসে, ৫৬১ জন। এর মধ্যে ভার্জিনিয়াতে ১১৩ জন, ওকলাহোমাতে ১১২ জন। বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডাদেশ পাওয়া আসামির সংখ্যা ২ হাজার ৬৭৩ জন।
২০. নারীরা কি পুরুষকে করতে পারে ধর্ষণ?
একজন পুরুষ যদি একজন নারীর সাথে জোর করে যৌনমিলন করে তাকে ধর্ষণ হিসাবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু যদি একজন নারী একজন পুরুষকে জোর করে তার সাথে যৌন মিলন করতে বাধ্য করে - তাহলে সেটাও কি ধর্ষণের পর্যায়ে পড়বে?
ইংল্যান্ড এবং ওয়েলসের আইনে একে ধর্ষণ বলা হয় না। কিন্তু এ নিয়ে এক নতুন সমীক্ষা চালানোর পর একজন গবেষক বলছেন, হয়তো এখানে পরিবর্তন আনার সময় হয়েছে।
"আমরা এ নিয়ে কথা বলতে ভয় পাই। আর যদিও বা কথা বলি, আমাদের কেউ বিশ্বাস করে না" - বলেছেন জরিপে 'জোরপূর্বক যৌনমিলনের শিকার' এক পুরুষ।
পুরুষদের কি 'ধর্ষণ' করা যায়? তাকে কি জোর করে উত্তেজিত করা সম্ভব - যাতে যৌন মিলন ঘটতে পারে?
গবেষকরা এখন বলছেন: এটা অসম্ভব নয়, বরং অসম্ভব মনে করাটাই একটা 'মিথ' বা 'কাল্পনিক উপকথা'।
ব্রিটেনের ল্যাংকাস্টার ইউনিভার্সিটি ল' স্কুলের ড. সিওভান উইয়ার ২০১৬-১৭ সালে যুক্তরাজ্যে 'একজন পুরুষকে জোরপূর্বক যৌনমিলনে বাধ্য করার' ওপর প্রথম গবেষণা পরিচালনা করেন।
ড. উইয়ার বলছেন, পুরুষকে জোর করে যৌন মিলনে বাধ্য করাকে ইংরেজিতে বলে 'ফোর্সড-টু-পেনিট্রেট' বা এফটিপি - এবং পুরুষের মনের ওপর এর প্রতিক্রিয়া হতে পারে খুবই মারাত্মক।
পুরুষের 'ধর্ষিত হবার' গল্প অনেকে বিশ্বাস করতে চায় না
ড. উইয়ার বলছেন, তিনি দেখেছেন - পুরুষের 'ধর্ষিত হবার' গল্প অনেকে বিশ্বাস করতে চায় না।
ড. উইয়ার বলছেন, ফোর্সড-টু-পেনিট্রেট বা এফটিপি সম্পর্কে কিছু ধারণা তার গবেষণায় ভুল প্রমাণিত হয়েছে।
এরকম একটি ধারণা হচ্ছে: এটা অসম্ভব, কারণ পুরুষরা শারীরিকভাবে মেয়েদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী।
আরেকটি ভুল ধারণা: পুরুষরা যৌন মিলনের যে কোন 'সুযোগ'কেই ইতিবাচকভাবে নিয়ে থাকে।
তৃতীয় আরেকটি ভুল ধারণা: পুরুষের যৌনাঙ্গ উত্থিত বা 'ইরেকশন' হয়েছে মানেই হলো যে সে যৌন মিলন চাইছে। আসলে তা নয়। পুরুষরা ভয় পেলে বা ক্রুদ্ধ হলেও ইরেকশন ঘটতে পারে এবং তা কিছু সময় স্থায়ীও হতে পারে।
ড. উইয়ার বলছেন, "গবেষণায় আরো দেখা গেছে যে ধর্ষণের সময় নারীদের পক্ষেও যৌন সাড়া দেয়া সম্ভব, কারণ তাদের দেহ এ ক্ষেত্রে শারীরবৃত্তীয়ভাবে সাড়া দিতে পারে। ধর্ষণের শিকার হওয়া পুরুষ ও নারী - উভয়ের ক্ষেত্রেই এর স্পষ্ট প্রমাণ আছে কিন্তু এ ব্যাপারটা নিয়ে যথেষ্ট আলোচনা হয় না।"
ড. উইয়ার আরো বলছেন, তিনি এমন কিছু এফটিপির শিকার পুরুষের অভিজ্ঞতা শুনেছেন - যারা অতিমাত্রায় মদ্যপান বা অন্য কোন নেশা করার পর নারীর হাতে জোরপূর্বক যৌনমিলনের শিকার হয়েছেন - কিন্তু তা ঠেকাতে পারেন নি।
একটি ঘটনায় একজন নারী একটি সমকামী পুরুষকে যৌন মিলনে বাধ্য করেন - এবং তাকে হুমকি দেন - এতে রাজি না হলে পুরুষটি যে সমকামী তা সবার কাছে ফাঁস করে দেবেন তিনি।
জরিপে অংশ নেয়া একজন বলেছেন, "আমাকে পুলিশ বলেছে 'তুমি নিশ্চয়ই ব্যাপারটা উপভোগ করেছো - না হলে তুমি নিশ্চয়ই আগেই আমাদের জানাতে।"
আরেকজন বলেছেন, "যেহেতু আমরা পুরুষ তাই আমরা এটা নিয়ে কথা বলতে ভয় এবং লজ্জা বোধ করি।"
"বললেও কেউ বিশ্বাস করে না। তারা বলে, তুমি তো পুরুষ, একজন পুরুষকে কিভাবে যৌন নিপীড়ন করা যেতে পারে?"
অনলাইনে এ জরিপের মাধ্যমে ২০০ জন পুরুষের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছেন ড. উইয়ার। এতে ড. উইয়ার দেখতে চেয়েছেন, কী প্রেক্ষাপটে একজন পুরুষকে যৌনমিলন করতে বাধ্য করা হয়, এর পরিণাম কী হয়, এবং আইনের দৃষ্টিতেই বা এ ব্যাপারটিকে কীভাবে দেখা হয়?
এ বছর তিনি এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত একটি জরিপ করেছেন - যা এ সপ্তাহেই প্রকাশিত হয়েছে।
22. আমরা প্রতিদিন পছন্দের সেলিব্রিটিদের ইনস্টাগ্রাম পোস্ট করতে দেখি। কিন্তু তাঁদেরও এইসব ইনস্টাগ্রাম পোস্টের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত স্বার্থ। আমেরিকান টেলিভিশন তারকা কাইল জেনের সবথেকে বেশি কামায় ইন্সটাগ্রাম থেকে।
সেলেব্রিটিরা যে সব সময়ে নিজের দিনলিপি ইনস্টাগ্রামে শেয়ার করেন তা তো নয়। অনেক সময়ে এমনও হয় তাঁরা হয়তো কোনও স্পন্সরড পোস্ট শেয়ার করলেন। আর সেই সব পোস্টের জন্যে বড় অঙ্কের টাকাও নেন।
এবার প্রশ্ন জাগতে পারে ঠিক কত টাকা নেন এমন একটি পোস্টের জন্যে। সেই খবর জানাতেই এই প্রতিবেদন। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট সংস্থা Hopper HQ-এর তরফে প্রকাশিত হয়েছে 2019 Instagram Rich List। সেই তালিকায় নাম রয়েছে দুই ভারতীয় সেলেবেরও—প্রিয়াঙ্কা চোপড়া এবং বিরাট কোহলি। এই তালিকায় ১৯ নম্বরে থাকা প্রিয়াঙ্কা প্রতিটি স্পন্সরড ইনস্টাগ্রাম পোস্টের জন্যে নেন ১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার আসপাশে। অন্যদিকে ২৩ নম্বারে থাকা বিরাট কোহলী নেন ১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। ইনস্টাগ্রামে প্রিয়াঙ্কার ফলোয়ারের সংখ্যা ৪ কোটি ৩০ লাখ। বিরাট কোহলির ইনস্টাগ্রাম অনুগামীর সংখ্যা ৩ কোটি ৮২ লাখ।
23. বলিউড নায়িকা নোরা ফাতেহি এবং গায়ক তুলসি কুমার “বাটলা হাউস” সিনেমার একটি গান “ ও সাকি ও সাকি” কে প্রোমোট করার জন্য মুম্বাইতে একই মঞ্চে উপস্থিত হলেন। তুলসি কুমার নিজের গলায় গানটি গাইলেন এবং নোরা সেই গানটির সঙ্গে তাল মেলালেন। তুলসি একটি ধুসর রঙের জামা পড়ে আসেন এবং ফাতেহি ফ্লরাল ছাপের একটি টপ পড়ে আসেন। “ ও সাকি ও সাকি” গানটি ২০০৫ সালের “মুসাফির” এর রিমেক।
24. পাঞ্জাবের সাংরুর জেলাতে ভাওানিগর রাস্তার মোড়ে গেলেই দেখতে পাবেন ট্রাফিক কনস্টেবল সতপাল সিংহকে। কিন্তু তার জামার দিকে ভালো করে তাকালেই বোঝা যাবে তিনি সাধারন পুলিশ না। তার জামাতে আছে চারটি ব্যাজযুক্ত রিবন, তার মধে একটি অর্ধেক নীল-অর্ধেক কমলা রঙের বীরচক্র মেডেল।
আজ থেকে ২০ বছর আগে সতপাল সিংহ ভারতিয় সেনার সেপয় ছিলেন। তিনি টাইগার হিলে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লরাই করে পাক ক্যাপ্টেন কারনাল শের খানকে নিহত করেন। সেই সের খান পাকিস্তানের সর্বচ্চ সৈনিক সম্মান পুরস্কার পায়।
খেলোয়াড়রা খেলায়ে জিতে মেডেল পেলে তার থেকে বেশি সম্মানজনক পদ পান কিন্তু বীর চক্র মেডেল পেয়ে তাকে হতে হোল ট্রাফিক হাবিলদার।
১. একাকী ব্রাজিলিয়ান আদিবাসীঃ তাকে বলা হয় ‘পৃথিবীর সবচাইতে একা মানুষ‘। আমাজনের কোনো এক জায়গায় একটি জাতি আছে, যা কিনা মাত্র একটি মানুষ নিয়েই গঠিত! যখনই মনে হয় তাকে এই বুঝি দেখা গেলো, রহস্যময় লোকটি সাথে সাথেই উধাও হয়ে যায়। বলা হয় তিনি বিশ্বের সবচেয়ে নিঃসঙ্গ মানুষ।ব্রাজিলের অ্যামাজনে ২২ বছর ধরে ৫০ বছর বয়সী মানুষটি একা বাস করছে।তার গোত্রের বাকিরা সবাই খুন হওয়ার পর থেকেই তার একাকী জীবনের শুরু।
ব্রাজিল সরকারের ইনডেজিনাস এজেন্সি ফুনাই বলছে ১৯৯৬ থেকে তাকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।বেশ কয়েকটি কারণ রয়েছে এর পিছনে।প্রথমত এটা নিশ্চিত হওয়া যে সে বেঁচে আছে, দ্বিতীয়ত কোন কোন এলাকায় সে ঘোরাফেরা করে সে স্থানগুলো চিহ্নিত করা। ব্রাজিলের সংবিধান অনুযায়ী প্রত্যেকটি আদিবাসীদের জন্য ভূমির বা জমির অধিকার রয়েছে।লোকটির রনডোনিয়ার উত্তর-পশ্চিমের দিকে চলাচল রয়েছে।
খুব কমই জানা যাচ্ছে এই লোকটি সম্পর্কে। যদিও তাকে নিয়ে নানা ধরণের গবেষণা প্রতিবেদন রয়েছে , সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন হয়েছে কিন্তু বিস্তারিত কিছুই জানা যায় নি।বলা হচ্ছে এই মানুষটার সাথে বাইরে থেকে কখনো কেউ যোগাযোগ করতে পারেনি বা কথা বলে নি।
তার গোষ্ঠীর নাম কেউ জানে না এবং তারা কোন ভাষায় কথা বলতো সেটাও কেউ জানে না।১৯৯৫ সালে কৃষকরা তাদের উপর হামলা করলে এই ব্যক্তি ছাড়া তার গোত্রের সবাই নিহত হয়।
তো কেন তাকে নিয়ে এত আগ্রহ, এত খোঁজ? কেন তাকে একা শান্তিতে, নিজের মতো করে থাকতে দেয়া হচ্ছে না? কারণ, যেহেতু তাকে ধরা হচ্ছে তার আদিবাসীর মধ্যে একমাত্র এবং সর্বশেষ ব্যক্তি, সেহেতু তিনিই একমাত্র মানুষ যে কিনা তার জাতির সংস্কৃতি, জীবনযাপন, রীতিনীতি এবং ভাষা সম্পর্কে অনেক অজানা তথ্যের উৎস হতে পারবেন। সেই সাথে এটাও বিজ্ঞানীদের তুমুল অগ্রহের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, এত বছর এই মানুষটি একা একা কীভাবে বেঁচে আছেন?
২.জ্যাকসন হোয়াইটঃ ১৭০০ সালের দিকে ঔপনিবেশিকরা উত্তর আমেরিকার পূর্ব-উপকূলে তাদের উপনিবেশ গুছিয়ে এনেছিল। সেই সময়ের ভেতর আটলান্টিক মহাসাগর এবং মিসিসিপি নদীর মধ্যে বসবাস করা প্রত্যেক আদিবাসী সম্পর্কে জানা হয়ে গিয়েছিল, শুধুমাত্র একটি আদিবাসী গোত্র বাদে।
১৭৯০ সালে ন্যাটিভ আমেরিকানদের অজানা এক আদিবাসী দল বন থেকে বের হয়ে আসে। সেভেন ইয়ারস ওয়ার, রেভ্যলুশনারি ওয়ার ইত্যাদি হওয়া সত্ত্বেও যেকোনোভাবেই হোক, তারা সব সময়েই ঔপনেবিশেকদের সাথে তাদের দূরত্ব বজায় রাখতে সক্ষম হয়েছিল।
শেষের দিকে তারা ‘জ্যাকসন হোয়াইটস’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে, কারণ তাদের দেহের রঙ ছিল হালকা সাদা এবং ধরা হতো তারা ‘জ্যাক’দের (বৃটিশদের তুচ্ছার্থক নাম) বংশধর।
3. অটল বিহারি বাজপেয়ি আর কার্গিলের যুদ্ধ যেন চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। ২৬ শে জুলাই ১৯৯৯ এর দিন কখনো ভারতের ইতিহাসে ভোলা যাবে না। এই দিনেই ভারতের সেনা পাকিস্তানের উপর বিজয় প্রাপ্তি করেছিল। অনেক উচ্চতায় লড়াই হয়েছিল, সুযোগ সুবিধা পাকিস্তানের কাছে বেশি ছিল। কিন্তু তা সত্ত্বেও বীরত্ব দেখিয়ে ভারতের সেনা কার্গিল যুদ্ধে জয়লাভ করেছিল। এই যুদ্ধে আমরা ৫২৭ জওয়ান হারিয়েছিলাম কিন্তু বলিদানি জওয়ানরা প্রাণ ত্যাগ করতে করতে ভারতকে জয়লাভ করিয়েছিল। আমেরিকার ভিক্ষা নিয়ে দেশ চালানো পাকিস্তানকে ভারতের সেনা তাদের আসল পরিচয় বুঝিয়ে দিয়েছিল।
অটলজির কড়া পদক্ষেপ, সেনার অদম্য সাহস ও বীরত্বের জন্য পাকিস্তানের সেনা মার খেয়ে ঘরে ফিরেছিল। অন্যদিকে ভারতের সেনা বিজয় পতাকা উড়িয়ে বিশ্বে নিজেদের পরাক্রমশালী শক্তির প্রভাব দেখিয়েছিল। সেই সময় একবার নওয়াজ শারিফ ও ক্লিনটনের মধ্যে বার্তা হয়েছিল। শারীফ বলেছিলেন, আমার মনে হচ্ছে পাকিস্তানের সেনা ভারতের উপর পরমাণু হামলা করতে পারে। শারিফের কথা শুনে ভারতকে সাবধান করতে তৎকাল অটল বিহারী বাজপেয়ীকে ফোন করেছিলেন ক্লিনটন। পাকিস্তান সেনার পরিকল্পনা নিয়ে অটলজিকে বলেছিলেন ক্লিনটন। কিন্তু উত্তরে প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী যা বলেছিলেন তা চমকে দেওয়ার মতো।
অটল বিহারী বাজপেয়ী বলেছিলেন- “পাক সেনারা পরমাণু আক্রমনে ভারতের কিছু হবে না। কিন্তু এটা নিশ্চিত যে পরের দিন পাকিস্তান আর সূর্য দেখতে পাবে না।” অটল বিহারী বাজপেয়ী সেই সময় সাহসিকতার সাথে আমেরিকার রাষ্ট্রপতিকে জবাব দিয়েছিলেন। বাজপেয়ী বুঝিয়ে দিয়েছিলো যে ভারত যে কোনো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। এমনকি বিশ্বের ভূগোল ম্যাপ পরিবর্তন করতেও ভারত পিছুপা হবে না তা তিনি নিজের কথার মাধ্যমে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।
4. কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েই বি.এস ইয়েদুরাপ্পা অ্যাকশনে এসে গেলেন। রাজ্যে মন্ত্রীমণ্ডল গঠন নিয়ে ইয়েদুরাপ্পা বলেন, ‘আমি বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি অমিত শাহ জি এবং অনান্য নেতাদের সাথে আলোচনা করব। দরকার পড়লে আমি কালই দিল্লী যাব, ক্যাবিনেট নিয়ে আমরা পরে সিদ্ধান্ত নেব।” কর্ণাটকের বিজেপির রাজ্য সভাপতি তথা মুখ্যমন্ত্রী ইয়েদুরাপ্পা শপথ গ্রহণের আগে বলেন, ‘ আমি রাজ্যের মানুষদের ধন্যবাদ জানাতে চাই, ওনারাই আমাকে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। আমার মুখ্যমন্ত্রী পদ সবসময় রাজ্যের সন্মানের জন্য হবে।” ইয়েদুরাপ্পা জানান যে, তিনি ক্যাবিনেট বৈঠকে বড়সড় ঘোষণা করেছেন। প্রধানমন্ত্রী কিষাণ যোজনা ছাড়া, তিনি কৃষকদের আলাদা করে ২০০০ করে টাকা দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন।
২০ দিনের নাটকের পর কর্ণাটক বাসী বি.এস ইয়েদুরাপ্পাকে নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পেলো। ইয়েদুরাপ্পা চতুর্থবার মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন। কিন্তু রাজ্যের বিরোধী দল তথা কংগ্রেস-জেডিএস সরকার ওনাকে সহজেই যে ছেড়ে দেবেনা, সেটা বলাই বাহুল্য। কংগ্রেস বি.এস ইয়েদুরাপ্পা কে শপথ গ্রহণের জন্য আমন্ত্রিত করার জন্য রাজ্যপালের কড়া সমালোচনা করে।
আরেকদিকে জেডিএস থেকে বলা হয়েছে যে, রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা জেডিএস এর নেতা কুমারস্বামী এই অপমানের বদলা নেবেন। কর্ণাটকে রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে বিজেপি সরকার গড়লেও, আগামী ৩১ শে জুলাই তাঁদেরও সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে হবে কর্ণাটক বিধানসভায়।
5. যৌনতার অভাবে অনেকের বিবাহিত জীবন অবসাদে কাটে। তবে সমস্যার পাশাপাশি রয়েছে এর সমাধানও৷ যৌন সংসর্গে মেতে ওঠার জন্য প্রয়োজন সুষম আহার ৷ কারণ মানুষ তাদের যৌন শক্তি লাভ করে থাকে তাদের খাবার-দাবার থেকেই । সুখী দাম্পত্য জীবনের জন্য স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালো বোঝাপড়া থাকার পাশাপাশি দরকার স্বাস্থ্যকর যৌন জীবন।
অথচ প্রায়ই দেখা যায় যৌন সমস্যার কারণে সংসারে অশান্তি হয়, এমনকী বিচ্ছেদ পর্যন্ত হয় । আর যৌন সমস্যা থাকলেও আশপাশের তথাকথিত হারবাল, কবিরাজ, ভেষজ নামধারী ভুয়া যৌন ডাক্তারদের কাছে দৌড়ানোর চলটাই বেশি । দেখা যায়, সাধারণ মানুষজনই তাদের খপ্পরে বেশি পড়ে থাকে আর যৌন শক্তি আগে যতটুকু ছিল তাদের চিকিত্সা নিতে নিতে এক সময় সেটাও হারাতে বসে ।
তবে চিকিৎসকদের দাবি, প্রকৃত কোনও সমস্যা না থাকলে আপনার যৌন শক্তি বৃদ্ধির জন্য কোনও প্রকার ওয়ুধের প্রয়োজন নেই ৷ তার জন্য দৈনন্দিন পুষ্টিকর খাবার-দাবারই যথেষ্ট। তবে সকালের খাবার বা ব্রেকফাস্ট সুষম হওয়া উচিত ৷ সেই কারণে প্রতিদিন সকালে আপনার খাবার মেনুতে নিয়মিত রাখতে হবে দুধ, ডিম ও মধু ৷ তবেই কেল্লাফতে ৷ এর সঙ্গে জীবন যাপনও হতে হবে ব্যালান্সড ৷ তবে আর যৌন দুর্বলতায় ভুগতে হবে না ৷
6. ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন ঘটনা আজকের দিনে একটি স্বাভাবিক ব্যাপার। ছোটো বাচ্চাদের থেকে আরম্ভ করে প্রায় সব বয়সের সমস্ত মহিলাই অন্তত একবার ইউরিনারি ট্র্যাক ইনফেকশন বা ইউটিআই-তে (UTI) ভুগেছেন। কিডনি, ইউরেথ্রা, ব্লাডার বা ইউট্রাসে ই-কোলাই থেকে সংক্রমণ ছড়ালেই এই সমস্যা দেখা দেয়। লাইফস্টাইল কোচ লিউক কাউটিনহো-র মতে নারী-পুরুষ উভয়েই এই রোগে আক্রান্ত হলেও মেয়েরা এই সমস্যা ভোগেন বেশি। ফেসবুকের এক সেশনে তিনি আরও জানিয়েছেন, ইউটিআই মানেই জ্বর। পেটে, সারা শরীরে ব্যথা। ইউরিন করার সময় জ্বালাভাব। অনেক সময় ইউরিনের সঙ্গে রক্তও পড়ে। কষ্টের এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে লিউক জানিয়েছেন ৬টি প্রাকৃতিক উপায়। দেখুন তো, এতে কতটা উপকার পান আপনি—
জল পান করুন প্রচুর
ক্যানবেরিস
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ান
অন্ত্রে সমস্যা
শারীরিক সম্পর্কের পর টয়লেটে যান
বেশিক্ষণ ইউরিন চেপে রাখবেন না
7. দেশজুড়ে চলছে এখন অসহিস্নুতার অভিযোগ. কোথাও গোমাংস খাওয়ার অভিযোগ তোলা হচ্ছে, আবার কোথাও জয় শ্রী রাম না বললে পেটানো হচ্ছে। এমনকি হত্যা পর্যন্ত করা হচ্ছে। এগুলো কী ধরনের ঘটনা? কেন একজন ভিন্ন ধর্মের মানুষকে জোর করে জয় শ্রী রাম বলানো হবে? আমি একজন হিন্দু, আমাকে যদি কেউ জোর করে আল্লাহু আকবার বলতে বাধ্য করে, তাহলে আমার কেমন লাগত?’
কথাগুলো বলেছেন পরিচালক ও অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। গোটা ভারতজুড়ে সংখ্যালঘু, দলিতদের নির্যাতন ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখেছেন অভিনেত্রী অপর্ণা সেন, মনি রত্নম, অঞ্জন দত্তসহ ৪৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব। চিঠি দেয়ার পর সম্প্রতি সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, ‘জয় শ্রী রাম, আল্লাহু আকবর, জয় বাংলা, জয় মা কালী কিংবা জয় মহাদেব-সবকিছুই বলার অধিকার আছে মানুষের। তবে ভালোবেসে বলানো উচিৎ, জোর করে নয়।’
চিঠি প্রসঙ্গে এই অভিনেত্রী বলেন, ‘দেশে দলিত ও সংখ্যালঘুরা অত্যাচারিত হচ্ছে। এ ঘটনার যথাযথ তথ্য ও পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে ওই চিঠিতে। বিশ্বস্ত সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।’
ওই ৪৯ জন চিঠিতে বিভিন্ন সামাজিক অসঙ্গতি তুলে ধরেছেন। এসব সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সরকারকে বলা হয়েছে। ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর তথ্যের বরাত দিয়ে চিঠিতে বলা হয়, ২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৮ সালের ২৯ অক্টোবরের মধ্যে ধর্মীয় কারণে ২৫৪ জনকে অপরাধী, ৯১ জনকে হত্যা, ৫৭৯ জন আহত করা হয়েছে। ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী পদে যখন নরেন্দ্র মোদি ছিলেন তখন এমনই অপরাধের মাত্রা ছিল ৯০ শতাংশ।
এই চিঠিতে যেমন তারকাদের নাম রয়েছে, তেমনই রয়েছে সমাজকর্মী, কার্ডিওলজিস্ট, লেখক, ঐতিহাসিক, সাধারণ নাগরিকরা। চিত্র পরিচালক কেতন মেহতা, অঞ্জন দত্ত, অনুপম রায়, আদুর গোপালকৃষ্ণণ, রূপম ইসলাম, ঋদ্বি সেন, ঐতিহাসিক রামচন্দ্র গুহ, সংগীতশিল্পী শুভা মুদগলের নাম রয়েছে এই চিঠিতে।
8. মুখের ত্বকের তেল-ময়লা, ধুলো থেকে শুরু করে রোমকূপের মুখ বন্ধ করে দেওয়া ময়শ্চারাইজার, মেক আপের অবশিষ্টাংশ— সবটুকু নিমেষে গায়েব করে মুখের উজ্জলতা ফেরাতে সময় লাগবে এক মিনিট! আধুনিক রূপসজ্জায় তারই নাম হোলো ‘সিক্সটি সেকেন্ডস রুল’। জানেন, কীভাবে তা সম্ভব?
প্রয়োজনীয় উপাদান একটাই। আপনার ক্লিনজার। আর তাতেই সব সমস্যার সমাধান। রূপ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের সঙ্গে খাপ খায় এমন কোনো ক্লিনজার বা ত্বক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে কেনা ক্লিনজারটিই এর জন্য যথেষ্ট। কিন্তু কীভাবে ব্যবহার করবেন তা? এখানেই রয়েছে এক মিনিট বা ষাট সেকেন্ডের রহস্য।
ঠাণ্ডা পানির ঝাপটা দিয়ে মুখ ধুয়ে ক্লিনজার লাগিয়ে ভালো করে ঘষতে থাকুন। আঙুলের মৃদু চাপে চিবুক, কানের পাশ, কপাল, নাকের পাশ ঘষে নিন। সারা মুখে ক্লিনজারের এমন প্রয়োগ এক মিনিট ধরে মাসাজ করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন ভালো করে। তৈলাক্ত ত্বক হলে এই পুরো পদ্ধতিটিকে দু’ধাপে অর্থাৎ ৩০ সেকেন্ড-৩০ সেকেন্ড করে ভাগ করে নিয়ে বার দুই করুন। প্রতি দিন এই নিয়মে মুখ পরিষ্কার করলে সপ্তাহখানেক পর থেকেই তফাত নজরে আসবে। কেবল জেল্লাদার ত্বকই নয়, এই নিয়মে মুখ পরিষ্কার করলে ত্বকের ধুলো-ময়লা সরে দ্রুত পরিষ্কার হবে মুখ।
9. অনেকে মনে করেন, বর্ষাকালে ধুলাবালি কম, তাই চুলের সমস্যা কম হবে। কিন্তু তা নয়, অন্যান্য ঋতুতে যা চুল পড়ে, বর্ষাকালে তার দ্বিগুণ চুল পড়ে। যেমন খুশকি, চুলের উজ্জ্বলতা কমে যায় ও উকুনও বেড়ে যায়। এ সময় মাথার ত্বকের তৈলাক্ততা বেড়ে যায়, চুল সহজে শুকাতে পারে না। তাই চুলের গোড়া থাকে নরম।
চুল নানা কারণে পড়ে। কিন্তু বর্ষাকালে বৃষ্টির জল যা আমরা খালি চোখে দেখি পরিষ্কার কিন্তু তাতে একধরনের অ্যাসিড থাকে, যা চুলের ক্ষতি করে। তা ছাড়া এই সময়ে স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া, মাথায় ঘাম, চুল ঠিকমতো না শুকানো ইত্যাদি কারণে ছত্রাকের বাসা বাঁধতে সুবিধা হয়। এগুলোই মাথার ত্বকে চুলের গোড়ায় ইনফেকশন, খুশকি, চুল পড়াসহ নানা ধরনের ছত্রাকের আক্রমণসংক্রান্ত সমস্যা হওয়ার প্রধান কারণ।
চুলের সঠিক যত্নের অভাবে এ সমস্যাগুলো আরও বেশি বেড়ে যায়। আর আগে থেকেই তৈলাক্ত ত্বকের অধিকারীরা এ ধরনের সমস্যায় তাঁরা আরও বেশি ভোগেন। আবার মাথার তৈলাক্ত ত্বকে ব্রণও হতে পারে।
ঘরোয়া যত্নই হতে পারে চুলের সমস্যা সমাধানের উত্তম উপায়। শ্যাম্পু ব্যবহার করার পাশাপাশি বেশি তেলের খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। এক দিন পরপরই শ্যাম্পু করা উচিত। আর সপ্তাহে অন্তত এক দিন কিটোকোনাজল শ্যাম্পু করা উচিত। প্রচুর পানি পান করতে হবে। গোসলের পরই চুল শুকিয়ে ফেলতে হবে। ফ্যানের বাতাসে শুকানোই সবচেয়ে ভালো হবে। তবে সমস্যা বেড়ে গেলে চর্ম ও যৌনরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
সোজা করা চুলে বা রঙিন চুলে যেমন রাসায়নিক থাকে এবং তেমনি চুল শুষ্কও থাকে। তাই শ্যাম্পু ব্যবহার করার পাশাপাশি ভালো কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। অথবা শ্যাম্পু করার আগে তেল ব্যবহার করা যেতে পারে।
সবশেষে চুল পড়া রোধ বা কমাতে হলে চুলকে নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে, নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, দুশ্চিন্তামুক্ত জীবন যাপন করতে হবে, যেকোনো ওষুধ গ্রহণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।
10. ব্রিটেনকে ইইউ থেকে বের করতে গিয়ে ঠিক মে এর মতোই দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী যে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন, তা বেশ ভালোভাবেই বোঝা যাচ্ছে।
ব্রিটেনের নতুন প্রেসিডেন্ট বরিস জনসনের ব্রেক্সিট সংক্রান্ত প্রথম দাবিটিই প্রত্যাখ্যান করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। শুক্রবার এক প্রতিবেদনে একথা জানায় যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম ব্লুমবার্গ।
তিনি তথাকথিত আইরিশ বর্ডার ব্যাকস্টপ অন্তর্ভুক্ত করে পূর্বসূরি থেরেসা মে এর ব্যর্থ ব্রেক্সিট প্রত্যাহার চুক্তিটি পুনরায় সমঝোতার দাবি করলে তা বাতিল করে ইইউ।
বরিস জনসনকে ইইউ কমিশনের প্রেসিডেন্ট জ্যঁ ক্লদ জাঙ্কার বলেন, ব্রিটেনের সংসদে তিনবার প্রত্যাখ্যাত উইথড্রয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট ছিল সবচেয়ে ভালো এবং একমাত্র সম্ভাব্য চুক্তি।
মে চুক্তিটির যে পর্যায়ে পৌঁছেছিলেন, সেখান থেকে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি পুনর্বিবেচনার জন্য ব্লকটির প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ব্রেক্সিট কার্যকরের ক্ষেত্রে যদি ইইউ বা ব্রিটেনের মধ্যে কোনো পক্ষই তার দাবি না ছাড়ে, তবে আগামী ৩১ অক্টোবর চুক্তি ছাড়াই ব্লকটি থেকে ব্রিটেনকে বেরিয়ে যেতে হবে।
বরিস জনসন বৃহস্পতিবার সংসদে যে বক্তব্য রাখেন, তাতে মনে হচ্ছে তিনি কিছু সুবিধার বিনিময়ে কোনও চুক্তি ছাড়া ইইউ থেকে বেরিয়ে যেতে ব্রিটেনকে প্রস্তুত করছেন।
ব্রেক্সিট কার্যকরের পর ব্রিটেনের অন্তর্ভুক্ত উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং স্বাধীন আয়ারল্যান্ডের সীমান্তে মানুষ ও পণ্যের অবাধ চলাচলের নিশ্চয়তাকে বলা হচ্ছে ব্যাকস্টপ।
যদি শুল্কমুক্ত বাণিজ্য চুক্তি কিংবা অন্য কোনও উপায়ে এই সীমান্ত উন্মুক্ত রাখার বিকল্প না পাওয়া যায়, তবে ব্যাকস্টপ কার্যকর হবে।
এতে ইইউ আইনের অধীনে থাকবে উত্তর আয়ারল্যান্ড এবং ব্রিটেনকে ব্লকটির শুল্ক ও বাণিজ্য সংক্রান্ত কিছু নিয়ম মানতে হবে। তবে এটিকে সার্বভৌমত্ব বিরোধী মনে করছে ব্রেক্সিটপন্থিরা।
11. ব্লুমবার্গকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে বৃহস্পতিবার পম্পেও বলেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে স্বেচ্ছায় ইরানের টেলিভিশনে হাজির হবেন।
তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে ইরানের জনগণকে সরাসরিভাবে কিছু বলতে দেয়ার সুযোগকে আমি স্বাগত জানাবো। এ ব্যাপারে আমি তাদেরকে বলতে চাই এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তাদের নেতা সৃষ্টি করেছে। আর তা ইরানের জন্য কতটা ক্ষতিকর।’
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও বলেছেন, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা নিয়ে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনা নিরসনে তিনি ‘খুশি মনে’ উপসাগরীয় এ দেশে যাবেন। খবর এএফপি’র।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির লাগাম টেনে ধরার কথা বলেই ২০১৫ সালে তেহরানের সাথে করা পরমাণু চুক্তি থেকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেয়ার পর থেকে ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। যুক্তরাষ্ট্র এ চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর ইরানের ওপর নতুন করে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
যুক্তরাষ্ট্র গত সপ্তাহে ইরানের সম্ভবত দু’টি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করার কথা জানায়। তবে এক্ষেত্রে তারা একটি ড্রোন ভূপাতিত করার কথা নিশ্চিত করেছে। তারা কৌশলগত দিক থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপসাগরীয় জলসীমায় বিভিন্ন ট্যাঙ্কারে ধারাবাহিক হামলার জন্য ইরানকে দায়ী করে।
এদিকে, তেহরান জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করে। ইরানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করায় ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয় বলে তারা জানায়। এমন উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বিমান হামলা চালানোর নির্দেশ দিলেও অনেক প্রাণহানির কথা বিবেচনা করে একেবারে শেষ মূহূর্তে তিনি তা বাতিল করেন।
12. মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প খুব তাড়াতাড়ি পাকিস্তান সফরে যাবেন বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। তিনি বলেন, তার ওয়াশিংটন সফর ব্যাপকভাবে সফল হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় বক্তব্য দেয়ার সময় তিনি এমন তথ্য দেন। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে এ তথ্য জানা গেছে।
ইমরান খান বলেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমান শর্তে পাকিস্তান নিজেকে উপস্থাপন করতে পারবে। এছাড়া কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে সম্পূর্ণভাবে আলোকপাত করা হয়েছে। কাজেই আগামীতে পাকিস্তান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক খুবই চমৎকার হবে বলে তিনি জানান।
এর আগে পাক প্রধানমন্ত্রীর যুক্তরাষ্ট্র সফরে ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার কয়েক দশক ধরে চলা কাশ্মীর সংকটের মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেন। কাজেই এই ইস্যুটির দ্বিপক্ষীয় সমাধানে দীর্ঘদিনের মার্কিন নীতিতে একটা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে।
হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প বলেন, যদি সহায়তা করতে পারি, তবে একজন মধ্যস্থতাকারী হতে আমি আগ্রহী।
আন্তর্জাতিক কঠিন বিতর্কগুলোতে হস্তক্ষেপে ট্রাম্পের এটাই প্রথম প্রস্তাব না। এর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধকালীন জোরপূর্বক শ্রম নিয়ে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার দীর্ঘ বিতর্ক সমাধানেও সহায়তার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
তবে কাশ্মীর ইস্যুতে মার্কিন মধ্যস্থতা পাকিস্তান চাইলেও সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে নয়াদিল্লি।
13. ফিফা র্যাং কিংয়ে ১০ ধাপে এগিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল দল। বৃহস্পতিবার সর্বশেষ ঘোষিত র্যাং কিং অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান এখন ১৮২। গত ১৪ জুন ঘোষিত র্যাং কিংয়ে ১৮৩তম ছিল বাংলাদেশ।
বাংলাদেশ ১০ধাপ এগোলেও দুই ধাপ পিছিয়েছে ভারত। ১০১ থেকে পিছিয়ে তাদের অবস্থান এখন ১০৩। এশিয়া অঞ্চলে আফগানিস্তান ১৪৯, মালদ্বীপ এক ধাপ পিছিয়ে ১৫২, নেপাল ১৬৬, ভুটান ১৮৬, শ্রীলংকা ২০০ এবং পাকিস্তান রয়েছে ২০৪তম স্থানে।
২০৪ দেশের মধ্যে যথারীতি শীর্ষে বেলজিয়াম। ফ্রান্সকে তৃতীয় স্থানে নামিয়ে দিয়ে দ্বিতীয় পজিশনে উঠে এসেছে সদ্য কোপাজয়ী ব্রাজিল। তৃতীয়স্থানে নেমে গেছে ফ্রান্স। চতুর্থ ও পঞ্চমস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ইংল্যান্ড এবং উরুগুয়ে।
19. পঞ্চায়েত নির্বাচন মানেই কি তাহলে অশান্তি আর লোকের মনে আশঙ্কা, ভয়? কোন ব্যাতিক্রম হোল না ত্রিপুরা পঞ্চায়েতেও। আশঙ্কা সত্যি করেই ত্রিপুরায় পঞ্চায়েত নির্বাচনের দিনও বিরোধী বাম ও কংগ্রেস কর্মী-ভোটারদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়ার ছবি ও ভয়েস রেকর্ড। শনিবার নির্বাচনের দিন বেলা গড়াতেই বিভিন্ন পঞ্চায়েত এলাকায় ভোটারদের বাধা দেওয়ার ছবি ছড়িয়েছে। এতে অভিযুক্ত বিজেপি।
বিরোধীদের অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের মতো গায়ের জোরে ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া ত্রিপুরার বিজেপি সরকার। প্রায় ৮৬ শতাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী শাসক দল। যে ১৪ শতাংশ আসনে ভোট হচ্ছে তাকে ঘিরেও উঠতে শুরু করেছে ভোট কারচুপির অভিযোগ। প্রধান বিরোধী সিপিএমের পাশাপাশি অপর বিরোধী দল কংগ্রেসও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তবে শাসক বিজেপির দাবি ভোট হচ্ছে শান্তিপূর্ণভাবেই। শনিবার এমনই পরিস্থিতিতে ত্রিপুরায় ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচন। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের তথ্য-
মোট ৬৬৪৬টি আসন। ৯৯৪টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে।
৫৯১টি গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬১১১টি আসন। ভোট হবে ৮৩৩টি আসনে।
৩৫টি পঞ্চায়েত সমিতির আসন সংখ্যা ৪১৯টি। ভোট হবে ৮২টি আসনে।
৮টি জেলা পরিষদের ১১৬টি আসন। ভোট হবে ৭৯টি আসনে
বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যে ক্ষমতা হারায় দু দশকের বেশি সময় ধরে বাম সরকার। ক্ষমতায় এসেছে বিজেপি ও উপজাতি সংগঠন আইপিএফটি জোট। আর লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের দুটি আসনেই জয়ী হয়েছে বিজেপি। তুমুল ভোট লুঠ ও খুনের হুমকি, রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনায় ত্রিপুরার পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্যেও ব্যাপক কারচুপি ধরা পড়ে। এরপরেই ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকে রাজনৈতিক সংঘর্ষে বারে বারে রক্তাক্ত হয়েছে ত্রিপুরা।
20. হায়দ্রাবাদের একটি সরকারি হাসপাতালের ফিসিওথেরাপি বিভাগের টিকটক ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর দু’জন প্রশিক্ষণরত কর্মীকে বের করে দেওয়া হয়।
শ্যাম মিল্টন এবং ভীনা কুমারি নামে দুই কর্মি ফিসিওথেরাপি বিভাগের ট্রেইনী টেকনিশিয়ান হিসাবে ছিল এবং যখন ভিডিওটি তারা বানায়ে তখন আসেপাশে কোন রোগী ছিল না বলে জানা যাচ্ছে। তারা দুটি পৃথক কলেজে প্রশিক্ষআধীন ছিল।
গান্ধী হাসপাতালে তারা মোট চারটি ভিডিও বানায়। হাসপাতালের সুপার ছুটিতে ছিল সেই সময়, তবে মেডিক্যাল অফিস ইন চার্জ জানায়ে যে দুই জনকেই বার করে দেওয়া হয়েছে।
21. ভারতীয় সেনাদের ক্ষমতা বাড়াতে বিশ্বের সবথেকে বিধ্বংসী ও ভয়ানক হেলিকপ্টার ভারতের কাছে পৌঁছে গেল। ভারতীয় সোনার কাছে চলে এলো আপাচি হেলিকপ্টার। মোদী সরকারের আমেরিকা সাথে একটা সামরিক চুক্তি করেছিল। অপাচি হেলিকপ্টারের জন্য আমেরিকার সাথে চুক্তি সম্পন্ন করা হয়েছিল। চুক্তি অনুযায়ী, ভারতীয় সেনা আমেরিকার থেকে ২২ টি আপাচি হেলিকপ্টার কিনবে। এখন সেই আপাচি হেলিকপ্টারের ডেলিভারি শুরু হয়ে গেছে। ২২ টির মধ্যে ৪ টি আপাচি হেলিকপ্টার ভারতে পৌঁছে গেছে।
৪ টি হেলিকপ্টারকে ভারতের হিডেন বেসে নামানো হয়েছে। ভারতীয় সেনা এখন এই হেলিকপ্টারগুলির এসেম্বলিং করছে। কিছু সপ্তাহের মধ্যে ভারতের বায়ুসেনার জওয়ানরা হেলিকপ্টারগুলির উড়ান দিতেও শুরু করবে। এই হেলিকপ্টারগুলি মূলত ভারতে তৈরি হয় এবং বিশ্বের সবথেকে ঘাতক হেলিকপ্টারের মধ্যে এগুলি পড়ে। এই বিধ্বংসী হেলিকপ্টার এখন ভারতীয় সেনার হাতে পৌঁছে গেছে।
আগে সৈন্য সরঞ্জামের চুক্তি ও ডেলিভারি হয়ে বছরের পর বছর কেটে যেত। কিন্তু এখন মাত্র ২-১ বছরেই পর পর চিনুক ও আপাচি হেলিকপ্টার ডেলিভারি হতে শুরু হয়েছে। আপাচি হেলিকপ্টার ডেলিভারি হওয়া ভারতের জন্য একদিকে যেমন সুখবর তেমনি শত্রু দেশগুলির জন্য খারাপ খবর। কারণ ভারতের কাছে দক্ষ সেনার অভাব নেই, এই দক্ষ সেনার হাতে বিধ্বংসী হেলিকপ্টার চলে আসার অর্থ শত্রু দেশের জন্য বিপদ।
প্রেম আর বিয়ে প্রত্যেক মানুষের জীবনের সাথে জড়িত. যেমন কারুর আগে হয় আবার কারুর পরে. কেউ প্রেম করেন বিয়ের আগে আবার কেউ বিয়ের পরে। তবে বিয়ের আগে প্রেম ভাল নাকি বিয়ের পরে এ নিয়ে নানাজনের নানা মত রয়েছে। আবার বিয়ের আগে-পরে রোমান্স বাড়ে না কমে তা নিয়েও মতভেদ আছে। সম্প্রতি এমনই এক বিষয় নিয়ে ব্রিটেনে একটি জরিপ পরিচালিত হয়েছে। এই সমীক্ষার ফলে দেখা যায়, বিয়ের তিন বছর পরই রোমান্সের মাত্রা কমে যায়। বিয়ের ফলে যৌন জীবন নিরানন্দ হয়ে যায়।
গবেষকরা দেখেছেন, বিয়ের আগে যেখানে কোন যুগল সপ্তাহে চারবারের বেশি মিলিত হওয়ার আশা করতেন সেখানে বিয়ের তিন বছর পর তা নাটকীয়ভাবে হ্রাস পায়। অধিকাংশ যুগল তখন সপ্তাহে মাত্র একবার মিলিত হচ্ছে। জরিপে দেখা গেছে, ১০ দম্পতির মধ্যে ৬ দম্পতি মনে করেন বিয়ের পর তাদের মিলিত হওয়ার আগ্রহ একেবারে কমে গেছে।
অন্যদিকে সমীক্ষাতে অংশ নেয়া দম্পতিদের অর্ধেক মনে করেন, বিয়ের পর তাদের সঙ্গীর সঙ্গে সম্পর্ক প্রেমিক বা প্রেমিকার মতো না থেকে বেশি বন্ধুর সম্পর্ক হয়ে গেছে। বিবাহ বহির্ভূত ডেটিং সার্ভিসের একজন মুখপাত্র বলেন, যখন আপনি কারও সঙ্গে গভীর প্রেমে জড়িয়ে গেলেন এবং বাকি জীবন তার সঙ্গে কাটানোর জন্য মনস্থির করলেন, ঠিক তখন থেকেই দুঃখজনকভাবে আপনি আপনার সঙ্গীর কাছ থেকে আরও বেশি আশা করতে শুরু করলেন। তিনি বলেন, আপনার সঙ্গী হয়ত সহককর্মী, হাসিখুশি, বুদ্ধিমান কিন্তু শোবার ঘরে পরস্পরকে নতুনভাবে আবিষ্কার করতে ব্যর্থ হলে হতাশা নেমে আসতে পারে। তিনি বলেন, বিয়ের আগে এ সম্পর্ক অনেক মজবুত থাকে।সমীক্ষাতে দেখা গেছে, শতকরা ৫৯ ভাগ মনে করেন, বিয়ের পর তাদের যৌন জীবন দারম্নণভাবে বিঘি্নত হয়েছে। দেখা গেছে, ১০ দম্পতির মধ্যে ৮ দম্পতি একই সময় একই স্থানে এবং একই ভঙ্গিতে রোমান্সে লিপ্ত হন। শতকরা ৭৯ ভাগ দম্পতির কাছে মাঝ রাতে রোমান্স করার চেয়ে সুখনিদ্রা অনেক বেশি কাম্য। তিন ভাগের দুই ভাগ দম্পতি যাদের প্রেম রয়েছে তারা বলেন, সঙ্গীর সঙ্গে সপ্তাহে একবার মিলিত হওয়ার চেয়ে বন্ধুর সঙ্গে মিলিত হওয়া অনেক বেশি আকর্ষণ করে। প্রতি পাঁচ জনের মধ্যে একজন মনে করেন তাঁদের সঙ্গী যদি পরিবর্তন না হয় তাহলে অন্য কারও সঙ্গে রাত কাটাতে প্রস্তুত রয়েছেন।
আমরা অনেকেই জানি যে মহাকাশে অসংখ্য গ্রহ আছে. এছাড়া আমরা এলিয়েনদের ব্যাপারেও অনেক কথা শুনেছি. আমাদের জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা ওইরকম গ্রহ অনেকদিন ধরেই খুঁজছে যাতে জীবনের কোনো অস্তিত্ব আছে. এখন নাসা এই সৌরজগতের বাইরে এইরকম 21 টি গ্রহ খুঁজে পেলো যা অনেকটা পৃথিবীর মতোই. এর আবহাওয়া জীবনের পক্ষে উপযুক্ত হওয়াতে সেখানে জীবন থাকতেও পারে বলে অনুমান. নাসার টেস মিশন হলো বাইরে মহাকাশে এলিয়েন এবং তাঁদের গ্রহ খুঁজে বার করা. এই মিশনটি তার প্রথম বছরই 21 টি গ্রহ খুঁজে বার করেছে.
টেস স্যাটেলাইট 6 টি সুপারনোভার ঘটনা রেকর্ড করেছে যেখানে নক্ষত্রদের ধ্বংসের ঝলক দেখা যাচ্ছে. এছাড়াও সৌরজগতের বিভিন্ন উল্কা ও কমেটদের ব্যাপারে অনেক ডেটা পাওয়া গেছে এই মিশনের ফলে.
গ্রিক ধর্মীয় নেতা সাইপ্রাস বিশপ যুক্তি দিয়েছেন যে সমলৈঙ্গিক যৌন প্রথার সৃষ্টি তখন হয় যখন তাঁদের জন্মদাতা অপ্রাকৃতিক উপায়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করে এবং উদাহরণ স্বরূপ এনাল সেক্সের কথা বলেছেন. তিনি সমকামীদের নিয়ে এই বিতর্কিত মন্তব্য সোশ্যাল মিডিয়াতে বলার পর থেকেই বিতর্কের ঝড় শুরু হয়. চার্চ অফ সাইপ্রাসের বিশপ নিওফাইটোসস মাসুরাস দাবি করেছেন যে 'গর্ভবতী মায়েদের যখন পায়ুপথে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন তখন অনাগত বাচ্চারা সমকামী হন'।
সাইপ্রাস মেল অনুসারে , খ্রিস্টান বিশপ গত মাসে আকাকির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শ্রোতাদের বলেছিলেন যে, "যখন গর্ভবতী মহিলারা পায়ুপথ দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন হয় এবং সে উপভোগ করেন তখন সমকামিতা সাধারণত একটি ভ্রূণের কাছে স্থানান্তরিত সমস্যা।"
তিরুবনন্তপুরমের আম্বুরিতে ৩০ বছরের এক মহিলার মৃতদেহের উদ্ধারের পরে, রাজ্য পুলিশ বিবৃতি প্রকাশ করেছে যে রাখির খুনী হলেন আখিল, যে একজন সেনার লোক এবং তাঁদের মধ্যে ভালোবাসার সম্পর্ক ছিল।
বৃহস্পতিবার, পুবার পুলিশ আম্বুরিতে অভিযুক্ত আখিলের বাড়ির পাশের জমির একটি শূন্য প্লট থেকে রাখির পচে যাওয়া লাশ উদ্ধার করেছিল.
তদন্তকারী কর্মকর্তারা এখন নিশ্চিত করেছেন যে রাখি এবং আখিল ফেব্রুয়ারিতে এর্নাকুলাম গিয়ে মন্দিরে গোপনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। চার মাস পরে, অভিযুক্ত আখিল রাখিকে ছেড়ে দিয়ে দ্বিতীয়বার বিয়ে করার চেষ্টা করার পর থেকেই দুজনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। পুলিশ জানায়ে যে হত্যা পূর্বপরিকল্পিত ছিল.
আমাদের প্রত্যেকের ছোটবেলা নিউটনের মাধ্যাকর্ষনের সূত্র পড়ে কেটেছে. কিন্তু সেটি আবিষ্কারের 100 বছর অতিক্রম হওয়ার পরে বিজ্ঞানীরা ঘোষণা করলেন যে সূত্রটি সম্পূর্ণ ভুল এবং তাই এটি গ্রহণযোগ্য নয়. যাইহোক, বর্তমানের গবেষকরা এখনও আমাদের গ্যালাক্সির কেন্দ্রে ব্ল্যাকহোলের কাছে সবচেয়ে বিস্তৃত পরীক্ষার পরেও আলবার্ট আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের সাথে যেতে পছন্দ করেন।
নতুন অনুসন্ধানের বিষয়ে বলতে গিয়ে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আন্ড্রে গেজ বলেছিলেন, "আইনস্টাইন এখনও ঠিক আছেন। আমরা নিউটনের মহাকর্ষের নিয়মটি পুরোপুরি বাতিল করে দিয়েছি । আমাদের পর্যবেক্ষণ আইনস্টাইনের সাধারণ আপেক্ষিকতার তত্ত্বের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ"।
"তবে, তাঁর তত্ত্বটিও পুরোপুরি নির্ভুল যে এমন নয়," গেজ আরও বলেছেন, "এটি ব্ল্যাকহোলের অভ্যন্তরে মহাকর্ষের পুরোপুরি ব্যাখ্যা করতে পারে না এবং এক পর্যায়ে আমাদের আইনস্টাইনের তত্ত্বের বাইরে মহাকর্ষের আরও বিস্তৃত তত্ত্বের দিকে যেতে হবে"।
নিউটনের সাথে জার্মান বংশোদ্ভূতো পদার্থবিদ আইনস্টাইনকে আধুনিক পদার্থবিজ্ঞানের দুটি স্তম্ভগুলির মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তাঁর কাজ বিজ্ঞানের উপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবের জন্য পরিচিত। পদার্থবিজ্ঞানে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ১৯২২ সালের নোবেল পুরস্কার অর্জনকারী এই বিজ্ঞানী প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন যে সূর্য ও পৃথিবীর মতো বস্তু জ্যামিতিকে পরিবর্তন করে দিয়েছে।
ইংল্যান্ডে জন্মগ্রহণকারী নিউটনও সর্বকালের অন্যতম প্রভাবশালী বিজ্ঞানী এবং বৈজ্ঞানিক বিপ্লবের অন্যতম মূল ব্যক্তি হিসাবে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। পদার্থবিজ্ঞান ছাড়াও গণিত, জ্যোতির্বিজ্ঞান, ধর্মতত্ত্ব এবং সাহিত্যের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল তার.
মাদ্রাজ হাইকোর্ট শুক্রবার তামিলনাড়ুর সাত্তার শহরের একটি সরকারি হাসপাতালে এক গর্ভবতী মহিলাকে এইচআইভি সংক্রামিত রক্ত প্রদান করার জন্য 25 লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ, একটি সরকারী চাকরী এবং একটি বাড়ি দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন. মহিলাটি সেখানে 2018 সালের ডিসেম্বরে মাসে রক্তাল্পতার জন্য চিকিত্সা করতে এসেছিলেন.
জনস্বার্থ মামলা শুনানি করে আদালতের মাদুরাই বেঞ্চের একটি ডিভিশন বেঞ্চ আদেশ দেন যে ২৩ বছর বয়সী মহিলার নামে ১০ লক্ষ টাকা এবং তার দুই সন্তানের নামে বাকী ১৫ লাখ টাকা জমা দিতে হবে।
এছাড়াও, এটি আদেশ দেয় যে, মহিলাটিকে 450 বর্গ ফুটের কম পরিমাপের ঘর দেওয়া হবে। বিচারকরা বলেছেন 11 ই জানুয়ারির মধ্যে আদেশটি কার্যকর করতে হবে।
মিয়ানমারের খনি দুর্ঘটনা প্রায় হয়ে থাকে। গত এপ্রিলে একটি দুর্ঘটনায়ে কমপক্ষে ৫৫ জন শ্রমিক মারা গেছিলো। তারপর নিরাপত্তার কারনে ১৭ টি খনি বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হর কিন্তু এরই মধ্যে আবার খবর এলো একটি খনিতে ভূমিধসে পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালের দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই ভূমিধসের ঘটনায় আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছে। তাদেরও প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও জানা যাচ্ছে যে কাচিন প্রদেশের হপকান্ত জেড খনি এলাকার ওই দুর্ঘটনায় পুলশের একজন গার্ডও নিহত হয়েছে। সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগ, মাঝে মাঝেই দেশের খনি দুর্ঘটনা হলেও সরকার তা বন্ধ করার জন্য জোড়ালো কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ কিংবা বাস্তবায়ন করেনি।
হপাকান্ত এলাকার পুলিশ প্রধান উয়িন অং ঘটনাস্থল থেকে সংবাদমাধ্যমদের জানিয়েছেন, তারা এখন পর্যন্ত দুর্ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের দেহ উদ্ধার করেছে। আরও চার জন নিখোঁজ রয়েছেন, তাদেরও মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করছে পুলিশ।
স্থানীয় ওই পুলিশ প্রধান বলেন, ‘আমরা দুজন পুলিশ সদস্যকে জীবিত উদ্ধার করতে পেরেছি। মাথায় আঘাত লাগায় তারা সামান্য আহত হয়েছেন। উদ্ধার করে তাদেরকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’ খনির দায়িত্বে থাকা পুলিশের এক গার্ড নিহত হওয়ার কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি।
পাকিস্তানের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মুশকিল যেন আর কমার নাম নিচ্ছে না বরং সরকার বদলানোর পর থেকে তা বেড়েই চলেছে। তার কারাকক্ষ থেকে এবার এয়ার কন্ডিশনার (এসি) ও টিভি খুলে নেয়ার নির্দেশ দিয়েছে পাঞ্জাব সরকার।
৬৯ বছর বয়সী প্রধানমন্ত্রী আল-আজিজ স্টিল মিল মামলায় সাত বছরের কারাজীবন ভোগ করছেন।
নওয়াজকে লাহোরের কোর্ট লাখপত জেলে রাখা হয়েছে। গত ১৭ জুলাই পাঞ্জাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রালয় কারা মহাপরিদর্শকের কাছে লিখিত এক চিঠিতে এ নির্দেশ দেয়।
লাহোরের কারা মহাপরিদর্শকের চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নিম্নলিখিত নির্দেশাবলি অনুযায়ী, কোনো অপরাধী এবং অর্থ আত্মসাৎকারীকে কারাগারে কোনো সুযোগ-সুবিধা দেয়া হবে না।
এ বিষয়ে এক চিঠিতে উদ্বেগ জানিয়েছেন নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজের (পিএমএল-এন) প্রেসিডেন্ট ও নওয়াজের ছোট ভাই শাহবাজ শরিফ।
তিনি বলেন, পাঞ্জাব সরকারের গঠিত চিকিৎসক দল নওয়াজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার কক্ষের তাপমাত্রা নির্দিস্ট রাখতে বলেছেন। তা করা না হলে তার কিডনির ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এটি তার ভাইয়ের জীবনের জন্য হুমকি বলে দাবি করেছেন তিনি।
আরুনাচল প্রদেশে ইদু মিশ্মি প্রজাতির জনজাতি বিশ্বাস করে যে তাদের পারম্পরিক সংস্কার অর্থাৎ টাবু ভাঙ্গা হলে প্রকৃতি তার বদলা ঠিক নেবে। টাবুটিকে তারা ঘেনা নাম দিয়েছে।
এই প্রজাতির এক মহিলা টিনা মেনা বলেন যে তার বাবা অর্থাৎ তাদের ভাষায়ে নাবা সব সময় বলতেন যে প্রক্রিতিকে কখনো রাগানো উচিত না এবং প্রকৃতির থেকে কেউ বড় না। যে নিজেকে প্রকৃতি থেকে বড় ভাববে বা অহঙ্কার করবে সে ধ্বংস হয়ে যাবে। টিনা হোল উত্তর-পুর্ব ভারতের ৭ টি রাজ্যের মধ্যে প্রথম মহিলা যে মাউন্ট এভারেস্ট আরোহণ করতে সক্ষম হয়েছে। তার পিতা বুগে মেনা মিশ্মি পাহাড়ের একজন প্রসিদ্ধ ব্যাক্তিত্ব তার শিকার করার কৌশলের জন্য।
অরুনাচলে ইদু মিশ্মি প্রজাতির লোকের সঙ্খা মাত্র ১২০০ জন। কিন্তু তারা সংস্কার, কলা ও বিভিন্ন কৌশলে খুব উন্নত। তাদের নানান ধরনের সংস্কারের মধ্যে ঘেনা একটি, যার মাধ্যমে তারা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখে।
ঘেনা হোল একটি প্রথা যার দ্বারা পশুহত্যার উপর প্রতিবন্ধকতা লাগানো হয়। যেমন বড় পশু শিকার করলে কমপক্ষে ৫ দিনের জন্য শাস্তি। এতে তার নিজ জীবনের উপর প্রতিবন্ধকতা থাকে যেমন সে নিজস্ত্রীর সাথে শুতে পারবে না, স্নান করতে পারবে না, আদা৮/রসুন খেতে পারবে না, জামা কাপর ধুতে পারবে না। যেমন বাঘের উপর ঘেনা প্রযোজ্য। বাঘকে শুধুমাত্র আত্মরক্ষার জন্য মারা যেতে পারে, তা নয়া হলে ঘেনা শুধু মাত্র ব্যাক্তি বিশেষের উপর প্রযোজ্য নয়া বরং পুরো গ্রামের উপর প্রযোজ্য। পুরো গ্রামকে শাস্তি পেতে হবে।
তাদের বিশ্বাস তারা যদি ঘেনার নিয়ম ভাঙ্গে তাহলে প্রকৃতি তার শাস্তি দেবে। কোনো না কোনো দুর্ঘটনা ঘটবে তার সাথে।
মুক্তোর মতো সাদা দাঁত কথাটি আমরা প্রায় শুনে থাকি এবং আমাদের দাঁতকে সাদা বানানোর জন্য কোনো রকম প্রচেস্টা বাদ দিই না। সাদা দাঁত মানেই সুন্দর দাঁত। শুধু ভারতে নয়, আমেরিকা সহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এই রীতি মেনে চলা হয়। কিন্তু এমন এক প্রজাতি আছে যারা ঠিক উল্টো ভাবে, তাদের কাছে সাদা দাঁত মানেই হোলো তা রাক্ষসের দাঁত বা হিংস্র জন্তু জানোয়ারের দাঁত। এই কারনে দাঁতকে কালো করে রাখে তারা। তারা হোল ভিয়েতনামের লু নামক জনজাতি।
গাছের রেজিন, নারকোলের ছোবার আঠালো অংশ এবং লোহার পেড়েকের চুর্ন দিয়ে বানান হয় এই বিশেষ উপাদানটি যার সাহায্যে কালো রাখা হয় দাঁত। সিএনএন এর খবর অনুযায়ী এও ফলে তাদের দাঁত মজবুত হয় এবং ক্ষয় প্রতিরোধ হয়। তাদের জন্য বর্তমান যুগের দাঁতের সিলেন্ট হিসাবেও কাজ করে। শুধু তাই নয়, এটি সবথেকে বেশি ব্যাবহার করে মহিলারা তাদের পার্টনারকে আকৃষ্ট করার জন্য। ফলে এটি যৌন মিলনেরও একটি উপায়।
আস্ট্রয়েড বা উল্কা হোল মহাজাগতিক ছোট ছোট পাথর যারা অন্যান্য গ্রহের মতো সুর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে। তারা গ্রহদের থেকে অনেক ছোট হয়। এই সমস্ত পাথরগুলি পৃথিবীর দিকে ছুটে আসে তার কারন হোল মাধ্যাকর্ষোণ শক্তি। মহাকাশে এখন পর্যন্ত ৭ লাখ আস্ট্রয়েড পাওয়া গেছে। এই সমস্ত আস্ট্রয়েড গুলি যদি পৃথিবীতে আঘাত করে অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে যাবে। সম্প্রতি অনেক আস্ট্রয়েড যেমন ২০১৯ ওকে, ২০১৯ অডি, ২০১৫ এইচ এম ১০ ইত্যাদি পৃথিবীর দিকে আসছিলো বলে খবর পাওয়া যাচ্ছিলো। সৌভাগ্যের ব্যাপার হোল তারা কেউ পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে নি।
এক রিপোর্ট অনুযায়ী ২৪ জুলাই, ২০১৯ এ একটি আস্ট্রয়েড কানাডার উপর দিয়ে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ঢুকে পড়ে। তখন তার বেগ ছিল ৪৫০০০ মেইল প্রতি ঘন্টা। স্থানীয় সময় অনুযায়ী ভোর ৩ টের সময় সেটি বায়ুমন্ডলের মধ্যে প্রবেশ করার সাথে সাথে বিশাল বিস্ফোরণের সাথে ফেটে যায় এবং ছোট ছোট টুকরোতে ভাগ হয়ে গিয়ে বাঙ্ক্রফট, অন্টারিও অঞ্চলে ছরিয়ে পড়ে। এই পুরো ঘটনাটির ভিডিও বানায়ে নাসা।
নাসা থেকে পাওয়া খবর অনুসারে আস্ট্রয়েডটি ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ মাইল উপরে ফেটে যায়ে এবং তখন সেটি ১২ ইঞ্চি চওড়া ছিল। পশ্চিম অন্টারিও বিশ্ববিদ্যালায়ের অধ্যাপক পিটার ব্রওন বলেন যে আস্ট্রয়েডটি ভূপৃষ্ঠের অনেক কাছেই ফেটেছে, তাই এর টুকরো পাওয়া সম্ভব যার উপর রিসার্চ করা যাবে।
2. অভিনেতা দিশা পাটানি গত সপ্তাহ তার আর্মি বোন খুশবুর সাথে কিছু ভালো সময় কাটিয়েছেন এবং তার ছবি ইন্সটাগ্রামে শেয়ার করেছেন। ছবিটি দারুন বলে মন্তব্য করেছেন টাইগার শরফের মা।
শনিবার দিন খুশবুর ছবি একটি হার্ট ইমোজির সাথে তিনি শেয়ার করেন। তাছাড়াও আরও দুটি ছবি পোস্ট করেন যাতে লেখা ছিল যে আমার সুন্দর বোন খুশবু পাটানি, চুলের স্টাইল আর মেকআপ করেছে তার ছোট বোন।
উল্লেখ্য যে দিশা কে মাঝে মধ্যেই টাইগার এবং তার বোন কৃষ্ণার সাথে বাইরে ঘুরতে দেখা যায়। দিশকে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সে বলে যে কৃষ্ণা তার খুব ভালো বন্ধু এবং সে কৃষ্ণার থেকে প্রচুর অনুপ্রেরনা পায়।
3. এবার পাকিস্তানের নারীদের দুর্দশা দূর করতে এবং তাদের সামাজিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে ক্ষমতায়নে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও তার কন্যা ইভানকা ট্রাম্প।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে তিনি নারী উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প চালাতে আগ্রহের কথা জানিয়েছেন। এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের খবরে এমন তথ্য জানা গেছে।
পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের প্রবাসী পাকিস্তানি ও মানবসম্পদ উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী সৈয়দ জুলফিকার আব্বাস বুখারির সঙ্গে বৈঠকে ইভানকা এমন প্রস্তাব দিয়েছেন।
ট্রাম্প কন্যা বলেন, এতে পাকিস্তানি নারীদের কর্মসংস্থানের সংখ্যা বাড়বে। তাদের বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড় নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে সহায়তা করা হবে।
বেঠকে বিভিন্ন ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তান একসঙ্গে কাজ করবে বলেও জানান ইভানকা।
আশা প্রকাশ করে জুলফিকার বলেন, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক ফ্রন্টে আরও সফলতা অর্জন করবে।
4. মেক্সিকোর সীমান্ত বরাবর প্রাচীর দেওয়ার প্রতিশ্রুতি অনেকদিন আগেই ট্রাম্প দিয়েছিলেন। এবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট দেশের দক্ষিণাঞ্চলে মেক্সিকো সীমান্তে প্রাচীর তোলার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আড়াই বিলিয়ন ডলার খরচের অনুমতি দিয়েছেন। শুক্রবার কোর্ট এ অনুমতি দেন বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো।
সুপ্রিম কোর্টের এ সিদ্ধান্তের ফলে আড়াই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ক্যালিফোর্নিয়া, অ্যারিজোনা ও নিউ মেক্সিকো প্রকল্পে ব্যবহারে আর কোনো বাধা থাকলো না। দেশের প্রতিরক্ষা খাত থেকে এই অর্থ দেওয়ার জন্য পেন্টাগনকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ক্যালিফোর্নিয়ার আদালতের একটি রুলের কারণে এই খাতে ট্রাম্পের অর্থ খরচে এতোদিন বাধা ছিল। প্রাচীরটি যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকোকে আলাদা করবে। এটি ছিল ২০১৬ সালে ট্রাম্পের অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি।
যদিও ডেমোক্র্যাটরা প্রথম থেকে বিষয়টির তীব্র বিরোধিতা করে আসছে।
5. রাশিয়ায় আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন থেকে বিরোধী প্রার্থীদের বাদ দেয়ার অভিযোগে ব্যপক বিক্ষোভ হয়েছে। এ ঘটনায় আটক করা হয়েছে এক হাজারেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে।
স্থানীয় সময় শনিবার কর্তৃপক্ষের নিষেধ সত্ত্বেও দেশের রাজধানী মস্কোয় জড়ো হয় সাড়ে ৩ হাজার বিক্ষোভকারী। তাদের কারণে নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ায় এ ধরপাকড় চালানো হয়েছে বলে জানান মস্কোর মেয়র সের্গেই সোবইয়ানিন।
আসছে ৮ সেপ্টেম্বর মস্কোর স্থানীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে নির্বাচনে বিরোধীদলীয় প্রার্থীদের অনেককেই আগে থেকেই আটক করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগে অযোগ্য ঘোষণা করা হয় ৩০ বিরোধী প্রার্থীকে। এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয়ায় বিরোধীদলের নেতা অ্যালেক্সি নাভালনিকে এক মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
6. বিশ্বের প্রাচীনতম আদিবাসীদের মধ্যে এক হোল ইয়ানমানি সম্প্রদায় যারা বিশার আমাজন জঙ্গলের ধারে থাকে। তাদের বিশ্বাস মৃত্যু কোন প্রাকৃতিক ঘটনা নয় এবং মৃত্যুর পর তার আত্মাকে সুরক্ষিত রাখার প্রয়োজন। সেই কারনে যখন কেউ মারা যায়ে তখন মৃতদেহ দাহ করার সময় সবাই মিলে গান গায়। মৃতদেহটি পুরো জ্বলে গেলে সেই ছাই নিয়ে কলার সাথে ভালো করে মেখে ফেলা হয়। তারপর মৃতের পরিবার সেই মাখাটি খেয়ে ফেলে। তাদের বিশ্বাস এর ফলে আত্মাটি সুরক্ষিত থাকে।
7. টেস্টটিউব বেবি- এ শব্দগুলো থেকেই অনেকের মনে ভুল ধারণার জন্ম হয়েছে। এ কারণে অনেকেই মনে করেন, টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয় টেস্টটিউবের মধ্যে। আবার কেউ কেউ মনে করেন, টেস্টটিউব বেবি কৃত্রিম উপায়ে জন্ম দেওয়া কোনো শিশু। কাজেই কৃত্রিম উপায়ে এভাবে সন্তান লাভে ধর্মীয় বাধা থাকতে পারে। কিন্তু টেস্টটিউব বেবির বিষয়টি মোটেও তা নয়। বিভিন্ন রোগের যেমন বিভিন্ন চিকিৎসা পদ্ধতি রয়েছে, এটিও তেমনি একটি চিকিৎসা পদ্ধতি।
পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম টেস্টটিউব বেবি লুইস ব্লাউনের জন্ম হয় ১৯৭৮ সালের ১১ নভেম্বর ইংল্যান্ডে।
টেস্টটিউব বেবি হচ্ছে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসায় সর্বজন স্বীকৃত একটি পদ্ধতি। এ পদ্ধতিরও বিভিন্ন কৌশল রয়েছে। এ কৌশলের একটি হচ্ছে আইভিএফ। ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন পদ্ধতি সংক্ষেপে বলা হয় আইভিএফ। এ পদ্ধতিতে দেশের প্রথম টেস্টটিউব বেবির জন্ম হয়েছিল। এ পদ্ধতিতে স্ত্রীর পরিণত ডিম্বাণু ল্যাপারেস্কোপিক পদ্ধতিতে অত্যন্ত সন্তর্পণে বের করে আনা হয়। তারপর সেটি প্রক্রিয়াজাতকরণের পর ল্যাবে সংরক্ষণ করা হয়। একই সময়ে স্বামীর অসংখ্য শুক্রাণু সংগ্রহ করে তা থেকে ল্যাবে বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বেছে নেওয়া হয় সবচেয়ে ভালো জাতের একঝাঁক শুক্রাণু।
তার পর অসংখ্য সজীব ও অতি ক্রিয়াশীল শুক্রাণু ছেড়ে দেওয়া হয় নিষিক্তকরণের লক্ষ্যে রাখা ডিম্বাণুর পেট্রিডিশে। ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর এ পেট্রিডিশটি তারপর সংরক্ষণ করা হয় মাতৃগর্ভের পরিবেশ অনুরূপ একটি ইনকিউবিটরে। ইনকিউবিটরের মধ্যে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পর বোঝা যায় নিষিক্তকরণের পর ভ্রুণ সৃষ্টির সফলতা সম্পর্কে। ভ্রুণ সৃষ্টির পর সেটি একটি বিশেষ নলের মাধ্যমে জরায়ুতে সংস্থাপনের জন্য পাঠানো হয়। জরায়ুতে ভ্রুণ সংস্থাপন সম্পন্ন হওয়ার পরই তা চূড়ান্তভাবে বিকাশ লাভের জন্য এগিয়ে যেতে থাকে এবং সেখান থেকেই জন্ম নেয়। কোনো টেস্টটিউবে এ শিশু বেড়ে ওঠে না।
স্বাভাবিক জন্ম নেওয়া প্রক্রিয়ায় জন্ম নেওয়া শিশুর পুরোটাই সম্পন্ন হয় মায়ের ডিম্বনালি ও জরায়ুতে। আর টেস্টটিউব বেবির ক্ষেত্রে স্ত্রীর ডিম্বাণু ও স্বামীর শুক্রাণু সংগ্রহ করে সেটি একটি বিশেষ পাত্রে রেখে বিশেষ যন্ত্রের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয় নিষিক্তের জন্য।
নিষিক্তকরণের পর সৃষ্ট ভ্রুণ স্ত্রীর জরায়ুতে সংস্থাপন করা হয়। পুরো প্রক্রিয়ায় সময় লাগে ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা। সূচনার এ সময়টুকু ছাড়া বাকি সময়ে শিশু একদম স্বাভাবিক গর্ভাবস্থার মতোই মাতৃগর্ভে বেড়ে ওঠে। একজন স্বাভাবিক গর্ভধারিণীর জরায়ুতে বেড়ে ওঠা শিশুর জীবন প্রণালির সঙ্গে টেস্টটিউব বেবির জীবন প্রণালির কোনো পার্থক্য নেই। এ নিয়ে অনাবশ্যক আগ্রহ সৃষ্টিরও কোনো সুযোগ নেই। রোগী রোগের চিকিৎসা করাবেন, এটাই স্বাভাবিক।
8. আপনি কি দীর্ঘায়ু হতে চান? যার জন্ম আছে তার মৃত্যু অনিবার্য জেনেও পৃথিবীর প্রতিটি দেশের মানুষ দীর্ঘদিন বেঁচে থাকার আকাঙ্খা রাখে।
মানুষকে দীর্ঘ জীবন দিতে বিজ্ঞানীদের চেষ্টারও অন্ত নেই। সে প্রচেষ্টা যে পুরোপুরি সফল হচ্ছে তা কিন্তু নয়। তবে পরিবেশভেদে এক এক দেশের মানুষ জীবনের আয়ু বিভিন্ন রকম। কোনো দেশের মানুষের গড় আয়ু ৫০ আবার কোনো দেশের ৮০। সবচেয়ে কম গড় আয়ুর দেশ সিয়েরে লিয়ন। এ দেশটির মানুষ গড়ে ৪৬ বছর বাঁচে। সবচেয়ে বেশি বছর বাঁচে জাপানের মানুষ। তাদের গড় আয়ু ৮৪। আবার এ দেশটির মেয়েরা পুরুষদের চেয়ে বেশি দিন বাঁচে। পুরুষদের গড় আয়ু যেখানে ৮৩ সেখানে মেয়েদের ৮৭।
বেশিদিন বাঁচতে তাহলে সবাইকে কি জাপান চলে যেতে হবে? জাপানে যাওয়া ছাড়া কি বেশিদিন বাঁচা যাবে না? এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। পৃথিবীর যে কোনো দেশে থেকেই দীর্ঘায়ু পাওয়া সম্ভব। সে জন্য অবশ্য কিছু রহস্য জানতে হবে, পালন করতে হবে কিছু নিয়ম কানুন। জাপানীদের বেশি দিন বেঁচে থাকার সেই রহস্য জেনে নেওয়া যাক। খাদ্যাভাস পরিবর্তন, নিয়মিত ব্যায়াম এবং মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে দীর্ঘায়ু পাওয়া সম্ভব।
জাপানী ডায়েট: পশ্চিমাদেশের তুলনায় জাপানীরা ২৫ ভাগ কম ক্যালরি খাবার গ্রহণ করে। এক গবেষণায় দেখা গেছে শুধু এই কারণেই অন্য দেশের তুলনায় জাপানীরা আট ভাগ বেশি গড় আয়ু পায়। শুধু তাই নয়, এ কারণে তাদের লিভারের কার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব কম পড়ে। এখানে জাপানিদের কিছু সাধারণ খাবার এবং পানীয়ের কথা জানানো হলো।
মাছ: খাবারের ব্যাপারে পশ্চিমা দেশের স্লোগান ‘বেশি করে মুরগী খাও’। তবে এ ব্যাপারে জাপানীরা উল্টো। তারা বেশি মাছ খায়। বিশ্বের মোট জনসংখ্যার মাত্র ২ ভাগ জাপানী হলেও তারা মোট মাছের ১০ ভাগ খেয়ে থাকে। আর মাছ খাওয়ার উপকারিতা কম নয়, মাছ হৃদরোগে মৃত্যুর হার ৩৬ ভাগ কমিয়ে দেয়। এছাড়া ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা যেমন কম থাকে তেমনি শরীরে জ্বালা যন্ত্রণা হওয়া সম্ভাবনা কম থাকে।
সমুদ্র শৈবাল: সমুদ্র শৈবাল বা সমুদ্রের বিভিন্ন ধরণের উদ্ভিদ শুধু মাছের খাবার নয়, জাপানীরাও এর ওপর হামলে পড়ছে। বছরে ১ লাখ টন সমুদ্র শৈবাল জাপানীরা উদরস্থ করে।
চা: জাপানীদের অতি সাধারণ এক পানীয় চা। সূর্যোদয়ের দেশটিতে বেশির ভাগ মানুষ ‘গ্রিন টি’ পান করে। গবেষণা বলছে, গ্রিন টি ক্যান্সার ও হৃদরোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমিয়ে দেয়। অন্য এক গবেষণায় জানা যায়, যারা প্রতিদিন পাঁচ কাপ গ্রিন টি পান করে তাদের মৃত্যুর হার ২৬ ভাগ কমে যায়।
সবজি: জাপানের ওকিনাওয়া অঞ্চলের মানুষ সমুদ্র শৈবালের পাশাপাশি সবুজ সবজি বেশি খায়। জাপানিদের প্রতি বেলার খাবারে অন্তত চারটি সবজি সাধারণ ব্যাপার। তাছাড়া ভাতের তুলনায় সবজিই বেশি খায় তারা।
হার্বাল গার্ডেন: ওকিনাওয়া অঞ্চলের বাড়িতে আদা, হলুদসহ বিভিন্ন ভেষজের গাছ সাধারণ ঘটনা। এ সব গাছের বিভিন্ন উপাদান অসুস্থতা রক্ষার জন্য দারুণ কার্যকর।
হাসি: দীর্ঘ জীবন লাভের জন্য হাসিটা গুরুত্বপূর্ণ। কেননা হাসিতে শরীরের রক্তের শর্করা কমায়, রক্ত চলাচল দ্রুত করে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি নষ্টে ভূমিকা রাখে।
অতীতের বাজে স্মৃতি: বেশির ভাগ জাপানী অতীতের বাজে স্মৃতি নিয়ে নাড়াচড়া না করাটাই শ্রেয় মনে করে। তারা জীবনকে উপভোগ এবং আনন্দ নিয়ে থাকতে পছন্দ করে।
বয়স্কদের শ্রদ্ধা করা: জাপানীরা বিশ্বাস করে কঠিন সময়ে ভালো থাকার মূল উৎস হচ্ছে বন্ধুত্ব। যখন একজন অন্যজনকে সম্মান করে তখন তারা আরো বেশিদিন বাঁচার উৎসাহ পায়।
9.নতুন করে আবার গড়া হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে। গত কয়েক বছরে অনেক উন্নতি করেছে এই দেশের ক্রিকেট দলতি। ২০১৫ এর বিশ্বকাপে দারুন প্রদর্শনের পর আবার ২০১৯ এর বিশ্বকাপে দারুণভাবে নিজেদের মেলে ধরল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। বিশ্বকাপ ক্রিকেটে একের পর এক ম্যাচে কঠিন প্রতিপক্ষকে পরাজিত করে তারাও বুঝিয়ে দিয়েছে বিশ্বক্রিকেটে তারাও অন্যতম সেরা দল। তবে তারকা ক্রিকেটার শাকিব আল-হাসান দুর্দান্ত পারফর্ম করলেও বিশ্বকাপে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ। তাই বিশ্বকাপের পর ঢেলে সাজছে দল। তাই বাংলাদেশের পেস বোলিং-এর কোচ হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার চার্ল ল্যাঙ্গেভেল্ট ও স্পিন বোলিং কোচ হলেন নিউজিল্যান্ডের ড্যানিয়েল ভেত্তোরি।
বাংলাদেশের স্পিন বিভাগ বরাবরই শক্তিশালী।তবে এবার স্পিন বিভাগের দায়িত্ব পেলেন ড্যানিয়েল ভেত্তোরি।
10. এখনকার দিনে এন্ড্রোয়েড বা আই ফোন সবার হাতে হাতে। এতে থাকে সমস্ত কাজ কর্ম বা নিজের পার্সনাল ডেটা। আর সেই ডেটাকে সুরক্ষিত করতে নিরাপত্তার জন্য এই শখের স্মার্টফোনটিতে দিতে হয় পার্সওয়ার্ড বা প্যাটার্ন। যদি এমন হয় আপনি আপনার প্যার্টান লক ভুলে গেছেন। কি করবেন তখন ? অনেকেই মেকানিকের কাছে যান। তবে এর সমস্যার সমাধান কিন্তু আপনার হাতেই। আসুন আজ আমরা জানবো স্মার্ট ফোনের প্যাটার্ন লক হলে কি করবেন।
প্যাটার্ন লক ভুলে গেলেও এই পদ্ধতিতে আপনি খুলতে পারবেন-
প্রথমে আপনার ফোনটি সুইচ অফ করুন।
এবার একইসঙ্গে ফোনের ভলিউম বাটন, পাওয়ার বাটন এবং হোমস্ক্রিন বাটন প্রেস করুন।
এবার আপনি স্ক্রিনে ৫টি অপশন দেখতে পাবেন।
i) Reboot data.
ii) Wipe data/factory reset.
iii) Install update.
iv) Power down.
v) Advance option.
এবার এই ৫টি অপশনের মধ্যে Wipe data/factory reset অপশনটি সিলেক্ট করুন। তারপর yes প্রেস করুন। তবে yes সিলেক্ট করার আগে মনে রাখবেন আপনার ফোনের আগেকার সমস্ত ডেটা কিন্তু মুছে যাবে। তাই সবসময় ব্যাক-আপ নিয়ে রাখবেন, যাতে এরকম পরিস্থিতিতে পড়লে আপনার গুরুত্বপূর্ণ কোনও তথ্য হারিয়ে না যায়।
এবার আপনার ফোনটি নিজে থেকেই রিস্টার্ট হয়ে যাবে। রিস্টার্ট হওয়ার পর আপনি আপনার ফোন আবার আগের মতো ব্যবহার করতে পারবেন। এবং নতুন প্যাটার্ন লক দিতে পারবেন।
11. সত্যিই এটা মায়ের প্রতি ভালোবাসার অনন্য এক দৃষ্টান্ত। হাত না থাকা সত্বেও ২৮ বছর ধরে বৃদ্ধ মা’কে খাওয়ান এক প্রতিবন্ধী. সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে এই খবরটি রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছে। প্রতিবন্ধী ওই ব্যক্তির নাম চেন ঝেনগিং। চিনের দক্ষিণ পশ্চিম এলাকায় তার বসবাস। যখন তার বয়স সাত বছর তখন বড় ধরনের ইলেকট্রিক শক খেয়ে দুটো হাতই নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো।
মায়ের পায়ের পায়ের নিচে সন্তানের স্বর্গ। যারা বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসতে সামান্য পিছ পা হয় না। তাদের জন্য উজ্জল দৃষ্ঠান্ত এই প্রতিবন্ধী। যার দুটি হাত না থাকার পরেও মা’কে ভালোবেসে ২৮ বছর ধরে প্রতিদিন মুখ দিয়ে চামচের মাধ্যমে বৃ্দ্ধ মায়ের মুখে খাবার তুলে দেন চেন নামের এক প্রতিবন্ধী।
এদিকে মা গত বছর জুলাই থেকে প্যারালাইস হওয়ার পর থেকে শরীর নাড়াতে পারে না। চেনের বর্তমান বয়স ৪৮। আজ থেকে ২৮ বছর আগে বাবাকেও হারিয়েছেন তিনি। বৃদ্ধ মাকে দেখা শোনা না করে অন্য ভাই বোনেরা পরিবার থেকে সরে গেছে বহু আগে। কিন্তু মায়ের ভালবাসা ছেড়ে কোথাও যায়নি চেন। তাই তো ২৮ বছর ধরে দুই হাত না থাকলেও মুখ দিয়েই শয্যাসায়ি মায়ের মুখে খাবার তুলে দেন চেন।
চেন বলছেন, শীতের সময়টাতেই বেশি কষ্ট হয়। কারণ হাত নেই বলে মোজা পরতে পারে না। ওর চিন্তা, এখনই এটা শিখে ফেলতে না পারলে আসছে শীতে তার মা-কে মোজা পরাতে সে পারবে না। তাই চেন এখন পা দিয়ে মোজা পরার কৌশলটা নিয়ে খুব ব্যস্ত। শীত আসছে, মা-কে ঠাণ্ডা থেকে বাঁচাতেই হবে।
12. আমরা অনেকেই জীবজন্তুর বিভিন্ন আচরণকে আমাদের জীবনের নানা ঘটনার অগ্রিম আভাষ বলে মনে করি। ২০০৭ সালের জুলাই মাসে ইংল্যান্ডের একটি মেডিক্যাল জার্নালে প্রকাশিত হয় মৃত্যুর বিষয়ে বিড়ালের সংবেদনা নিয়ে একটি গবেষণা-নিবন্ধ। সেখানে দেখানো হয়েছে যে, রোজ আইল্যান্ডে অস্কার নামে একটি বিড়াল কারোর মৃত্যুর সময়ে আশ্চর্য আচরণ করে। একটি হাসপাতালে তাকে নিয়ে গিয়ে রাখা হয়। সেখানে কোনও রোগীর মৃত্যু আসন্ন হলে সে সেই মৃত্যুপথযাত্রীর বিছানার পাশে গিয়ে বসে থাক। এইভাবে অস্কার ২৫টি মৃত্যুপথযাত্রীর মৃত্যুর খবর আগাম জানিয়ে দিয়েছে।
মৃত্যুর অগ্রিম খবর মানুষের আগে নাকি জীবজন্তুরা পায়। এই বিষয় নিয়ে দীর্ঘ বক্তব্য তুলে ধরেছেন প্যারানর্মালবাদীরা। এছাড়াও বিভিন্ন দেশের বহু সংস্কারে এই ব্যাপারে বহু বিচিত্র তথ্য সন্নিবিষ্ট রয়েছে।
শুধুই বিড়াল নয়, এ রকম অনেক প্রাণী আছে যারা মৃত্যুকে আগাম জানিয়ে দিতে পারে। আসুন দেখা নেওয়া যাক, কোন কোন প্রাণী কীভাবে এই কাজটি করে –
একটি প্রাচীন প্রবাদে জানানো হয়েছিল, পেঁচা গান গাইলে জানতে হবে, কারোর মৃত্যু আসন্ন। পেঁচার একটি বিশেষ ডাককেই এখানে ‘গান’ বলা হয়েছে। ক্যাথলিক সন্ন্যাসীরা পেঁচাকে দীর্ঘকাল ধরে ‘ডেভিলের অ্যাসোসিয়েট’ বলে বর্ণনা করে এসেছেন।
কালো প্রজাপতি সম্পর্কেও একই রকমের সংস্কার বহু সভ্যতায় বহমান রয়েছে। আসলে এটি এক প্রকার মথ। রাতচরা এই কালো পতঙ্গকে অনেকেই অশুভ ইঙ্গিতবাহী বলে মনে করেন। কালো পতঙ্গের অনুষঙ্গে মৃত্যুকে দেখেছেন, এমন কাহিনি ছড়িয়ে রয়েছে ইউরোপের অনেক দশের সাহিত্যেই। আমাদের দেশে শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়ের অবিস্মরণীয় ছোটগল্প ‘মরণ ভোমরা’-য় একটি কালো ভ্রমর ছিল অনিবার্য মৃত্যুর অগ্রদূত।
বাদুড়কে দক্ষিণ আমেরিকার মায়া ও আজটেক সভ্যতায় মৃত্যুর আগ্রদূত বলে মনে করা হত। বাদুড় খুবই রহস্যময় প্রাণী। ইউরোপের সংস্কৃতিতে তার স্থান পরলোক আর ইহলোকের মাঝামাঝি একটা ধূসর এলাকায়। বাদুড় নিয়ে আমাদের দেশেও মৃত্যু-সংক্রান্ত সংস্কার কম নেই।
সাদা পেঁচাকে ভারতে মা লক্ষ্মীর বাহন মনে করা হয়। কিন্তু ইউরোপে সে খুব সুবিধের প্রাণী নয়। বাড়ির আশেপাশে তার উড়ানকে অনেকেই মৃত্যুর পূর্বাভাস বলে মনে করেন। এই ভাবনার পিছনে কাজ করছে উইচক্রাফ্ট নিয়ে ইউরোপীয়দের দীর্ধকালীন সংস্কার। সাদা পেঁচা উইচদের অ্যাসোসিয়েট হিসেবে প্রসিদ্ধ। আর উইচদের সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব সেখানে দীর্ঘকালীন। তবে এই ব্যাপারে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েচেলেন জে কে রাওলিং। হ্যারি পটারের অ্যাসোসিয়েট হেডইউগ একটি সাদা পেঁচা। আর সে কখনওই ‘অশুভ’ নয়।
কালো ঘোড়াকেও মৃত্যুর অগ্রদূত মনে করে ইউরোপ। কোনও শবযাত্রায় কেউ যদি কোনও কালো ঘোড়াকে তাঁর দিকে তাকিয়ে থাকতে দেখেন, তাঁর ঘাড়ে মৃত্যু নিঃশ্বাস ফেলছে বলে ধরতে হবে।
পশ্চিমে এমন বিশ্বাসও রয়েছে যে, কোনও মোরগ যদি কোনও মুরগির সঙ্গে ‘কথা বলে’, তাহলে নাকি কয়েক ঘণ্টার মধ্যে সেখানে কারোর মৃত্যু ঘটবে। তবে এমন ক্ষেত্রে নাকি অবিবাহিতা মেয়েদের মৃত্যুর আশঙ্কাই বেশি থাকে। যদি দু’টি মুরগি একটি মোরগের সঙ্গে গুফতগু করে তাহলে জানতে হবে কোনও দম্পতির মৃত্যু আসন্ন। আর যদি কোনও মুরগি কোনও মোরগের ডাককে নকল করে, তা হলে বুঝতে হবে, সেখানে মৃত্যু ঘোরাফেরা করছে।
বিড়াল ও আসন্ন মৃত্যুর কথা আগেই বলা হয়েছে। কেবল রোড আইল্যান্ডের অস্কার নয়, বিড়াল মাত্রেই মৃত্যুর পূর্বাভাস দেয়। তারা নাকি মৃত্যুর গন্ধ পায়।
কুকুরের আচরণেও আসন্ন মৃত্যুর প্রভাব পড়ে। তারা এমন কোনও অমঙ্গলের আঁচ পেলে কান্নার সুরে ডাকাডাকি করতে থাকে।
13. ‘বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল’। এটি হোল একটি রহস্যময় এলাকা। এখানে প্রায়ই ঘটে থাকে রহস্যজনক সব ঘটনা। অরণ্যে ঘেরা এই অঞ্চলটি এখনো অনেকের কাছেই রহস্যময়, এই অরণ্যে ঢুকলেই কেউ হয়তো শুনতে পায় অদ্ভুত সব আওয়াজ, কেউ বনের মধ্যে পথ হারিয়ে আর ফিরে আসে না, আবার কেউ হয়ে পড়ে বদ্ধ উন্মাদ। স্থানীয় অনেকেই মনে করেন, স্থানটিতে নাকি এক অশুভ শক্তির প্রভাব আছে। তার ফলে ঘটেছে একের পর এক রহস্যজনক নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা। প্যারানরমাল গল্প লেখক জোসেফ এ সিত্রো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম ভারমন্টে অবস্থিত রহস্যজনক এই স্থানটির নাম দেন ‘বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল’। ১৮৯২ সালে এলাকাটির রহস্যময়তার প্রথম সূত্রপাত ঘটে বলে অনেকেই মনে করে থাকেন। এ সময় হেনরি ম্যাকডওয়েল নামের এক স্থানীয় মাতাল জিম ক্রাউলি নামের এক কারখানার শ্রমিককে হত্যা করে। বিচারে ম্যাকডওয়েলকে উন্মাদ ঘোষণা করা হয় এবং ওয়াটারবেরি অ্যাসাইলামে পাঠানো হয়, কিন্তু তার আগেই সে জেলখানা থেকে পালিয়ে যায়। তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।এর প্রায় ৩০ বছর পর একের পর এক রহস্যময় ঘটনা ঘটতে শুরু করে। ১৯২০ থেকে ১৯৫০ সালের মধ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলে ঘটেছিল এমন কয়েকটি নিখোঁজের ঘটনা, যার রহস্যভেদ করা এখনো কোনো সার্চ টিম বা তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে সম্ভব হয়নি। কীভাবে একের পর এক এসব নিখোঁজের ঘটনা ঘটেছিল, চলুন তাহলে তা জেনে আসি।
প্রথম ঘটনা
প্রথম যে ঘটনায় বেনিংটন ট্রায়াঙ্গল তোলপাড় হয়, তা আজ থেকে অনেক বছর আগের কথা, ১৯৪৫ সালের ২ নভেম্বরের ঘটনা। ৭৫ বছর বয়সী মিডি রিভার্স নামের একজন গাইড ৪ জন শিকারীকে নিয়ে পাহাড়ে গেলেন শিকারের উদ্দেশ্যে। দলটিকে নিয়ে ফিরে আসার সময় লং ট্রেইল রোড ও ৯ নম্বর রুটের কাছাকাছি এসে রিভার্স তার সহযাত্রীদের থেকে সামান্য এগিয়ে যান। এরপর থেকে তার সহযাত্রীরা তার আর কোনো হদিসই পাননি। হঠাৎই ওই জায়গা থেকে তিনি অদৃশ্য হয়ে গেলেন। পরে স্থানীয় পুলিশ ও স্বেচ্ছাসেবকের দল চিরুনি অভিযান চালিয়েও রিভার্সের দেখা তো দূরে থাক, তার দেহ পর্যন্ত খুঁজে পায়নি।
দ্বিতীয় ঘটনা
পরের ঘটনাটি ঘটে প্রায় এক বছর পর। ১৯৪৬ সালের ১ ডিসেম্বর। বেনিংটন কলেজে অধ্যয়নরত পলা ওয়েল্ডেন নামের এক ১৮ বছরের যুবতী ভ্রমণের নেশায় লং ট্রেইলের উদ্দেশ্যে বেনিংটন ট্রায়াঙ্গলের বনের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তার পরিচিত অনেকেই তাকে বনের মধ্য দিয়ে যেতে দেখেছে। কিন্তু সে আর জঙ্গল থেকে কখনো ফিরে আসেনি। এরপর তাকে খুঁজে দেওয়া বা তার সন্ধান দেয়ার জন্য ৫,০০০ ডলারের পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের তদন্ত সংস্থা এফবিআইয়ের সাহায্য নেওয়া হয়। কিন্তু কোনোভাবেই তাকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে তাকে নিয়ে এমন গুজব ছড়ায় যে, পলা হয়তোবা তার প্রেমিকের সাথে কানাডায় চলে গেছে। আরেকটি ধারণাও তখন বেশ প্রচলিত ছিল, আর তা হচ্ছে প্রকৃতির মাঝে একাকী নিরিবিলি জীবনযাপনের জন্য নির্জন জঙ্গলকে বেছে নিয়েছে পলা। কিন্তু এর সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
কেন ঘটছে একের পর এক এই অদৃশ্য হওয়ার ঘটনা?
অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞরা এ নিয়ে তাদের নানা অভিমত উপস্থাপন করেছেন। নেটিভ আমেরিকানরা গ্লসটেনবারি মাউন্টেনের আশেপাশের এলাকাটি ‘অভিশপ্ত ভূমি’ বলে মনে করেন। এলাকাটিতে বসবাস স্থাপনকারী প্রথম ইউরোপীয় অধিবাসীদের এক অংশের অভিমত, পাহাড়ের পেছনের আকাশে প্রায় সময়ই এক অদ্ভুত আলোর ঝলকানি দেখা যায়। বাতাসে ভেসে বেড়ায় এক মাদকতাময় গন্ধ আর মাঝে মাঝে শোনা যায় নানা অদ্ভুত ধ্বনি। স্থানীয় কারো কারো মতে, এক বিশাল দৈত্যাকার প্রাণীর বাস রয়েছে জঙ্গলটিতে। এই প্রাণীটির অকস্মাৎ আক্রমণের শিকার হয় অভিযাত্রীরা।
অনেক প্যারানরমাল বিশেষজ্ঞের মতে, স্থানটিতে বাস্তব চেনা ত্রিমাত্রিক জগতের প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ঘটে, যার ফলে কেউ এই জগতে প্রবেশ করতে গেলে সে দিকভ্রান্ত হয়ে হারিয়ে যায়। আবার অনেকের মতে, ভিন্ন গ্রহের প্রাণীদের অবস্থান রয়েছে এই বেনিংটন টায়াঙ্গল জঙ্গলে, তাদের কারণেই ঘটছে এসব অস্বাভাবিকতা। আরেকটি মত হচ্ছে, কোনো সিরিয়াল খুনি বনের মধ্যে বসতি গড়ে আছে, সে-ই এই সব খুনের পেছনে দায়ী। বিষয়টি যদি সত্যি হয়, তাহলে একটি প্রশ্ন সামনে এসে দাঁড়ায়, এতগুলো হত্যাকাণ্ডের কোনো হদিস কেন পাওয়া গেল না। একটি ছাড়া কেন পাওয়া গেলো না আর কোনো মৃতদেহ।
এরপরও এমন কিছু তথ্য এসব অদৃশ্য ঘটনার পেছনে পাওয়া যায়, যেগুলো বেশ রোমাঞ্চকর।
সবগুলো হত্যাকাণ্ড একটি বিশেষ সময়ে ঘটেছে। শীতের সময় ছাড়া বছরের অন্য সময়ে কেন এমন কিছু ঘটে না?
১৯৪২ ও ১৯৫০ সালের মধ্যে এসব অদৃশ্য হওয়ার ঘটনাগুলো ঘটেছে।
ফ্রিডা ছাড়া আর কারো কোনো হদিস শেষপর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কিন্তু কীভাবে ফ্রিডা তার তাঁবু থেকে অদৃশ্য হয়ে গেল, সেটিই একটি রহস্য।
হারিয়ে যাওয়ার পর অনুসন্ধান দল তন্নতন্ন করে খুঁজেও ফ্রিডার কোনো হদিস পায়নি। অথচ এক বছর পর যে জায়গা থেকে তিনি হারিয়ে গিয়েছিলেন, সেখানেই তার লাশ পাওয়া যায়, যা এক বড় রহস্য।
ফ্রিডা এবং রিভার দু’জনই বয়স্ক ব্যক্তি ছিলেন এবং এলাকাটি তাদের নখদর্পনে ছিল। তাই পথ হারিয়ে ফেলা তাদের পক্ষে একবারেই অসম্ভব।
অপর দুই ভিকটিম ওয়েল্ডন ও জেপসন উজ্জ্বল লাল জ্যাকেট পরিহিত ছিল। ফলে অনেক দূর থেকে তাদের দেখতে পাওয়া যাওয়ার কথা। কিন্তু তাদের পরিহিত কোনো কাপড় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
আবার ওয়েল্ডন ও ট্রেডফোর্ড এই দুই ভিকটিম তিন বছরের ব্যবধানে একই তারিখে অদৃশ্য হয়ে যান, যা বেশ কাকতালীয়।
১৯৩৭ সালের পূর্বে এলাকাটি বেশ জনবহুল ছিল। কিন্তু ১৯৩৭ সালের দিকে গ্লসটেনবারি শহরে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারি দেখা দেয়, ফলে অনেক লোকের প্রাণহানি ঘটে। সে সময় নগরটি পরিত্যক্ত হয়। ২০১০ সালের একটি আদশুমারীর তথ্য অনুযায়ী, এই এলাকাটিতে সব মিলিয়ে মাত্র আটজন বাসিন্দা বাস করে। বর্তমানে এটি ভূতুড়ে শহর হিসেবেই পরিচিত।
14. চিংড়ি মাছ নামটা বাঙালীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় নাম। চুনো চিংড়ি থেকে শুরু করে গলদা চিংড়ি অবধি, রেসিপি অনেক। তবে চিংড়ি মাছের উপকারিতা কি তা কি কেউ জানেন?
আয়রনের অভাব দূর করেঃ
আয়রনের অভাবে অনেক সময় আমাদের শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। এই চিংড়ি মাছ আমাদের শরীরে আয়রনের অভাব দূর করতে পারে খুব সহজেই। কারন প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছে রয়েছে ১৭% আয়রন। নিয়মিত চিংড়ি মাছ খেলে আমাদের শরীরে আয়রনের অভাব দূর হয়ে যায়।
রক্ত স্বল্পতা দূর করতে চিংড়িঃ
চিংড়ী মাছ আমাদের শরীরে হিমোগ্লোবিন বা রক্ত কণিকা বৃদ্ধি করে। কারন এতে রয়েছে ভিটামিন বি ১২ । এই ভিটামিন বি ১২ আমাদের শরীরের রক্ত স্বল্পতা দূর করে।
অতিরিক্ত চর্বি কমাতে চিংড়িঃ
চিংড়িতে রয়েছে নিয়াসিন নামক অত্যন্ত উপকারী উপাদান। যা আমাদের শরীরের অতিরিক্ত চর্বি, কার্বোহাইড্রেট ও প্রোটিনকে এনার্জিতে রুপান্তরিত করে। ফলে শরীরে চর্বি জমার কোন অভিপ্রায় নেই ও ওজন থাকে সঠিক।
হাড়ের ক্ষয় রোধ করে চিংড়িঃ
নিয়মিত চিংড়ি মাছ খেলে হাড়ের ক্ষয় রোধ হয় এবং হাড় মজবুত থাকে। কারন চিংড়ি মাছে রয়েছে ফসফরাস নামক এক বেশেষ সাস্থ্যকর উপাদান।
বিষন্নতা দূর করে চিংড়িঃ
চিংড়ি আমাদের দেহের বিষন্নতা দূর করে। কারন প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছে রয়েছে ৩৪৭ মিলিগ্রাম ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড। বিশিষ্ট গবেষকদের মতে মানবদেহের মস্তিষ্কে সেরেটেনিন উৎপন্ন করে যা আমাদের বিষাদ বা বিষন্নতা দূর করে।
প্রস্রাবের সমস্যায় চিংড়িঃ
চিংড়ি মাছে রয়েছে জিংক নামক উপাদান। যা আমাদের প্রস্রাবের বিভিন্ন সমস্যা ও ইনফেকশন থেকে রক্ষা করে। এই জিংক মুত্রথলি সংক্রান্ত ক্যান্সার থেকেও সুরক্ষা করতে পারে।
ডায়বেটিস সারাতে চিংড়িঃ
প্রতি ১০০ গ্রাম চিংড়ি মাছে রয়েছে ৮% ম্যাগনেসিয়াম। আর এই ম্যাগনেসিয়াম ডায়বেটিস রোগীদের জন্য একটি আদর্শ উপাদান। ম্যাগনেসিয়াম আমাদের শরীরে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখে। আর এই ম্যাগনেসিয়াম ডায়বেটিস রোগীদের জন্য গুরুত্বপুর্ণ উপাদান। নিয়মিত চিংড়ি মাছ খেলে ম্যাগনেসিয়ামের পরিমাণ সঠিকভাবে বজায় রাখে। ফলে ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে থাকে।
থাইরয়েডের সমস্যায় চিংড়িঃ
একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ চিংড়ি মাছে রয়েছে এর ১০% কপার। যা আমাদের শরীরে হরমোনের মাত্রা সঠিক রাখে ও থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যক্ষমতা বাড়িয়ে তোলে। নিয়মিত চিংড়ী মাছ খেলে থাইরয়েড জনিত সমস্যা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
15. প্রচন্ড গবেষণার মধ্যে দিয়ে গিয়ে আবিষ্কার হয় কোন নতুন জিনিস। যে সমস্ত বিজ্ঞানীরা জীবনে কিছু আবিস্কার করে গেছেন তারা সারা জীবনের জন্য অমর হয়ে গেছেন। কিন্তু নিজেদের আবিষ্কারই মৃত্যু কারণ হয়েছিল কিছু উদ্ভাবকের, সেটা আপনি হয়তো জানেন না।
সিলভাস্টার এইচ রোপার: অটোমোবাইল ও মোটরসাইকেলের জনক। তিনি স্টিম প্রপেলড বাইসাইকেলের আবিষ্কর্তা। ১৮৯৬ সালে ম্যাসাচুসেটসে রিভার বাইসাইকেল ট্র্যাকে নিজের আবিষ্কৃত সাইকেল চালিয়ে পরীক্ষা করছিলেন। ঘণ্টায় ৬৪ কিলোমিটার গতিতে ছুটছিল সাইকেল। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পড়ে গিয়ে মাথায় আঘাত পেয়ে মৃত্যু হয় তার।
ফ্রাঁ রেইক্লে: 'ফ্লাইং টেলর' নামে পরিচিত তিনি। আবিষ্কার করেছিলেন প্যারাশুট পোশাক। সেটা পরীক্ষার জন্য পাঁচ তলা বাড়ি থেকে লাফ দেন। সফল হয় সে পরীক্ষা। আরও উঁচু থেকে লাফ দিলে কেমন কাজ করে তা পরীক্ষা করতে আইফেল টাওয়ার থেকে লাফ দেন। প্যারাশুট না কাজ করায় আইফেল টাওয়ারের নীচে আছড়ে পড়ে মৃত্যু হয় তার।
মেরি কুরি: পোলোনিয়াম ও রেডিয়ামের আবিষ্কর্তা। গবেষণাকালীন পকেটে রেডিয়ামের টেস্ট টিউবগুলো রাখতেন। ধীরে ধীরে তার দেহে তেজস্ক্রিয়তার প্রভাব পড়তে থাকে। আর তা থেকেই এপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। ৬৬ বছর বয়সে ১৯৩৪ সালে মৃত্যু হয় তার।
জ্যঁ ফ্রাসোয়াঁ পিলাত্রে দ্য রজিয়া: রসায়ন ও পদার্থবিদ্যার শিক্ষক ছিলেন। হট এয়ার বেলুনের আবিষ্কর্তা তিনি। তারই তৈরি বেলুনে চেপে ইংলিশ চ্যানেল পার করার সময় সেটি ভেঙে পড়ে। মৃত্যু হয় জ্যঁ ফ্রাসোয়াঁ ও তার এক সঙ্গীর।
ম্যাক্স ভ্যালিয়ার: অস্ট্রিয়ার বিজ্ঞানী। লিকুইড ফুয়েলড রকেট ইঞ্জিনের আবিষ্কর্তা। ১৯২০-র শেষের দিকে ভ্যালিয়ার হেল্যান্ড র্যাক ৭ নামে একটি রকেট কার তৈরি করেন। গবেষণাকালীন সেই রকেট ইঞ্জিন ফেটে ১৯৩০-এ মৃত্যু হয় তার।
অটো লিলয়েনথেল: 'গ্লাইডার কিং' নামে পরিচিত ছিলেন এই জার্মান বিজ্ঞানী। আবিষ্কার করেছিলেন 'হ্যান্ড গ্লাইডার'। ১৮৯৬ সালে নিজের তৈরি গ্লাইডারের পরীক্ষার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। ৫০ ফুট উপর থেকে পড়ে মৃত্যু হয় তার।
উইলিয়াম বুলক: ওয়েব রোটারি প্রিন্টিং প্রেসের আবিষ্কর্তা। ফিলাডেলফিয়ায় তাঁর তৈরি প্রেস মেশিন ইনস্টল করার সময় তাতে পা আটকে যায়। ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায় পা। গ্যাংরিন হয়ে মৃত্যু হয় তার।
হোরাস লসন হানলি: বিশ্বের প্রথম কমব্যাট সাবমেরিন আবিষ্কার করেন হানলি। তিনি সিএসএস হানলি নামে পরিচিত। ১৮৬৩ সালে সাত জন ক্রু-কে নিয়ে সেই সাবমেরিনে রুটিন মহড়া দিচ্ছিলেন। সাবমেরিনটি আর ভেসে ওঠেনি। হামলি-সহ ৮ জনের সলিল সমাধি হয়।
[
16. সাম্প্রতিককালে শিশুদের ইউটিউব চ্যানেলগুলো বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এদের ভিউয়ারস বাড়ছে প্রচণ্ড হারে। এই সাফল্যকেই হাতিয়ার করে নিজের আয়ের টাকায় বাড়ি কিনলো ছয় বছরের শিশু।
বয়স মাত্র ছয় বছর। কিন্তু নিজের আয়ে ৮০ লাখ মার্কিন ডলার দিয়ে বাড়ি কিনেছে। এই ঘটনা ঘটেছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। নিজের ইউটিউব চ্যানেল থেকে এ অর্থ আয় করেছে ওই শিশু।
বোরাম নামের শিশুটি নিজের নামে দুটি ইউটিউব চ্যানেল খুলেছে। এর মধ্যে একটি চ্যানেলের দর্শকসংখ্যা এক কোটি ৩৬ লাখ অপরটির এক কোটি ৭৬ লাখ। বোরাম একটি চ্যানেলের মধ্যে বিভিন্ন রকম পুতুলের আপডেট দিয়ে থাকে।
এছাড়া অন্য একটি চ্যানেলে বোরামকে দেখা গেছে তাত্ক্ষণিক (ইন্সট্যান্ট) নুডলস বানাতে। তবে বোরামের পথচলা কিন্তু শুরু থেকে মসৃণ ছিল না। নানা বিতর্ক হয়েছে তার চ্যানেলগুলো নিয়ে। বিশেষ করে এতো অল্প বয়সে ইউটিউব চ্যানেল চালানো ঠিক হচ্ছে কি না তা নিয়েও বিতর্ক হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সাধারণ নাগরিকরা বোরামের বিরুদ্ধে সেভ দ্য চিলড্রেনের কাছে নালিশ জানিয়েছিল। কেউ কেউ এক পা বাড়িয়ে আদালতে পর্যন্ত গিয়েছে। কিন্তু আদালত বোরামের পক্ষেই রায় দিয়েছে।
17. জুলাই ২৬-২৮ নিউ ইয়র্কের আর্থার অ্যাসে স্টেডিয়ামে ছিল ফোর্টনাইট বিশ্বকাপের ফাইনাল। বিশ্বের অন্তত ৩০টি দেশের খেলোয়াড়রা যোগদান করেছিল এখানে। তার মধ্যে মার্কিন মুলুক থেকে ছিল ৭০ জন, ফ্রান্স থেকে ১৪ জন, ব্রিটেন থেকে ১১ জন ইত্যাদি। একশোরও বেশি খেলোয়াড়কে হারিয়ে প্রথম স্থান দখল করে নিয়েছে কাইল। ফোর্টনাইট কর্তৃপক্ষের কথায়, দ্বিতীয় স্থানাধিকারীর থেকে দ্বিগুণেরও বেশি নম্বর পেয়েছে এই কিশোর।
ফিফা ফোর্টনাইট বিশ্বকাপের শেষ রাউন্ড অবধি টিকে থাকাটাই চ্যালেঞ্জ। পর পর জটিল থেকে জটিলতর রাউন্ড শেষ করে খেলা শেষে পয়েন্ট কাউন্ট করে দেখা যায়, প্রায় ১০০ জন খেলোয়াড়কে পিছনে ফেলে দ্বিগুণেরও বেশি নম্বর তুলে নিয়েছে ১৬ বছরের এক কিশোর। কাইল গিয়ের্সডফ ওরফে ‘বুঘা’। আমেরিকার এই কিশোরের তুখোড় পারফরম্যান্ড দেখে মুগ্ধ গোটা বিশ্ব। ২০ কোটি টাকার পুরস্কার ইতিমধ্যেই ঝুলিতে পুরে নিয়েছে সে।
পেনসিলভানিয়ার বাসিন্দা কাইল। ছোট থেকেই খেলাধূলায় তুখোড়। এই বয়সে যে কোনও রকমের গেমেই হাত পাকিয়ে ফেলেছে সে। কাইলের বন্ধু কোলিন ব্র্যাডলে জানিয়েছে, বিন্দুমাত্র ভয়ডর নেই কাইলের। প্রতি দিনই নতুন উদ্যোমে প্র্যাকটিস করত সে। সামান্য অবসাদও কখনও দেখা যায়নি তার ভিতরে। অফুরন্ত প্রাণশক্তি রয়েছে কাইলের।ফিফা ফোর্টনাইটের একটা বিশেষত্ব আছে। টানা কয়েকদিন ধরে চলে এই গেম। যেখানে খেলোয়াড়দের জনমানবশূন্য কোনও দ্বীপে ছেড়ে দেওয়া হয়। দ্বীপের আনাচ কানাচে লোকানো থাকে অস্ত্রসস্ত্র ও অন্যান্য জিনিস। সেগুলো খুঁজে বার করতে হয় প্রতিযোগীদের। যারা নিয়ম মাফিক সবকিছু আয়ত্তে এনে বাকিদের মাত দিতে পারে, তারাই টিকে থাকে। প্রতি রাউন্ডে নম্বরের ভিত্তিতে পুরস্কারের অঙ্ক বাড়তে থাকে। শেষ অবধি সবচেয়ে বেশি নম্বর কাউন্ট করবে যে প্রতিযোগী সেই হবে সেরা।ফোর্টনাইট কর্তৃপক্ষের কথায়, গোটা টুর্নামেন্টের জন্য ভারতীয় টাকায় প্রায় ৭০০ কোটি খরচ করা হয়েছে। যার মধ্যে পুরস্কার ও অন্যান্য খরচ বাবদ ধরা হয়েছিল ২০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। প্রথম পুরস্কার ২০ কোটি জিতে নিয়েছে কাইল। এর আগে ফিফা ফোর্টনাইটে এত বেশি টাকা জিততে পারেনি কেউ।
তবে বাকি প্রতিযোগীদেরও নিরাশ করবেন না ফোর্টনাইট কর্তৃপক্ষ। কাইলের পরেই আর্জেন্টিনার ১৩ বছরের থিয়াগো ল্যাপ ওরফে ‘কিং’ ভালো নম্বর স্কোর করেছে। খেলা শেষে প্রতি প্রতিযোগীর হাতেই অন্তত ৩৫ লক্ষ টাকা করে তুলে দেবে ফোর্টনাইট।
18. ভূতের গল্প ছোট বেলা থেকে সবাই ভালবাসে। কিন্তু বাস্তবে ভূত আছে কি নেই তা নিয়ে অনেকের মনেই রয়েছে সন্দেহ। তবে বিভিন্ন সময় অনেকের ক্যামেরায় উঠে এসেছে ভূতের প্রমাণ। এসব ছবির সত্যতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও বহু মানুষেরই শিরদাঁড়া দিয়ে শীতল স্রোত বয়ে যায় এ ছবি দেখে।
ভূতের ব্রিজ
ঘটনাটি যে ব্রিজের ওপর হয়েছিল তার নামই পরবর্তীতে ভূতের ব্রিজ হয়ে ওঠে। আর ভূতের এ কাহিনীটি বহু মানুষের মুখ বিভিন্ন রকমভাবে ছড়িয়ে পড়ে। তবে সেগুলোর মধ্যে একটি কাহিনীর নিশ্চয়তা পাওয়া গিয়েছিল।
জনশ্রুতি রয়েছে ভূতটি ব্রিজের ওপর প্রতি রাতেই ঘোরাঘুরি করত। ১৯৬০ সালের ঘটনা এটি। আর এ কাহিনীর সূত্রপাত এক সেনাসদস্যের হাতে তার স্ত্রীকে হত্যা করার মাধ্যমে। খুন হওয়ার পর সে নারীর দেহ এ ব্রিজ থেকে ফেলে দেওয়া হয়। জানা যায়, তার দেহটি ব্রিজের ওপর থেকে বা নিচ থেকে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এরপর থেকেই সেখানে রাতে দেখা যেত অদ্ভূত এক নারীমূর্তির। অনেকেই কবরস্থানে অর্ধগলিত লাশ যেমন, তেমন চেহারায় দেখতে পান তাকে ঘোরাঘুরি করতে।
জানা যায়, বহু পুরনো ও সংকীর্ণ এ ব্রিজ দিয়ে রাতে যাতায়াতের সময় কোনো গাড়ির স্টার্ট যদি বন্ধ হয়ে যেত তাহলে তা কখনোই চালু হত না। ফলে আতঙ্কের মধ্যে সারা রাত পার করতে হত। এ সময় এক ছবিতে ধরা পড়ে সেই অদ্ভুত চেহারা।
এ ভূতের ভয়ে সে রাস্তায় রাতে গাড়িতে যেতে চাইত না কেউ। আর নতুন যারা এ রাস্তায় যেত তারা প্রায়ই বিপদের মুখোমুখি হত। তবে এ ভূত বাস্তবে কারো ক্ষতি করেছে, এমনটা জানা যায়নি।
19. একটা জাতির সংস্কৃতি টিকে থাকে এবং প্রসারতা পায় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে। আবার সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পেতে সংস্কৃতি সংরক্ষণের কতগুলো সুর্দিষ্টি অধিকারেরও প্রয়োজন পড়ে। প্রয়োজন হয় রাষ্ট্র কর্তৃক স্বীকৃত চিন্তা ও বিবেকের স্বাধীনতা। যা আমাদের পবিত্র সংবিধান কর্তৃক দেয়া হয়েছে।
একটা জাতির সংস্কৃতি তখনই জীবিতাবস্থায় টিকে থাকে যখন সেই জাতি পৃথিবীতে বেঁচে থেকে সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পায়। আর মানুষকে বেঁচে থাকবার বসবাসের জন্য প্রয়োজন হয় ভূমির। পৃথিবীতে এমনও জাতি রয়েছে, যে জাতির সংস্কৃতি-সাংস্কৃতিক ভূমিকে কেন্দ্র করেই চর্চা হয় আর টিকে থাকে। আর আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর প্রত্যেকটা জাতির সংস্কৃতি-বিশ্বাস সম্পূর্ণ ভূমিকে কেন্দ্র করে বিনির্মিত।
উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে, পার্বত্য চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলায় বসবাসরত এমনি একটা জাতি হলো 'ত্রিপুরা'। যাদের জীবন-জীবিকা, সংস্কৃতি, লোক-উত্সব, পার্বন, পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় বিশ্বাস, লোক-বিশ্বাস ইত্যাদি ভূমিকে কেন্দ্র করে উত্পত্তি ও চর্চিত।
বাংলাদেশের ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর অধিকাংশই পর্বতবাসী ও জুমচাষী। আর জুমকে কেন্দ্র করে তাদের রয়েছে হাজারো পূজা-পার্বন, উত্সব-অনুষ্ঠান, ধর্মীয়-চেতনা, বিশ্বাস, রীতিনীতি, প্রথা, রিচ্যুয়াল ইত্যাদি।
আদিবাসীদের জীবিকা: বিজ্ঞান-প্রযুক্তির এই যুগেও ভৌগলিক অবস্থানগত কারণে এখনো আদিবাসীদের প্রধান জাবিকার মাধ্যম জুম চাষ। বিশেষ করে পার্বত্য চট্টগ্রামের আদিবাসীদের জীবিকার মাধ্যম জুম চাষের উপর ভিত্তি করেই কৃষ্টি-সংস্কৃতি, সাহিত্য, বিশ্বাস-মূল্যবোধ গড়ে উঠেছে। তাদের নাচ, গান, ছড়া, গল্প, রূপকথা, ধাঁধাঁ, শ্লোক, বাদ্য-যন্ত্র, পোষাক-পরিচ্ছদ, হাতিয়ার ইত্যাদি জুম
ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর কাছে জুমচাষ যেমনি একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ বাজার ব্যবস্থা তেমনি তাদের সংস্কৃতির জগত্টাও এই জুমচাষকে কেন্দ্র করে। এবং একেঅপরের বিশ্বাসের ক্ষেত্রও রয়েছে জুমচাষকে কেন্দ্র করে।
জুমচাষের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ত্রিপুরা জুমিয়ারা বিভিন্ন রিচ্যুয়াল ও পূজা-পার্বন সম্পন্ন করে থাকে। জুমজমি নির্বাচনের ক্ষেত্রে তারা বেশ কিছু রিচ্যুয়াল মেনে চলে। যেমন- স্বামী-স্ত্রী উভয়ই পাহাড় পছন্দ করে বিশেষ একটি পূজা সম্পাদনের মাধ্যমে পাহাড় নির্ধারণ করে বাড়িতে ফিরতে হয়। এটাকে ত্রিপুরা ভাষায় 'লাওয়া কাইনাই' বলা হয়। সাধারণত দূর্গা পূজার দশমির দিনে এ কার্য সম্পাদন করতে হয়। এই কার্যটি সম্পাদন করতে জুমিয়া গৃহস্থকে পছন্দকৃত পাহাড়ের অল্প কিছু জঙ্গল পরিস্কার করে সেখানে পাহাড় বা বন দেবতার প্রকৃতিস্বরূপ তিন টুকরা বাঁশের চোঙা মাটিতে গেড়ে, তাতে পাতা বিছিয়ে, পাতায় তিন টুকরা সেই পাহাড়ের মাটি বিশেষ করে কেঁচোর মাটি রেখে দিয়ে বন দেবতার উদ্দেশ্যে প্রার্থনা করে পাহাড়টি জুম চাষ করার জন্য অনুমতি নিতে হয়। পূজায় দেয়া তিন টুকরা মাটি বাড়িতে নিয়ে এসে রাতে বালিশের নিচে রেখে ঘুমাতে হয়। আর ওইদিন জুমিয়া স্বামী-স্ত্রী স্নান করতে পারবে না। তবে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে যিনি রাতে স্বপ্নের মধ্যে বনদেবতার অনুমতির প্রতীক্ষায় থাকবেন বলে দায়িত্ব নেন তিনি ছাড়া বাকীজন স্নান করতে পারবেন। ওই রাতেই বনদেবতা বিভিন্নরূপে জুমিয়া স্বামী-স্ত্রীর স্বপ্নে দেখা দিবে। নির্ধারণ করা পাহাড়টি কোনরকম দোষ-ত্রুটি না থাকে তাহলে তারা ইতিবাচক স্বপ্ন দেখতে পায় আর দোষ-ত্রুটি থাকলে নেতিবাচক কিছু স্বপ্নে দেখতে পাওয়া যায়।
ওই এক রাতের স্বপ্নের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ-নির্বাচন করে আসা পাহাড়টিতে তারা সে বছর জুমচাষ করতে পারবে কি না। আবার এখানে বিশ্বাসের মর্যাদাও দেখা যায়। নির্বাচিত পাহাড়টিতে 'লাওয়া কাইনাই' চিহ্ন দেখতে পেলে ওই পাহাড়টি আর কেউই তাতে হাত দেয়না।
অগ্রহায়ণ-পৌষ মাসের দিকে জুমের জঙ্গল কাটা শুরুর আগে ত্রিপুরা গ্রামগুলোতে 'কের পূজা' উত্সব শুরু হয়। ত্রিপুরাদের প্রধান দেবতা কেরপূজাও জুমচাষ ও জীবন-জীবিকাকে কেন্দ্র করে সম্পাদন করা হয়। কেরপূজা মূলত প্রকৃতির বিভিন্ন বিভাগের প্রধান দেবতাদের সন্তুষ্ট করার জন্য হয়ে থাকে। যাতে, জঙ্গলে বসবাসকারী আদিবাসীরা জীবিকার তাগিদে জুমে-জঙ্গলে কাজ করার সময় কোনো জন্তু-জানোয়ার দ্বারা আক্রমণের শিকার না হয়, কাজ করার সময় যেন দুর্ঘটনা না ঘটে, জুমচাষে যেন ভাল ফলন উত্পাদন করা যায়। গ্রামবাসীরা সারা বছর মঙ্গলজনকভাবে বাঁচতে পারে ইত্যাদি এসব কারণে কেরপূজা দেয়া হয়। কেরপূজা যেদিন হবে তার আগের রাত থেকে বেশকিছু নিয়ম-কানুন ও রীতিনীতি পালন করতে হয় সংশ্লিষ্ট পাড়াবাসীকে। পূজার আগের দিনে সন্ধ্যাকাশে তারা উদয় হবার পর থেকে এবং পূজার দিনের সন্ধ্যা তারা দেখা না পাওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট গ্রামে বাইরের কোনো লোক প্রবেশ করতে পারবে না। এমনকি গ্রামের কেউ বাইরে থাকলে সেই ব্যক্তিও প্রবেশ করতে পারবে না। এবং গ্রামের লোকজনও বাইরে বেরোতে পারবে না। যদি কেউ ভুলবশত বা অজান্তে প্রবেশ করে থাকে তাহলেও তাকে জরিমানা হিসেবে পূজার সমস্ত খরচ দিতে হবে। যাতে সেই জরিমানার টাকা দিয়ে পুনরায় পূজা দিতে পারে। আর এই কারণে গ্রামে প্রবেশ দ্বারে নোটিশসমেত বেড়া বা চিহ্নিত করে প্রবেশ দ্বার আটকানো থাকে। সম্ভব হলে প্রতি প্রবেশ দ্বারে লোক পাহারা দিয়ে রাখা হয়। এবং কেরপূজার পূর্বের দিনে সন্ধ্যা হবার আগেই ঘরে যদি জঙ্গলী শাক-সবজি, লতা-পাতা থাকে সেগুলো ঘরের বাইরে অথবা ঘরের চালের উপর রাখতে হয়। সেইদিন জঙ্গলী শাক-সবজিও ভোজন করা নিষেধ থাকে। এভাবেই ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর লোকেরা কেরপূজা সম্পাদন করে থাকে।
আদিবাসী জুমিয়ারা সাধারণত পৌষ, মাঘ ও ফাল্গুন মাসে জুমচাষের জঙ্গল কাটে।ত্রিপুরা জুমিয়ারা জুম জঙ্গল কাটার প্রথম দিন বেশ কিছু রিচ্যুয়াল পালন করে থাকে। প্রথম দিন জঙ্গল কাটা শুরু করতে হয় বিজোড় সংখ্যা শ্রমিক দিয়ে। তিনজন, পাঁচজন, সাতজন এভাবে। এবং প্রথম দিন যতজন দিয়ে শুরু হয়েছে ঠিক সেই সংখ্যার লোক নিয়ে কাটা শেষ করতে হবে। মাঝখানের দিনগুলোতে ইচ্ছামত লোক জুম কাটার কাজ করতে পারে। আর প্রথম দিন ভাতের সাথে তরকারি নিতে হয় ছাইয়ের জল দ্বারা রান্না করা তরকারি এবং দুধ। তাঁদের বিশ্বাস ছাই জলের তরকারির ভাত খেয়ে জঙ্গল কাটা শুরু করলে কাটা জঙ্গল পোড়ানোর সময় সম্পূর্ণ ছাই হয়ে দুধের মত সাদা হবে। এবং শত্রু জীব-জন্তু ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ও পুড়ে ছাই হয়ে যাবে। এক থেকে তিন মাস কাটা জঙ্গল রোদে শুকার পর চৈত্রের শেষদিকে তা আগুনে পোড়ানো হয়।
জুমচাষের কাটা জঙ্গল আগুন দেয়ার সময় কিছু রিচ্যুয়াল দেখা যায়। প্রথমে দুই-তিনজন সারা কাটা জঙ্গলের পাহাড় হেঁটে হেঁটে সেখানকার জীব-জন্তু, পোকামাকড় তাড়াবে। যাতে আগুনে উপকারী কীট-পতঙ্গ, পশু-পাখি মারা না যায়। তারপর নিয়ম অনুযায়ী জুম পোড়া দেয়। আগুন না নেভা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করে আগুন নেভানোর পর পোড়া জুম পাহাড়ে মিশ্র শস্যবীজ ছিটিয়ে দেয়া হয়।
চৈত্রের শেষ দুইদিন ও বৈশাখের প্রথম দিন বৈসু(বিজু, সাংগ্রাই ইত্যাদি) উত্সব করার পর বাংলা নতুন বছরের প্রথম সপ্তাহে পুরোদমে জুমচাষের কাজ শুরু হয়। পুড়ে না যাওয়া উচ্ছিষ্টাংশ ফেলে দিয়ে পরিস্কার করে বীজ বপন করা, নিড়ানী, ধান কাটা, ধান বহন করে বাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া ইত্যাদি কাজগুলো তারা শ্রম বিনিময়ের মাধ্যমে সম্পন্ন করে থাকে। কোনো টাকার বিনিময়ে শ্রম ক্রয় করে নয়। তবে, ইদানিংকালে শ্রম ক্রয় করেও জুম চাষের কাজগুলো করা হচ্ছে।
20. চুলের সমস্যা? চুল পরা থেকে যদি মুক্তি পেতে চান তাহলে তাহলে আপনার জন্য খুব দরকারি যে জিনিসটি সেটি হোল পেঁয়াজ ।
পেঁয়াজ কেটে ভালো করে ব্লেন্ড করে নিন। এবার এর রস বের করে নিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। ৩০ থেকে ৪০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার মাইল্ড শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন।
পেঁয়জের রসের সঙ্গে হালকা গরম জল মিশিয়ে নিন। স্নানের পর এই জল দিয়ে মাথা ভালো করে ধুয়ে নিন। একদিন পর শ্যাম্পু করে ফেলুন। এতে মাথা থেকে পেঁয়াজের গন্ধ আসতে পারে। তবে চুলের জন্য এই পানি বেশ উপকারী।
পেঁয়াজের রসের সঙ্গে নারকেল তেল ও কয়েক ফোটা এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। এক ঘণ্টা পর শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
দুই চা চামচ পেঁয়াজের রসের সঙ্গে এক চা চামচ মধু মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। এবার শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে অন্তত একদিন এই প্যাক মাথায় লাগান।
পেঁয়াজ বেটে এর সঙ্গে অলিভ অয়েল মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগান। দুই ঘণ্টা অপেক্ষা করুন। এবার শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন।
২১. যৌন সম্পর্ক যে কোন মানুষের জীবনকে সুন্দর করার জন্য খুব প্রয়োজনীয়। সারা দিনের স্ট্রেস কাটানোর জন্যও দরকার এটি। কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না যে যৌন সম্পর্কের কারণে নারীর তুলনায় পুরুষের হঠাৎ কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি অনেক বেশি।
তবে যৌন সম্পর্কের কারণে হঠাৎ করেই হৃদযন্ত্র বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা খুব কমই ঘটে থাকে।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় একথা বলা হয়েছে।
এই গবেষণায় ৪,৫৫৭টি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। দেখা গেছে, এর মধ্যে মাত্র ৩৪টি ঘটেছে যৌন সম্পর্ক করার সময় কিম্বা এর এক ঘণ্টার মধ্যে। এবং এদের মধ্যে ৩২জনই পুরুষ।
সিডার্স-সিনাই হার্ট ইন্সটিউটের সুমিত চঘ বলেছেন, যৌন সম্পর্কের সাথে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সম্পর্কের ওপর এই প্রথম এরকম একটি গবেষণা পরিচালিত হলো। অ্যামেরিকান হার্ট এসোসিয়েশনের এক সভায় গবেষণার এই প্রতিবেদনটি তুলে ধরা হয়েছে। চিকিৎসকরা বলছেন, হৃদযন্ত্র যখন ঠিকমতো কাজ করতে পারে না এবং হঠাৎ করে সেখানে হৃদকম্পন বন্ধ হয়ে যায় তখনই কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঘটনা ঘটে।
তারা বলেন, কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের কারণে আক্রান্ত ব্যক্তি অচেতন হয়ে পড়তে পারে এবং তার নিশ্বাস গ্রহণও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এর দ্রুত চিকিৎসা না হলে তার মৃত্যুরও আশঙ্কা রয়েছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, হার্ট অ্যাটাক ও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। হৃদযন্ত্রে যখন রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে যায় তখনই হার্ট অ্যাটাক হয়।
যৌন সম্পর্কের কারণে হার্ট অ্যাটাক হতে পারে এটি আগে জানা থাকলেও কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের সাথে এর সম্পর্কের ব্যাপারে আগে কিছু জানা ছিলো না।
ক্যালিফোর্নিয়ায় ড. চঘ এবং তার সহকর্মীরা ২০০২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত হাসপাতালে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ফাইলগুলো পরীক্ষা করে দেখেছেন। তারা বলছেন, যৌন সম্পর্কের কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ঝুঁকি ১ শতাংশেরও কম।
গবেষকরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তিদের বেশিরভাগই পুরুষ এবং মধ্যবয়সী।
ব্রিটিশ হার্ট ফাউন্ডেশন হার্ট অ্যাটাকের পর যৌন সম্পর্ক শুরু করার ব্যাপারে রোগীদেরকে চার থেকে ছয় সপ্তাহ অপেক্ষা করার জন্যে পরামর্শ দিয়ে থাকে।
২২. কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ব্যাপারে কিছু তথ্য যেটা সকলের জানা দরকার:
হাসপাতালের বাইরে যাদের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তাদের প্রায় ৯০ শতাংশেরই মৃত্যু হয়।
জরুরী ভিত্তিতে সিপিআর চিকিৎসা দেওয়া না হলে আক্রান্ত ব্যক্তির বেঁচে থাকার সম্ভাবনা মাত্র ১০ শতাংশ।
কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের প্রথম পাঁচ মিনিটের মধ্যে সিপিআর চিকিৎসা দেওয়া হলে রোগী বেঁচে থাকার সম্ভাবনা দ্বিগুণ কখনো কখনো তিনগুণও বেড়ে যায়।
২৩. আসলেই কি পেঁপে পাতার রস ডেঙ্গু প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে?
ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেন, পেঁপে পাতার রস যে ডেঙ্গু নিরসনে ভূমিকা রাখে, এই দাবির কোন বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
"ডেঙ্গু নিরসনে পেঁপে পাতার রসের ভূমিকার পরীক্ষা পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় হয়েছে, কিন্তু পুরোপুরি প্রমাণিত হয়নি যে এটি ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে কার্যকর।"
পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু পরীক্ষা হলেও বৈজ্ঞানিক নীতি অনুসরণ করে কোনো ধরণের 'র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল'-এর মাধ্যমে এটি প্রমাণিত হয়নি বলে জানান মি. মুজিবুর রহমান।
"কোন ওষুধের কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে র্যান্ডমাইজড কন্ট্রোলড ট্রায়াল হতে হবে। এছাড়া নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না যে ঐ ওষুধটি কোন একটি নির্দিষ্ট রোগের বিরুদ্ধে কার্যকর।"
মি. রহমান বলেন, বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হওয়ার আগ পর্যন্ত ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে পেঁপে পাতার রসের কার্যকারিতার বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
তবে পৃথিবীর কয়েকটি দেশে ডেঙ্গু রোগীকে পেঁপে পাতার রস খাওয়ানোর উপদেশ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকরা।
২০১৭ সালে ভারতে ৪০০ জন ডেঙ্গু রোগীর ওপর পরিচালিত একটি গবেষণায় উঠে আসে যে পেঁপে পাতার রস খাওয়া রোগীদের রক্তকণিকার পরিমাণ অন্য রোগীদের তুলনায় অপেক্ষাকৃত বেশি বেড়েছে এবং তাদের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও অপেক্ষাকৃত কম।
এছাড়া পেঁপে পাতার রস খাওয়ানো ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে রক্ত নেয়ার প্রয়োজনীতার হারও কম হিসেবে পরিলক্ষিত হয়।
ডেঙ্গুর তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে রাখতে রোগীদের নির্দিষ্ট পরিমাণে পেঁপে পাতার রস খাওয়ার উপদেশ দেয়া হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ওয়েবসাইটে।

COMMENTS